এবার নতুন দুই চমক নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

‘জে’ গ্রুপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে শেষ মুহূর্তের অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছে আর্জেন্টিনা। তবে পরবর্তী ম্যাচের আগে শুরুর একাদশ নিয়ে এখনও দুটি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেননি লিওনেল স্কালোনি- এমনটাই জানিয়েছে টিওয়াইসি স্পোর্টস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একাদশ থেকে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও আক্রমণভাগে কিছু রদবদল দেখা যেতে পারে। থিয়াগো আলমাদার জায়গায় নিকোলাস গনসালেসকে নামানোর কথা ভাবছেন স্কালোনি। গতি ও সরাসরি আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত গনসালেস প্রতিপক্ষের হাইপ্রেসিং কৌশলে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পারেন বলে এই সিদ্ধান্ত নিতে চায় কোচিং স্টাফ।

আরেকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে। প্রথম ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকা লাউতারো মার্তিনেসের পরিবর্তে সুযোগ পেতে পারেন হুলিয়ান আলভারেস। দলের জন্য স্বস্তির খবর হলো, চোট থেকে প্রায় সেরে উঠেছেন গনসালো মন্তিয়েল। রোববার সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বেঞ্চে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে তার। প্রয়োজন হলে ম্যাচেও নামতে পারেন এই ডিফেন্ডার, এমনটাই দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

রক্ষণ ও মাঝমাঠে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। গোলবারের নিচে থাকবেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রক্ষণভাগে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও ফাকুন্দো মেদিনার জায়গা প্রায় নিশ্চিত। মাঝমাঠে রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেস এবং আলেক্সিস মাক অ্যালিস্তারকে নিয়েই পরিকল্পনা করছেন স্কালোনি।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে না খেলা লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নিকোলাস তালিয়াফিকোও ধীরে ধীরে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠছেন। অনুশীলনে ধারাবাহিক উন্নতি হতে থাকলে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাঁদেরও মাঠে নামাতে পারেন স্কালোনি। আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। সে ম্যাচ জিতলে নকআউট পর্বের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচের দায়িত্বে আলোচিত রেফারি ওমর : বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী সোমবার মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া। হাই ভোল্টেজ এই ম্যাচটি পরিচালনার জন্য মিসরীয় রেফারি আমিন মোহাম্মদ ওমরকে দায়িত্ব দিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ফিফা। নিজ দেশের সেরা এবং কঠোরতার জন্য সুপরিচিত এই রেফারি। দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটে তার।

মোহাম্মদ ওমর ২০১৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ২০১৩ সাল থেকে তিনি মিসরীয় প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ পরিচালনা করছেন। মাঠে ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার দক্ষতার কারণেই তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জায়গা করে নেন। ২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৩ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট হলেও এর আগে বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপে ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতার ঘাটতি অবশ্য তার অভিষেক ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার সেই ম্যাচে একেবারে শেষ মুহূর্তে গিয়ে তিনি একটি মাত্র হলুদ কার্ড দেখান। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলার হান-বম লি থ্রো-ইন করতে দেরি করায় ‘৫ সেকেন্ডের নিয়ম’ প্রয়োগ করে কাউন্টডাউন শুরু করতে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি।

বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে খুব বেশি পরিচিত না হলেও ক্যারিয়ার জুড়ে তার রয়েছে বিশাল অভিজ্ঞতা। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ পর্যন্ত ২৬৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। যেখানে হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন ৯৮০টি এবং লাল কার্ড দেখিয়েছেন প্রায় ২৫টি। এমনকি সৌদি আরবের প্রো লিগ এবং বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া কাপের বাঁচা-মরার ম্যাচগুলো পরিচালনার দায়িত্বও তার ওপর এসেছে। ফলে বিশ্বসেরা তারকাদের ম্যাচ সামলানোর ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

অবশ্য গত বছর একটি বিতর্কিত কাণ্ডেও জড়িয়ে পড়েছিল তার নাম। মিসরের বড় ক্লাব পিরামিডস এফসি তার একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফেডারেশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। ইসমাইলি এসসির বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন প্রতিবাদ করায় পিরামিডস এফসির ক্রোয়েশিয়ান কোচ ক্রুনোস্লাভ জুরচিচকে লাল কার্ড দেখান ওমর। পরবর্তীতে ক্লাবটি অভিযোগ করে যে, ওমর তাদের কোচের ওপর চড়াও হয়েছিলেন। আজ সোমবারের আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচে আমিনের সহকারী (লাইনসম্যান) হিসেবে থাকবেন তার দুই স্বদেশী মাহমুদ আবুএলরেগাল এবং আহমেদ হোসাম তাহা। আর চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পেনের আলেহান্দ্রো হার্নান্দেজ।

