পুরান ঢাকাকে নতুন করতে সরকারের মহাপরিকল্পনা

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

পুরান ঢাকা-যার অলিতে-গলিতে লুকিয়ে আছে চারশত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অপরিকল্পিত নগরায়ন, ঘনবসতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী এলাকাটি তার চিরচেনা রূপ হারাতে বসেছে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্য রক্ষা করে একে একটি আধুনিক ও দুর্যোগ-সহনশীল মডেল টাউনে রূপান্তর করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং সরকার একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সেখানে জরাজীর্ণ ও পুরনো ভবনগুলোর পরিবর্তে আধুনিক আবাসন নির্মাণ এবং উন্মুক্ত স্থানের ব্যাপক সম্প্রসারণের মাধ্যমে-কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যেতে পারে রাজধানীর ঐতিহাসিক প্রাণকেন্দ্র পুরান ঢাকা। শত শত কোটি টাকার এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো- পুরান ঢাকার নিজস্ব ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করেই- সেখানকার দীর্ঘস্থায়ী অতিরিক্ত জনঘনত্ব, দুর্বল অবকাঠামো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা করা।

প্রস্তাবিত ওল্ড ঢাকা রিভাইটালাইজেশন (পুরান ঢাকার পুনরুজ্জীবন) শীর্ষক এই উদ্যোগটি আনুমানিক ৬,৫০০ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হবে। যার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৪ থেকে ৬১ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৬২ নম্বর ওয়ার্ড আংশিক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই মহাপরিকল্পনার অধীনে, স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো একটি সামাজিক আবাসন মডেলের (সোশ্যাল হাউজিং মডেল) মাধ্যমে নতুন করে গড়ে তোলা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রকল্পের মোট ভূমির ৬০ শতাংশই উন্মুক্ত স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। যার মধ্যে থাকবে প্রশস্ত রাস্তা, পর্যাপ্ত গ্রিন স্পেস, কমিউনিটিং পার্কিং, ওয়াটার বডি, আর্ট মিউজিয়াম ও ঐতিহ্যবাহী খাবার কর্নার।

নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা নীতিগতভাবে এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এর চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করছে কর্তৃপক্ষ অতীতের ব্যর্থ চেষ্টার পেছনে থাকা- গভীরভাবে প্রোথিত আইনি ও লজিস্টিক বাধাগুলো কতটা কাটিয়ে উঠতে পারবে, তার ওপর। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সূত্রে জানা গেছে, এই পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক কাজ ও সমীক্ষার জন্য ৩৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, মূল অবকাঠামোগত বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ৫ হাজার ২২১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এরই মধ্যে ‘ইন্টিগ্রেটেড প্রজেক্ট ফর রিভাইটালাইজেশন অব ওল্ড ঢাকা’ শীর্ষক একটি প্রাথমিক প্রকল্প (পিডিপিপি) নীতিগত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের নীতিগত অনুমোদন পেলে, বৈদেশিক ঋণ নিশ্চিত করতে প্রকল্প প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে পাঠানো হবে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত হলে ৩ বছরে মধ্যে সমীক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। মূলত পুরানো ঢাকার ইসলামবাগের একটি ৩৪ একর এলাকার ওপর রাজউকের করা পূর্ববর্তী একটি জরিপের ওপর ভিত্তি করেই নতুন এই উদ্যোগের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, সেখানকার প্রায় ৪৮ শতাংশ ভবনই একতলা এবং অধিকাংশ ভবনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। রাজউকের ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) অনুযায়ী, এলাকাটি পুনঃউন্নয়ন করা হলে বর্তমানের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি ব্যবহারযোগ্য জায়গা পাওয়া সম্ভব হবে।

নতুন রূপ, তবে পুরোনো আমেজ অক্ষুণ্ণ রেখে : পুরান ঢাকা রাজধানীর ঐতিহাসিক কেন্দ্র হিসেবে এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক অঞ্চল। রাজধানীর উত্তরাঞ্চল যখন কাচঘেরা সুউচ্চ ভবন ও আধুনিক উড়ালসড়ক দিয়ে ক্রমশ প্রসারিত হচ্ছে, ঠিক তখনই বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী শত বছরের পুরনো এই জনপদগুলো- তাদের সমৃদ্ধ মুঘল ও ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যকে সগর্বে ধরে রেখেছে। গোলকধাঁধার মতো ছড়ানো এর জরাজীর্ণ ও সরু গলিপথ, রোদণ্ডবৃষ্টিতে ক্ষয়ে যাওয়া প্রাচীন ভবন, কোলাহলমুখর সব পাইকারি বাজার, ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক খাবার ও বাসিন্দাদের পারস্পরিক গভীর সামাজিক মেলবন্ধন এখনও শহরের এমন একটি অংশের প্রতিচ্ছবি- যেখানে ইতিহাস ও দৈনন্দিন জীবন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

দীর্ঘকাল ধরে তীব্র যানজট, অতিরিক্ত জনঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পুরোনো ভবন এবং সংকীর্ণ সড়ক ব্যবস্থার সমার্থক হিসেবে পরিচিত হলেও এবং অনেক ক্ষেত্রে তা যথার্থই-পুরান ঢাকা একই সঙ্গে এমন সব ঐতিহ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থাপত্যশৈলীকে লালন করছে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে টিকে রয়েছে। বংশাল, চকবাজার, ইসলামপুর, ইসলামবাগ, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, সূত্রাপুর, ওয়ারী, লালবাগ, কোতোয়ালি, নারিন্দা, গেন্ডারিয়া আর বাবুবাজারের একাংশ সাধারণত পুরান ঢাকার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এখানকার সীমানা কোনো প্রশাসনিক বিভাজনের চেয়ে-ইতিহাস ও নাগরিক বৈশিষ্ট্যের আলোকেই বেশি নির্ধারিত হয়েছে। রাজউকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূল প্রস্তাবে সমীক্ষা ও বিনিয়োগ প্রকল্প—উভয়কেই একটি একক স্কিমের অধীনে রাখা হয়েছিল। তবে গত ১১ মে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বিনিয়োগের মূল ধাপে যাওয়ার আগে প্রথম দফায় সমীক্ষার কাজটি শেষ করা হবে।

