সতর্কতা আছে পদক্ষেপ নেই
পাহাড়ধসে ঝড়ল ৯ প্রাণ
* আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও প্রশাসনের চিরাচরিত মাইকিং * তহবিল সংকট বাড়াচ্ছে ঝুঁকি * বৃষ্টির রাত মানেই নির্ঘুম অপেক্ষা
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কক্সবাজার অফিস

বর্ষা মৌসুম এলেই পাহাড়ে মৃত্যুর যে নিয়মিত ট্র্যাজেডি মঞ্চস্থ হয়, কক্সবাজার ও উখিয়ায় তার আরও একটি কিস্তি দেখা গেল গতকাল সোমবার। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ঘটা এসব ঘটনায় অন্তত ৯ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। দুর্যোগের পর যথারীতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মানুষকে সরে যেতে বলা হচ্ছে, তবে বছরের পর বছর ধরে চলা এই মানবসৃষ্ট বিপর্যয় ঠেকাতে স্থায়ী কোনো সমাধানের দেখা নেই।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, গত রোববার সকাল থেকেই কক্সবাজারে টানা মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। মাটি নরম হয়ে রাত ১টার দিকে উখিয়ার ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি ঘরের ওপর পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় মাটিচাপা পড়ে নিহত হন মোহাম্মদ কামাল হোসেন (৪৪), তার স্ত্রী হুমাইরা বেগম (৩৯) ও চার বছরের শিশুসন্তান মোহাম্মদ আনাস। প্রায় একই সময়ে কুতুপালংয়ের ৭ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ি ঢলের কাদায় চাপা পড়ে প্রাণ হারায় একরাম নামের সাত বছরের আরেক শিশু। মৃত্যুর এই মিছিল এখানেই থামেনি। রাত ৩টার দিকে উখিয়ার ১১ নম্বর ক্যাম্পে ঘটে আরও একটি পাহাড়ধসের ঘটনা। সেখানে মাটিচাপা পড়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩) এবং দুই ভাই রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩) মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আহত একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, গতকাল সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের সাত্তার ঘোনা এলাকায় আলী আকবর (৫০) নামের এক ব্যক্তির ঘরের ওপর পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে ও মাটিচাপা পড়া পরিবারের আরও দুজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন বলে নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ চাপা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও প্রশাসনের চিরাচরিত মাইকিং : কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রকৃতির এই রুদ্ররোষ এখানেই থামছে না; আগামী দুদিন এই বৈরী আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বিপদের এই চরম মুহূর্তে উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তার ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের এই ‘শেষ মুহূর্তের’ তৎপরতা নিয়ে। বছরের যে আট-নয় মাস শুষ্ক মৌসুম থাকে, তখন পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি উচ্ছেদ বা টেকসই পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর মেগাফোনে ঘোষণা দেওয়াকে অনেক বিশ্লেষকই স্রেফ দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, চরম দারিদ্র্য বা বাসস্থানের অভাবের অজুহাতে মৃত্যুঝুঁকি জেনেও পাহাড়ের নিচে বসবাসকারী নাগরিকদের একগুঁয়েমিও এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান : ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি কেউ : পাহাড়ধসে মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়, বরং এটি প্রশাসনিক চরম ব্যর্থতার এক ধারাবাহিক দলিল। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ১২৭ জন, ২০১২ সালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলে ৯০ জনের বেশি এবং ২০১৭ সালে রাঙ্গামাটিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাসদস্যসহ ১৬০ জনের বেশি মানুষ পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছিলেন। এরপর ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই গড়ে ১০ থেকে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এই একই কারণে। আজ কক্সবাজারে ঝরে গেল আরও ৯টি প্রাণ। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, পাহাড়ের নিচে বসবাসকারীদের জন্য কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি।
প্রতিকার কোথায়? : খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু দুর্যোগের সময় সতর্কতা জারি করা কোনো কাঠামোগত সমাধান হতে পারে না। পাহাড় কাটা চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের স্থায়ী ও নিরাপদ পুনর্বাসন এবং রিটেইনিং ওয়াল বা বনায়নের মতো প্রকৌশলগত পদক্ষেপ না নিলে প্রতি বছরই এমন মৃত্যুর খবর পত্রিকার শিরোনাম হবে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর ভৌত কাঠামো প্লাস্টিক ও বাঁশনির্ভর হওয়ায় সেখানে পাহাড়ের মাটি ধরে রাখার কোনো সক্ষমতা নেই। প্রকৃতি তার কাজ করবে এবং আগামী দুদিন বৃষ্টি হলে পাহাড়ের মাটি আরও আলগা হবে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন শুধু লাশের হিসাব রাখা আর মাইকিং করাতেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি আসন্ন মৃত্যু ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পুরোপুরি খালি করতে কার্যকর কোনো পেশাদার পদক্ষেপ নেয়।
