দিল্লিতে আ.লীগের দাফন হয়েছে তারা রাজনীতি করতে পারবে না
বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন হয়েছে, নিপাত হয়েছে, নির্মূল হয়েছে-দাফন হয়ে গেছে দিল্লিতে। তারা আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেছি আমরা, আপনারা দাবি করেছেন। বর্তমানে এ সংক্রান্ত তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই দলকে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ সংশোধন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং আইসিটি অ্যাক্টের আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের বিচার করার আইনি সুযোগ রয়েছে। আন্দোলনের পর্দার আড়ালের কিছু বিষয় তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ও আমার নেতা জনাব তারেক রহমান, দুজনেই নির্বাসিত ছিলাম। আল্লাহর কী মহিমা, যদি আমরা নির্বাসিত না থাকতাম, হয়তো এই জুলাইয়ের মতো একটা অভ্যুত্থান সফলভাবে সমাপ্ত করা সম্ভব হতো না। এটাই হচ্ছে পর্দার অন্তরালের কথা।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনোদিন আমরা ঘুমাইনি, ২৪ ঘণ্টা কো-অর্ডিনেশন [স্বমন্বয়] করে আমাদের নেতা-কর্মীদেরকে বিভিন্নভাবে আমরা অর্গানাইজ [সংগঠিত] করে এই জুলাই যোদ্ধাদের সম্মুখে রেখে অরাজনৈতিক পরিচয়ে এই আন্দোলনের একটা পর্যায় পর্যন্ত আমরা নিয়ে এসেছি। ৩ তারিখ ৪ তারিখ আমরা যখন নৈতিক সমর্থন প্রদান করি, তারপরের থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটা আন্দোলন ছিল, সেখানে সমর্থন দিয়ে তারপরের থেকে। যেদিন আমরা ১৬ জুলাই পর্যন্ত পৌঁছালাম, সেদিন আমার নেতা বলেছেন, ‘দফা এক, দাবি এক- স্বৈরাচারের পদত্যাগ। অন্য কোনোভাবে সমস্যার সমাধান হবে না।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আজকে যারা জুলাই যোদ্ধাদের নেতৃত্ব দাবি করেন, তাদের অনেকেই সেদিন বলেছিল, ‘আমাদের কোনো রাজনৈতিক দাবি নাই। আমাদের দাবি বৈষম্যহীন, এই ছাত্র আন্দোলনের দাবি কোটা বৈষম্য দূর করতে হবে, সেটাই ছিল তাদের বক্তব্য।’ আমরা জানি স্বৈরাচারকে গদিতে রেখে বৈষম্যহীনতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তাদেরকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, কিন্তু তাদের সেই সাহস ছিল না। আমরা রাজনৈতিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে শত সহস্র শহিদের রক্তের এই স্রোতের মধ্য দিয়ে আমরা এই জায়গায় এসেছি আজকে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের মধ্যে সাড়ে চার শতাধিকই ছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এত বড় গণহত্যার পরও হত্যাকারী শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। তারা জুলাই যোদ্ধাদেরকে অপরাধী হিসেবে তকমা দিচ্ছে। উল্টো তারা প্রবাসে বসে এই আন্দোলনকে ‘জঙ্গি তকমা’ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
স্মরণসভায় তিনি জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতির খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, এরইমধ্যে ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হয়েছে। এছাড়া ২৭টি মামলা বিচারাধীন এবং আরও ৭২টি মামলা তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুইজনের ফাঁসি হয়েছে। এছাড়া শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশ কর্মকর্তা হাবিব ও সুদীপ রায়ের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। তৎকালীন আইজিপি মামুন এবং আশুলিয়া ও রামপুরার হত্যা মামলার আসামিদেরও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা হলেও তার সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য বাদীপক্ষ আপিল করবে বলে তিনি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে যেন আমরা কেউ ব্যবসা না করি। যারা জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক সংগঠন করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য চেতনা বিক্রি করছে, তাদের পরিণতি কিন্তু ভবিষ্যতে দেখা যাবে। ইতিহাস কিন্তু তাই। যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করত, তারা চেতনা বিক্রি করতে করতে আজকে দিল্লি যেয়ে বসে আছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে উৎখাত করেছে।’ তিনি বলেন, ‘সুতরাং চেতনা বিক্রির ব্যবসা ভালো নয়। রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার উদ্দেশ্য ভালো না। আমরা এই মহান ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে ধারণ করব, স্মৃতিকে ধারণ করব, অনাগত কালে ভবিষ্যতে আমাদের প্রজন্মরা যেন দেখে স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদীদের পতন কীভাবে হয়েছিল, ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী আচরণ যেন ভবিষ্যতের কোনো সরকার না করে।’