নাম প্রকাশ না শর্তে রাজউকের এক কর্মকর্তা ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (পিডিপিপি) পুনর্গঠন করে শুরুতে সমীক্ষার ওপর জোর দিলে বৈদেশিক অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় সভা আয়োজন করে মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করা এবং বাসিন্দাদের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের এই পাইলট প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাসিন্দাদের সমর্থন ও অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ : প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের প্রত্যক্ষ সমর্থন, সহযোগিতা ছাড়া এই পুনঃউন্নয়ন প্রক্রিয়া কোনোভাবেই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বাড়ির মালিকরা যদি ভূমি না দেয়, তাহলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাবে না। কারণ এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হলে তাদের জমি একটি সাধারণ পুলে দিতে সম্মত হতে হবে। এ কারণে সমীক্ষা চলাকালে, পুরান ঢাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের থেকে যথেষ্ট সম্মতি মিললেই কেবল বিনিয়োগ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রাজউকের কর্মকর্তারা জানান, মূল পুনঃউন্নয়ন বা বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য বড় ধরনের বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজন হবে। সম্ভাব্য উন্নয়ন সহযোগীদের তালিকায় রয়েছে বিশ্বব্যাংক, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। কোরিয়ান ও চীনা কোম্পানিগুলোও রাজউকের সঙ্গে যৌথভাবে এই ধরনের নগর উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান তাঁরা।

দশকের পর দশক ধরে চলা নাগরিক সংকট : প্রকল্পের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, পুরানো ঢাকার তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো প্রশমিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা ও বেসলাইন জরিপ পরিচালনা করা হবে। পুরান ঢাকার অধিকাংশ ভবনই কয়েক দশক আগে নির্মিত, যেখানে আধুনিক নির্মাণ মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। ফলে এগুলো ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মতো বিভিন্ন দুর্যোগের ক্ষেত্রে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে এলাকাটি এখনও গুরুত্বপূর্ণ হলেও ঘনবসতি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সহাবস্থান- যানজট ও চলাচলের অদক্ষতা সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে একাধিক সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এছাড়া ড্রেনেজ, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা অত্যন্ত পুরনো ও চাপগ্রস্ত; যার ফলে জলাবদ্ধতা, স্যানিটেশন সমস্যা এবং জনস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।

অতীতের উদ্যোগ থেকে শিক্ষা : প্রকল্পের বিশাল পরিধির পক্ষে যুক্তি দিয়ে রাজউকের কর্মকর্তারা দাবি করেন, অতীতের উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ ছিল সেগুলো ছিল বড্ড বেশি বিচ্ছিন্ন ও সীমিত। তাই ঢালাওভাবে সব ভেঙে ফেলার পরিবর্তে, তারা এবার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পর্যায়ভিত্তিক পদ্ধতির (ফেজড অ্যাপ্রোচ) পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন—যেখানে বাছাইকৃত পুনঃউন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কঠোরভাবে ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক সমন্বিত প্রয়াস থাকবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মো. মুসলেহ উদ্দিন হাসানও মনে করেন যে, পর্যায়ভিত্তিক বাস্তবায়ন এখানে অত্যন্ত জরুরি। তবে তিনি একই সাথে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। অধ্যাপক হাসান বলেন, ‘এর আগেও এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এখন মূল প্রশ্ন হলো, যে চ্যালেঞ্জ বা সমস্যাগুলোর কারণে প্রথম উদ্যোগটি সফল হতে পারেনি, সেগুলো এবার সমাধান করা যাচ্ছে কি না। যদি সেই সমস্যাগুলো এখনো থেকে থাকে, তবে তার সমাধান সবার আগে করতে হবে।’

পুরানো ঢাকার মতো ঐতিহাসিক অঞ্চলে-জমির মালিকানা বা স্বত্ব একটি বিশাল বড় বাধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুরান ঢাকার অনেক সম্পত্তিরই আনুষ্ঠানিক কোনো মালিকানার কাগজপত্র বা দলিল নেই, কারণ এগুলো কোনো সঠিক নিবন্ধন ছাড়াই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরিত হয়ে আসছে। এর আগেও এটিই ছিল অন্যতম প্রধান অন্তরায়।’ তার মতে, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হলো প্রকল্পের বিশাল পরিধি; সে ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে না করে একটি পর্যায়ভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করা অনেক বেশি কার্যকর হবে। তিনি একটি সুনির্দিষ্ট ও সীমিত এলাকা নিয়ে পাইলট প্রকল্প শুরু করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘যদি প্রকল্পটি প্রথমে ছোট পরিসরে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে তা জনগণের মাঝে আস্থা তৈরি করবে এবং বড় পরিসরে সবাইকে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে। তাছাড়া, এত বড় একটি প্রকল্পের জন্য আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এখনো তৈরি হচ্ছে, তাই প্রাথমিক পর্যায়ে বিদেশি বা বহিরাগত বিশেষজ্ঞদের নিয়োজিত করলে ‘কাজের মাধ্যমে শেখার’ (লার্নিং বাই ডুইং) একটি সুযোগ তৈরি হবে, যা পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য আমাদের স্থানীয় পেশাজীবীদের দক্ষ করে তুলবে।’