‘দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রয়োজনে সবাই বিজিবি হব’

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। দেশের সীমান্ত রক্ষায় বিজিবির পাশাপাশি দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সাথে নিয়ে সবাই ‘বিজিবি’ হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, “এই জায়গায় আমাদের বিজিবির পাশাপাশি আমরা সবাই বিজিবি হয়ে ওখানে দাঁড়িয়ে যাব। বিজিবির হাতে অস্ত্র থাকবে, আর আমাদের বুকে থাকবে দেশপ্রেমের অস্ত্র এবং বহু জায়গায় মানুষ দাঁড়িয়ে গেছে বলেই ওরা কিছু করতে পারে নাই।” গতকাল শুক্রবার সকালে নেত্রকোণা জেলা সার্কিট হাউজে জেলা জামায়াতের আমির ছাদেক আহমাদ হারিছের সভাপতিত্বে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সংসদে সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনার ওপর জোর দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, “সীমান্তে কিছু সমস্যা, আপনারা এই ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, আপনারা দেখেছেন। আমরা একটা নোটিশ জমা দিয়েছিলাম, সীমান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য। সরকার এখনও নোটিশটা আমাদেরকে আলোচনা করতে দিচ্ছে না।

“আমি চাইছিলাম যে নোটিশটা সুন্দরভাবে আসুক, দেশ তো সবার, প্রবলেমও সবার। আমরা প্রবলেমটা ডিসকাস করি, শেয়ার করি, সমাধান বের করি। সংসদ থেকে ঐক্যবদ্ধ একটা আওয়াজ উঠে সারা দুনিয়ায় এটা চলে যাবে। মেসেজ যাবে বহু জায়গায় যে, এই জাতি ইউনাইটেড।”

দেশের মানুষের জন্য সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার কথা তুলে ধরে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “এখন আছে ৩৪৮ জন। এই ৩৪৮ জন মানেই তো ১৮ কোটি মানুষ, মানুষের বাংলাদেশ। এই আওয়াজটা যাওয়ার দরকার ছিল।”

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি প্রাইমারিলি আপনাদেরকে এতটুকু বলব যে দেশ আমাদের যেহেতু সবার, এক ইঞ্চি জায়গা কেন-একটা বালুর উপরে কাউকে পা রাখতে দেব না।’

প্রতিবেশী দেশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটা দুঃখজনক, তারা বলে যে তারা আমাদের বন্ধু দেশ। বন্ধু দেশ কি মানুষকে এরকম মানে ক্ষত করবে? ক্ষতিগ্রস্ত করবে?

“বন্ধুত্বের পরিচয় এভাবে হয় না। বন্ধুত্বের পরিচয় দেওয়ার জন্য আমরা সংসদের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাব। কিন্তু কেউ যদি না দেয়, তাহলে কি আমি গালে হাত দিয়ে বসে থাকব? এই দেশ আমার দেশ। আমাকে আমার দেশ রক্ষা করতে হবে।”

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘অনেক ব্যাপারে কম্প্রোমাইজ হতে পারে, এই দুইটা ব্যাপারে কোনো কম্প্রোমাইজ নাই।’ মতবিনিময় সভা শেষে জেলা পাবলিক হলে জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।