আর্জেন্টিনার শক্তির জায়গা কোথায়, জানালেন আইমার : কী নেই আর্জেন্টিনা দলে। মহাতারকা লিওনেল মেসির বাহুতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। পোস্টে আছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেসের মতো বিশ্বস্ত মুখ। লাউতারো মার্তিনেস, হুলিয়ান আলভারেস আক্রমণভাগে। নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর মতো অভিজ্ঞরা আগলে রাখছেন রক্ষণভাগ। রদ্রিগো দে পল, এন্সো ফের্নান্দেসরা বেঁধে দিচ্ছেন মাঝমাঠের সুর। এদের সবার পেছনে থাকা মানুষটি লিওনেল স্কালোনি, যিনি আর্জেন্টিনা নামের ‘অর্কেস্ট্রার’ আসল ‘কন্ডাক্টর’।

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে, আর্জেন্টিনার শক্তির জায়গাগুলো দেখিয়ে দিলেন, দলটির সহকারী কোচ পাবলো আইমার। ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সে দ্যুতি ছড়ানো মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন। স্কালোনির কাজের ধরণ নিয়ে মুগ্ধতা ঝরল তার কণ্ঠে। বললেন, কোচ দলের আবহ তৈরি করেছেন এমনভাবে, যেখানে সবাই নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারে, অনুভব করে প্রশান্তি।

২০১৮ সালে, হোর্হে সাম্পাউলির বিদায়ের পর, স্কালোনি অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব নেন। তখন থেকেই তার সহকারী হিসেবে কাজ করছেন আইমার। এই জুটি অটুট এখনও। সাবেক এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার স্কালোনির ধ্যান-ধারণা, কাজের ধরন, খুব কাছ থেকে দেখছেন দীর্ঘদিন ধরে। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেন আইমার।

‘স্কালোনি দুর্দান্ত একটি দল এবং দুর্দান্ত এক দল খেলোয়াড় তৈরি করেছে, যারা সবাই একই লক্ষ্যে ছুটছে। এটা অর্জন করা খুবই কঠিন। সর্বোপরি, যেটিকে আমি তার বড় গুণ বলে মনে করি, তা হচ্ছে, খেলোয়াড়দের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রশান্তি’র সঞ্চার করা, যেটি করা খুবই কঠিন।’

গুরুত্বপূর্ণ এই কাজটুকু করেই দলকে এক সুঁতোয় গেঁথেছেন স্কালোনি। ২০২২ সালে, ৩৬ বছরের খরা ঘুচিয়ে আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন তৃতীয় বিশ্বকাপ। মাঝে কিছুটা সময় উত্তাল গেলেও, উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে তার হাত ধরে আলবিসেলেস্তারা এসেছে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য পূরণে। যাত্রাও শুরু হয়েছে দুর্বার, আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে।

ডালাসে বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১১টায় গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। জিতলে নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে স্কালোনির দলের। তবে, আইমারের মনে হচ্ছে, ছেড়ে কথা বলবে না অস্ট্রিয়া।

‘অস্ট্রিয়া খুবই কঠিন একটা প্রতিপক্ষ, যেটা আমরা এই বিশ্বকাপে অধিকাংশ দলের ক্ষেত্রেই দেখছি। আলজেরিয়ার চেয়ে ভিন্নভাবে মাঠে নামবে তারা, সম্ভবত তাদের খেলোয়াড়রা আরও বেশি শারীরিক শক্তিনির্ভর; কঠিন একটা ম্যাচ হতে যাচ্ছে।’ আলজেরিয়া ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে কঠিন সব বাধা পার হওয়ার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছেন মেসি। কাতার বিশ্বকাপে দুঃস্বপ্নের মতো শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা, সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরেছিল ২-১ গোলে। সেই স্মৃতি আওড়ে আইমার প্রশংসায় ভাসালেন আলজেরিয়া ম্যাচে আলো ছড়ানো মেসিকে। ‘ভালো শুরুর আনন্দ আছে, যেটা আমাদের বেলায় গত বিশ্বকাপে ঘটেনি। জয়ে শুরু এক ধরণের প্রশান্তি এনে দেয়, যদিও এটা শতভাগ নিশ্চয়তা নয়। সে (মেসি) অসাধারণ এবং সবার সেরা অ্যাথলেট।’