লক্ষাধিক শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ আদালত যুগান্তকারী রায় দিয়েছে। ৩২ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সব আইনি বাধা কেটে গেছে। ফলে, সরকার দ্রুত শূন্যপদ পূরণে ও ৩৮ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এক লাখের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৩২ হাজার ৫০০ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-প্রভাষক পদে ৭০ হাজার জন নিয়োগ পাবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র?্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র?্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজক ইউনেস্কো।

তিনি বলেন, ‘আজ সকালে আমার কাছে আরও একটি সুসংবাদ রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষকের নিয়োগের বিষয়ে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেছে। বিভাগটি আমাদের আপিল গ্রহণ করেছে এবং আমরা এখন ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করতে পারব। যার সঙ্গে আরও প্রায় ৭০ হাজার জন (এমপিওভুক্ত শিক্ষক-প্রভাষক) অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় খবর।’

এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য থাকা প্রায় ৭৮ হাজার পদে নতুন পদ্ধতিতে সরাসরি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক, প্রভাষক ও ট্রেড ইন্সট্রাকটর পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ-এনটিআরসিএ।

এতদিন নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কাছ থেকে শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন নিয়ে তাদের নিয়োগ সুপারিশ করা হলেও নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থীদের সরাসরি শূন্যপদে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে। আগে মন্ত্রীদের পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্রে পরিদর্শনে ঢুকে পরীক্ষার্থীদের বিরক্তির কারণ হতে দেখা গেলেও সে ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজ সকালে আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমাদের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করার কথা ছিল, কিন্তু সম্ভবত আমাদের সহকর্মীরা মনে করেন যে আমাদের সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সেই কারণেই সবাই এই কক্ষে বসে আছি, কিন্তু আগে এমনটা হত না। অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে।’ ৫ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হলেও পরীক্ষা দিচ্ছে না বলে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সাধারণ ধারার প্রায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। তারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। আমাদের কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। যখন আমরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছি, তখন এটি আমাদের জন্য ভালো খবর নয়।’

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া টাকার অপচয় ‘সহ্য করা হবে না’। ২০০১ সালে আমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং এই সব প্রকল্প সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা ছিল। পূর্ববর্তী সরকার প্রচুর ঋণ এবং অনুদান নিয়েছিল; কিন্তু তা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়নি। ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যে, আমাদের বিভাগে কোনো অপচয় বা অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না। তাই আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে, যা আমাদের সচিব জনাব খালেক বারবার বলছেন যে, শিক্ষা খাতে এই অর্থ আমরা কীভাবে বিনিয়োগ করব সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে ব্যয়ের মাধ্যমে আমাদের খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

দেশে মানসম্মত শিক্ষা ‘সত্যিই প্রয়োজন’ মন্তব্য করে মিলন বলেন, ‘সম্ভবত আমরা মানসম্মত শিক্ষায় পিছিয়ে পড়েছি। আমি বিশ্বাস করি সরকারের একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করা উচিত। প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই শিক্ষা পরিচালিত হবে। কিন্তু আমরা এখানে সহায়ক হিসেবে কাজ করছি, যেন তারা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এই বছর আমাদের জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করেছেন এবং এটি একটি বড় অঙ্কের অর্থ। এছাড়া তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে এটি জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করবেন। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের যোগ্যতা এবং প্রশিক্ষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি আমরা এই অর্থ সঠিকভাবে বিনিয়োগ করব।’

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ২০ বছর পর মন্ত্রীর দায়িত্বে মন্ত্রণালয়ে ফিরে তার মনে হচ্ছে, তিনি পেছনের আয়না দেখে ‘রিভার্স গিয়ারে’ গাড়ি চালাচ্ছেন। ‘২০০১-২০০৬ সালের সময়কালে আমরা যেখানে শিক্ষাব্যবস্থাকে রেখে গিয়েছিলাম, আমি এই মন্ত্রণালয়ে ফিরে এসে নিজেকে তার চেয়ে অনেক পেছনে আবিষ্কার করেছি। মন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকালে বলছিলাম যে, আপিল বিভাগ যে মামলাটি নিষ্পত্তি করেছে তা ২০১৭ সালে দায়ের করা হয়েছিল। এই মামলার সমাধানের জন্য আমাদের অনেক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমি জানি না, কেন সরকার এই মামলাগুলো সমাধানের ব্যাপারে সিরিয়াস ছিল না।’ অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বাধা কাটল

জাতীয়করণ করা প্রাথমিক শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ ও পদোন্নতি নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে। এর ফলে দেশের সাড়ে ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেয়। বেঞ্চের অপর বিচারকরা হলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। পদোন্নতি ও জ্যেষ্ঠতা নিয়ে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব থেকে এ মামলার সূত্রপাত।

