পারমাণু কেন্দ্র পরিদর্শন ও সম্পদ জব্দ নিয়ে বিরোধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

* ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে ইরান আপস করবে না : পেজেশকিয়ান * ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু আলোচনার অংশ ছিল না : শাহবাজ শরীফ * ইসলামাবাদ সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের প্রতীক : ইরানের স্পিকার

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির সবগুলো প্রধান দিক নিয়ে পরস্পরবিরোধী বিবরণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এগুলোর মধ্যে পারমাণবিক পরিদর্শন ও সম্পদ জব্দ নিয়ে পক্ষ দুটির মধ্যে স্পষ্টতই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ‘অনন্ত সংখ্যক’ পারমাণবিক পরিদর্শনে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু তেহরান বলছে, আলোচনায় এমন কোনো ছাড় দেয়নি তারা। এতে তাদের মধ্যে হওয়া নড়বড়ে শান্তি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, জানিয়েছে রয়টার্স। এই দুই দেশ সুইজারল্যান্ডে প্রথম পর্বের আলোচনায় মিলিত হয়েছিল যা সোমবার শেষ হয়। কিন্তু তারা ইরানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননে ইসরায়েলের সমান্তরাল যুদ্ধ নিয়ে তাদের সমঝোতার বিষয়ে পরস্পর বিরোধী বিবরণ দিচ্ছে আর তাতে যুদ্ধ শেষ করতে হওয়া সমঝোতা চুক্তির সবগুলো প্রধান দিক নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তারপরও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা মসৃণভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেইনিয়ায় তিনি এক সমাবেশে বলেছেন, ‘আমরা বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে চলছি।’

সমঝোতা চুক্তিটিতে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তেহরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে জব্দ ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে। এতে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিলের রূপরেখাও দেওয়া হয়েছে। এই রূপরেখায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচীর ওপর কোনো সীমা আরোপ করেনি বরং এই বিষয়টি ৬০ দিনের আলোচানায় সমাধান করার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের অনন্ত সংখ্যক পরিদর্শনের বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। ‘ইরান সুদূর ভবিষ্যতে (অসীম!!!) সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারমাণবিক পরিদর্শনে পুরোপুরি ও সম্পূর্ণভাবে সম্মত হয়েছে,’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন ট্রাম্প।

তাদের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে কোনো আলোচনা হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের ফের তাদের দেশে আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়নি। এই দুই পক্ষ বিদেশের একাউন্টগুলোতে জব্দ থাকা ইরানি তহবিলে দেশটির প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ের বিস্তারিত নিয়েও একমত হতে পারেনি।

ট্রাম্প বলেছেন, যেকোনো অবমুক্ত সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও ওষুধ কিনতে ব্যবহার করা হবে। অপরদিকে জাতিসংঘের জেনিভা দপ্তরে নিয়োজিত ইরানি রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেনি বলেছেন, ওই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে সিদ্ধান্ত নেবে ইরান।

ওয়াশিংটন এরইমধ্যে ৬০ দিনের জন্য ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিতে রাজি হয়ে তেহরানকে তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রির ও সেগুলোর জন প্রদান করা অর্থ গ্রহণ করার অনুমোদন দিয়েছে।

ইরানের বিশ্বকাপ ফুটবল টিমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দলটিকে পরবর্তী খেলার একদিনের বদলে দুদিন আগেই মেক্সিকোর তিহুয়ানা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

লেবাননের ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সমান্তরাল যুদ্ধ আর একটি বিতর্কিত বিষয় হয়ে রয়েছে। বাহরেনি বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলকে লেবানন থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘নিরাপত্তা জোন’ বজায় রাখবে আর ইসরায়েলের সেনা ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে হুমকিগুলো ‘নির্মূল’ করা অব্যাহত রাখবে।

এমনকি মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার পরও এদিন দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই লেবাননি নিহত হয়েছে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স এ হত্যাকাণ্ডের কথা জানানোর পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে যা রোববার থেকে প্রায় সফলভাবে কার্যকর হয়ে আসছিল।

ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে ইরান কোনো আপস করবে না-পেজেশকিয়ান : ইরানের প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি পর্যালোচনার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সহযোগিতার উন্নয়ন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করার ওপর জোর দিয়েছেন। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠকে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইহুদিবাদী (ইসরায়েলি) চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে বলেন: ‘কোনো নিয়ম বা কাঠামোর ভিত্তিতেই তারা ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারত না, তা সত্ত্বেও তারা ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়েছে। এই হামলায় পরম শ্রদ্ধেয় সর্বোচ্চ নেতা ছাড়াও সামরিক কমান্ডার, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ১৬৮ জন নিষ্পাপ শিশুসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ নাগরিক ও বেসামরিক মানুষকে শহীদ করা হয়েছে।’

