এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে- বৃহস্পতিবার, যেখানে অংশ নেবে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। দেশজুড়ে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা চলবে। ৯টি সাধারণ ও মাদ্রাসা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ৮ আগস্ট, ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। বিএমটির তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১ অগাস্ট ও ডিপ্লোমা ইন কমার্সের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ২২ জুলাই পর্যন্ত। উচ্চমাধ্যমিকে এ বছর ৯টি সাধারণ বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, যা গত বছরের থেকে ১৪ হাজার ৩১৬ জন বেশি। ৪ হাজার ৮৮৫টি প্রতিষ্ঠানের এসব শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় বসবেন ৯২ হাজার ৯০৫ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছরের থেকে ৬ হাজার ৮০৩ জন বেশি। ২ হাজার ৭০৫টি মাদ্রাসার এসব পরীক্ষার্থী ৪৬১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ভোকেশনাল, ডিপ্লোমা ইন কমার্স, বিএমটি পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন, যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৬৪৭ জন কম। ১ হাজার ৮৪৯ প্রতিষ্ঠানের এসব পরীক্ষার্থী ৬১০ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবেন। এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সবগুলো শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নে হবে। ৫ থেকে ৬ ফুট লম্বা বেঞ্চে দুইজন এবং চার ফুট লম্বা বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থীর আসনের ব্যবস্থা করা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রতি কক্ষে কমপক্ষে দুইজন কক্ষ পরিদর্শক ও প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘তিন ফুট দূরত্বে আসনের ব্যবস্থা করা, ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন পরিদর্শক এবং প্রতি কক্ষে দুইজন পরিদর্শকের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রতি বছরই দেওয়া। ‘সেই ধারাবাহিকতায় এবারো কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রিমাইন্ডার দেওয়া হয়েছে।’ শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া নির্দেশনায় পরীক্ষার দিন সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের ভেতর প্রবেশের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। এরপর কোনো শিক্ষার্থী আসলে তার রোল নম্বরসহ অন্যন্য তথ্য লিপিবদ্ধ করে তাকে কেন্দ্রে ঢোকার অনুমতি দিতে বলা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা অন্য কেউ যাতে জটলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের আশপাশে ২০০ গজের মধ্যে জনসাধারণের চলাচল নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। এবার প্রথমবারের মতো এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ক্যামেরার মডেল, ডিভাইস সিরিয়াল নম্বর, পাসওয়ার্ড এবং আইডি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে কেন্দ্রগুলোকে। শিক্ষা বোর্ডগুলো বলছে, পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী এবং পর্যবেক্ষক ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে অন্য কোনো ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না। পরীক্ষা শুরুর পরপরই কেন্দ্রের টয়লেটগুলো কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তল্লাশি করাতে হবে এবং নকলের সামগ্রী পেলে ফেলে দিতে হবে।

পরীক্ষার পুরো সময়জুড়ে কেন্দ্র কলেজগুলোতে ক্লাস বন্ধ রাখার রেওয়াজ থাকলেও গত বছরের মতো এবারও প্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষার ‘ফাঁকে ফাঁকে’ ক্লাস চালাতে পারবে।

এইচএসসির কেন্দ্রে পুলিশের গায়ে থাকবে ক্যামেরা-শিক্ষামন্ত্রী : এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষা এবং বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। সারাদেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার থেকে। দেশের ৯টি সাধারণ ধারার শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে এইচএসসির বিভিন্ন তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেখানে অংশ নেবে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা নিয়ে গতকাল বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি তারা যে নিরাপত্তার জন্য যারা থাকছেন তাদের কাছে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণ থাকে সেই জন্য আমরা এটা নতুন আমরা ইনক্লুড করেছি।

‘লাস্ট এক্সাম সম্পর্কে কিছু সোশ্যাল মিডিয়া বিভ্রান্তিকর নিউজ দিয়েছে, এবার সেই ব্যাপারে সাইবার আইন হয়েছে। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর নিউজ যদি কেউ ছড়ায় সঙ্গে সঙ্গে তাদের আইনের কাছে সোপর্দ করতে হবে এবং সেটাকে বিশ্লেষণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কঠিনভাবে নেওয়া হবে; যেন সোশ্যাল মিডিয়াকে মিসইউজ করে পরীক্ষাকে যেন আর বিভ্রান্ত না করতে পারে।’

খাতা পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ সংশোধন ও যুগোপযোগী করে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

‘এ আইনের অধীনে ফল খারাপ করা শিক্ষার্থীরা শুধু খাতা পুনর্নিরীক্ষণ নয়, খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাওয়া যাবে।’ পরীক্ষায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলে কেউ পার পাবে না বলেও সতর্ক করেছেন মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এবার আমাদের পরীক্ষায় যে নতুনত্ব এসছে সেটি হলো ৯টি বোর্ডের একক প্রশ্ন যেটা অতীতে ছিল না, বাকি দুইটি বোর্ড রয়েছে মাদ্রাসা এবং টেকনিক্যাল বোর্ড আমরা নেক্সট পরীক্ষা থেকে কমন সাবজেক্টগুলো সব একক প্রশ্ন হবে। সেটা নেক্সট।’

পাবলিক পরীক্ষা আইন পুরোপুরি পরিবর্তন করে হয়েছে বলে তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘এটাকে আমরা পুরোপুরি পরিবর্তন এনেছি সেখানে পানিশমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে।’ ‘আগে যদি কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হতো তারা শুধু ট্যাবলেশনশিট চেক করতে পারতেন এর বাইরে কিছুই নয়। এবার পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।’ তিনি বলেন, ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে এটা এবার হবে না।’ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে মন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে যেই অবস্থা হবে সেই অবস্থার প্রেক্ষিতে তারা (স্থানীয় প্রশাসন) তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে সিদ্ধান্ত দেবে। যেন পরীক্ষা সুষ্ঠু হয়, সে ব্যবস্থাটি লোকাল প্রশাসন করবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে লোকাল প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে যে কি করা যায়। ‘তবে স্থগিতের ব্যাপারে আমরা উৎসাহিত করছি না। আমাদের এই ধরনের পরিস্থিতি গত এসএসসি পরীক্ষা হয়েছিল এবং সেটাকে মোকাবিলা করেছিল লোকাল প্রশাসন। একটি স্কুল হঠাৎ করে বানে ভেসে গেল তারা অন্য জায়গায় স্থানান্তর করেছে। সেগুলো করেছে তারা স্থানীয়ভাবে এবং এবারও ইনশাআল্লাহ স্থানীয়ভাবে এগুলো করা হবে, আশা করি।’ যেকোনো দুর্যোগ পূর্ণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রতিটি বিষয়ে তিন সেট করে প্রশ্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বিস্তরণ শুরুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন আ ন ম এহছানুল হক।