২০১৩ সালের এক বিধিমালায় বলা হয়েছিল, সদ্য জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের অবস্থান হবে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তির নিচে। একদল শিক্ষকের রিট আবেদনে বিধিমালার ওই ধারা অবৈধ ঘোষণা করেছিল হাই কোর্ট। ফলে সাড়ে ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে যায়। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল গ্রহণ করে হাই কোর্টের ওই রায় বালিত করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। তার ফলে ২০১৩ সালের বিধিমালার ওই ধারা বহাল থাকছে। অর্থাৎ, জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের অবস্থান সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তির নিচেই হবে।

আপিল বিভাগের রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে আইনি জটিলতা ছিল, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে সেই জটিলতা দূরীভূত হল।’ তিনি বলেন, ‘সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে আজকের এই রায়টি একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এই কারণে যে, শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এবং পাঠদানের ক্ষেত্রে একটা শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।’

কেন এই মামলা : সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ মামলার শুনানি শেষ হয় গত ১৮ জুন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং সরকারের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনতাসির আহমেদ। শিক্ষকদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী রমজান আলী শিকদার। রমজান আলী শিকদার মামলার সার্বিক দিক, আইনি প্রেক্ষাপট এবং শুনানির বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করেন। তিনি সেদিন বলেন, বাংলাদেশে এক সময় প্রচুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল, যেগুলো এনজিও বা নিজস্ব প্রাইভেট ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হত। সেখানে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা কড়াকড়ি ছিল না। পরে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ১৯৭৪ সালের ‘টেকিং ওভার’ আইনের অধীনে এই স্কুলগুলোকে অধিগ্রহণ বা জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেয়।

জাতীয়করণের পর শিক্ষকদের চাকরি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা ঠিক করে দিয়ে ২০১৩ সালে একটি সার্ভিস রুলস বা বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই বিধিমালা চূড়ান্ত করতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামতের প্রয়োজন ছিল। পিএসসির ইতিবাচক মতামতের পর ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে এটি চূড়ান্ত করা হয় এবং শিক্ষকদের নিয়োগ ১ জানুয়ারি ২০১৩ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর করা হয়।

জাতীয়করণ বা অধিগ্রহণের সময় এই শিক্ষকদের বেশ কিছু বড় ছাড় ও সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। প্রথমত, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সাধারণ বয়সসীমা (৩০ বা ৩২ বছর) তাদের জন্য শিথিল করা হয়। দ্বিতীয়ত, যাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা ছিল না, তাদের যোগ্যতা অর্জনের জন্য তিন বছর সময় দেওয়া হয়।

পাশাপাশি তারা বেসরকারি খাতে যে কয় বছর চাকরি করেছিলেন, তার ৫০ শতাংশ সময় সিনিয়রিটি এবং ভবিষ্যৎ অবসরকালীন পেনশন সুবিধার ক্ষেত্রে গণনার সুযোগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ, কেউ যদি বেসরকারি স্কুলে ১০ বছর শিক্ষকতা করে থাকেন, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে তার ৫ বছর গণনা করার বিধান রাখা হয়। কিন্তু এরপর পদোন্নতি ও জ্যেষ্ঠতা নিয়ে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। ‘অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৩’ এর ৯(১) ধারায় বলা ছিল, সদ্য জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের অবস্থান সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তির নিচে নির্ধারিত হবে।

কিন্তু অধিগ্রহণকৃত শিক্ষকরা এটি মানতে চাননি। পূর্ববর্তী বেসরকারি চাকরির বিষয়টি তুলে ধরে তারা সরাসরি সরকারি নিয়োগপ্রাপ্তদের উপরে অবস্থান বা জ্যেষ্ঠতা দাবি করেন। সেই দাবিতে বিধিমালার ৯(১) ধারা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ৩৮৩ জন শিক্ষক। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৯ সালের ১১ মার্চ শিক্ষকদের পক্ষে রায় দেয় এবং বিধিমালার ৯(১) ধারার ওই নির্দিষ্ট অংশটিকে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করে।

এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করে। ২০২২ সালের গত ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত করে এবং জ্যেষ্ঠতা ও বর্তমান পদের অবস্থানের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেয়। চার বছর পর চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল বিভাগ যে রায় দিল, তাতে বিধিমালার ৯(১) ধারা বহাল থাকল। এই রায়ের ফলে জ্যেষ্ঠতা নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনালে বলেন, ‘দেখুন, আসলে তো এটি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়। আর আদালত তো সবসময় রায় প্রকাশ করে নির্মোহভাবে। সুতরাং, আদালতের রায় মেনে নেওয়া রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি নাগরিকের দায়িত্ব।’