পেজেশকিয়ান আরও বলেন: ‘যারা এই অপরাধগুলো ঘটিয়েছে, তারা মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে গণতন্ত্রের বুলি আওড়ায়। আজ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এটি বেশি প্রমাণিত হয়েছে যে, এই অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতার প্রধান মূল কারণ হলো ইহুদিবাদী রাষ্ট্র।’

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু আলোচনার অংশ ছিল না-শাহবাজ শরীফ : ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনোই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অংশ ছিল না এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত দুই দেশের সমঝোতা স্মারকেও (MoU) এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বে সফররত ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক এবং পরবর্তী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু কখনোই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনায় উত্থাপিত হয়নি। এটি আলোচনার টেবিলে ছিল না এবং কোনোভাবেই সমঝোতা স্মারকের অংশ ছিল না। এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন নেই এবং কোনো সন্দেহও নেই।

ইসলামাবাদ সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের প্রতীক- বাকু সম্মেলনে ইরানের স্পিকার : ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, ‘ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা কোনো চাপ বা জোরপূর্বক আরোপিত চুক্তি নয়; বরং এটি ইরানি জাতির প্রতিরোধ ও দৃঢ?তার ফল। এই সমঝোতা প্রমাণ করেছে যে, সংলাপ শুধু তখনই ফলপ্রসূ হয় যখন অপর পক্ষ একটি সভ্য জাতির ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতা পরিহার করে এবং আমাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। আর এই কারণেই, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ আমেরিকার পরাজয়ের ঘোষণাপত্রে পরিণত হয়েছে।’ ইরনা’র বরাত দিয়ে পার্স টুডে জানিয়েছে, গতকাল বুধবার আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাভুক্ত (ওআইসি) দেশগুলোর পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ২০তম সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান-ওমানের যৌথ কমিটি : হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ প্রশাসন, জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট সেবা এবং ফি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে ইরান ও ওমান। ইরানি প্রতিনিধিদল, ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারেক এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বোসাইদি-এর মধ্যে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার মাসকাট সফরকালে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির উপস্থিতিতে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত নতুন কমিটি হরমুজ প্রণালিতে ভবিষ্যৎ জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক ট্রাফিক-সংক্রান্ত সেবা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এসব সেবার জন্য ধার্য করা ফি নিয়ে পর্যালোচনা করবে। এছাড়া, এই কৌশলগত জলপথ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে পরামর্শ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছে তেহরান ও মাসকাট। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দুই উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরান ও ওমান আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে এই জলপথে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। এতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত সব ব্যবস্থা অবশ্যই দুই উপকূলীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সার্বভৌম অধিকারকে পুরোপুরি সম্মান করবে।

ওমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (MoU) প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং এর সফল বাস্তবায়নের জন্য ধারাবাহিক সংলাপ ও সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। দুই দেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেছে।

এদিকে, পার্লামেন্ট স্পিকার ঘালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালী আর কখনও যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এর প্রশাসন ইরানের হাতে থাকবে।

গত রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ধারাবাহিক নিবিড় আলোচনার পর সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হয়েছে।

এই চুক্তিতে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজিটাল মাধ্যমে দূরবর্তীভাবে স্বাক্ষর করেন। গত রোববার সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের পক্ষে ঘালিবাফ ও আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকভ এবং জেরিড কুশনার অংশ নেন।

বৈঠকে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক তদারকির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। মধ্যস্থতাকারীদের মতে, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিনের একটি রোডম্যাপে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে এবং শিগগির কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।

ইরান চুক্তি নিয়ে মিত্রদের উদ্বেগ প্রশমনে পশ্চিম এশিয়া সফরে রুবিও : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তি নিয়ে উপসাগরীয় মিত্রদের অসন্তোষ ও উদ্বেগ দূর করতে আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিম এশিয়া সফর শুরু করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। গতকাল বুধবার তার এই কূটনৈতিক সফর শুরু হয়েছে, জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বাক্ষরিত এই চুক্তির অধীনে ইরানকে প্রস্তাবিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে তাদের এক সময়কার আঞ্চলিক ‘শত্রুর’ প্রতি ‘অতিরিক্ত উদারতার’ মতো মনে হচ্ছে।