‘ইলিয়াস আলীকে গুম করেছিলেন জিয়াউল আহসান’

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীকে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান অপহরণ করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ইলিয়াস আলীর অপহরণের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের সম্পৃক্ততা প্রমাণ হয়েছে। এদিকে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তারই এক সময়কার এক কর্মকর্তা। জবানবন্দিতে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের বর্ণনা তুলে ধরেছেন তিনি। জবানবন্দির একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল র‍্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে মেজর জিয়াউল, মেজর নওশাদ, সাইফ স্যারসহ মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যাই। কে বা কাকে গাড়িতে তুলবে তা আমি জানতাম না। তবে গাড়িতে বসে জিয়াউল স্যার বিভিন্ন জায়গায় ফোন করছিলেন-টার্গেট কখন আসবেন। একপর্যায়ে জানা যায় টার্গেট আসবেন না। পরে সেখান থেকে জিয়া স্যারকে বাসায় নামিয়ে দেই। পরদিন সকালে আমি ৯ দিনের ছুটিতে বাড়ি যাই। ছুটিতে থাকাকালে ১৮ এপ্রিল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে মহাখালী থেকে অপহরণ করা হয়। এরপর ছুটি শেষে ২৩ এপ্রিল র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের ইনটেলিজেন্স উইংয়ে যোগ দেই। যোগদানের পর কর্মস্থলে থমথমে পরিবেশ লক্ষ্য করি। এছাড়া সাধারণত সকাল ৯টায় রোল-কল হতো। কিন্তু ১৮ এপ্রিলের পর সকাল ৭টায় হয়েছিল। এভাবে বেশ কয়েকদিন সকালে আসতেন জিয়াউল স্যার। একদিন ফোনে কথা বলছিলেন জিয়াউল। এর মধ্যে তার আরেকটি ফোনে কল আসে। তখন জিয়া বলিছিলেন, তুই রাখ। তারিক স্যার ফোন দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ফোনে জিয়াউল ও তারিক স্যারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়। একপর্যায়ে জিয়াউল বলে ওঠেন, আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এরকম করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ। তাহলে পোস্টিং দিয়ে জঙ্গলে পাঠিয়ে দিন। এছাড়া, ইলিয়াস আলীকে গুমের পর র‌্যাব হেডকোয়ার্টারের বেশ কিছু সিসিটিভির ফুটেজ ধ্বংস করে ফেলেন জিয়াউল স্যার।

এদিকে, গতকাল রোববার সকালে এ মামলায় একমাত্র আসামি জিয়াউলকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতেই সাক্ষ্য দেন সাক্ষী।