খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে স্পিকার

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে দেশটির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। জানাজায় অংশ নেওয়ার পর আগামী ৪ জুলাই স্পিকারের দেশে ফেরার কথা।

ইরানের রাষ্ট্রায়াত্ত সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে লিখেছে, খামেনির স্মরণে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ইরানজুড়ে ও ইরাকে ছয় দিনের জানাজা ও শোক অনুষ্ঠানের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ৪ ও ৫ জুলাই ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় বিদায় অনুষ্ঠান হবে, এর মধ্যে প্রথম দিন জানাজা কর্মসূচি রয়েছে। ৬ জুলাই তেহরানে প্রধান শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে, এ সময় খামেনির লাশের পাশাপাশি তার জামাতা, কন্যা, পুত্রবধু (বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার স্ত্রী) ও নাতনির লাশ বহন করা হবে। পরদিন কোম শহরে অনুষ্ঠিত হবে জানাজা সমাবেশ। এরপর ৮ জুলাই খামেনির লাশ নেওয়া হবে ইরাকে, সেখানকার নাজাফ ও কারবালা শহরে শোকযাত্রা ও জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ইরানের মাশহাদে হযরত ইমাম রেজা (আ.) এর মাজারে খামেনির লাশ দাফন করা হবে। মার্চে এ শেষকৃত্যের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলতে থাকায় তা স্থগিত করা হয়। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শাসক গোষ্ঠীর পতন ঘটানোর ঘোষণা দিয়ে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে বিমান হামলা শুরু করে। হামলার প্রথম দিনই নিজ বাসভবনে নিহত হন ৮৬ বছর বয়সি আলী খামেনি। ইরানি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালের শেষ দিক থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আলী খামেনি। ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবে রেজা শাহ পাহলভির পতনের পেছনে আদর্শিক নেতা ছিলেন রুহুল্লাহ খোমেনি। আর ওই বিপ্লবে সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীকে সংগঠিত করার পেছনে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন আলি খামেনি।

ইরানের ক্ষমতাকেন্দ্রে ৪৭ বছরের সময়ে তিনি দেশটির সামরিক ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি তেহরানের নিজস্ব শাসন কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮১ সাল থেকে দুই মেয়াদে ইরান প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের মধ্যে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব আসেন আলি খামেনি এবং হয়ে ওঠেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মুখ। যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মুজতাবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে বেছে নিয়েছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছিলেন। হামলায় গুরুতর আহত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির আলোচনায় মুজতাবা খামেনি সক্রিয় ভূমিকা রাখার কথা উঠে এসেছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কথায়।