প্রতি বর্ষা মৌসুমেই কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকা ও রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা কিংবা খাড়া ঢালে নির্মিত বসতিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। টানা বর্ষণে মাটি নরম হয়ে গেলে মুহূর্তেই ধসে পড়ে পাহাড়ের অংশ, আর ঘুমন্ত মানুষের জন্য তা হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী ফাঁদ। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান বলছেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। বিভিন্ন ক্যাম্পে মাইকিং করে সতর্কবার্তাও প্রচার করা হচ্ছে।’ কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি আরও অন্তত দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
পুরোনো শঙ্কা : জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআর এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ভূমিধসে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৮০ জন। শুধু ২০২৪ সালেই প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন; যা ওই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। আর চলতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের জনযোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নিজমান বলেন, ‘২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে শিবিরগুলোতে ভূমিধসে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৮০ জন।’ তিনি বলেন, ‘অনেক ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢাল এখনো যথাযথভাবে স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়নি। ফলে বর্ষাকালে শরণার্থী পরিবারগুলোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস সাধারণত কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করলে ঘটে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে সেই প্রায় সবগুলো কারণই বিদ্যমান- খাড়া ঢাল, বন উজাড়, দুর্বল মাটি, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং অত্যধিক জনঘনত্ব।
তহবিল সংকট বাড়াচ্ছে ঝুঁকি : ইউএনএইচসিআর বলছে, বর্তমান ঝুঁকি শুধু প্রাকৃতিক নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক মানবিক তহবিল সংকট। সংস্থাটির ভাষায়, অর্থের অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি-হ্রাস কার্যক্রম সীমিত করতে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, পাহাড়ের ঢাল স্থিতিশীল করা, বাঁশের টেরেস নির্মাণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ, আশ্রয়কেন্দ্র শক্তিশালী করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর নিয়মিত সংস্কার। সীমিত অর্থায়নের কারণে মানবিক সংস্থাগুলোকে খাদ্য সহায়তা, পুষ্টি ও সুরক্ষার মত জরুরি খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ-প্রতিরোধমূলক অনেক উদ্যোগ কাটছাঁট করা হয়েছে। এতে এমন বহু পাহাড়ি ঢাল রয়েছে, যেগুলো আগে নিয়মিত মেরামত ও পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিল, কিন্তু এখন আর সেই কাজ আগের মত সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানান্তরও সহজ সমাধান নয় : ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়ার কথা প্রায়ই বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে সেটি সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। শারি নিজমান বলেন, ‘সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে স্থানান্তর করা দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্প ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।’ তিনি বলেন, ‘শিবিরগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি। খালি জমি প্রায় নেই বললেই চলে। আবার অনেক পরিবার স্থানান্তরে অনীহা প্রকাশ করে, কারণ এতে তারা জীবিকার সুযোগ, বাজারে যাতায়াত এবং ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার পর গড়ে ওঠা সামাজিক সম্পর্ক হারানোর আশঙ্কা করে।’ ফলে অনেক পরিবার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হয়েও একই জায়গায় থেকে যেতে বাধ্য হয়।
বৃষ্টির রাত মানেই নির্ঘুম অপেক্ষা : ক্যাম্প-৪ এর বাসিন্দা সলিম উল্লাহ বলেন, বৃষ্টি শুরু হলেই তাদের পরিবারের মধ্যে উৎকণ্ঠা নেমে আসে। ‘বৃষ্টি হলে আমি ঘুমাতে পারি না। সারারাত ভাবি, কখন পাহাড় ভেঙে পড়বে। আমি সন্তানদের নিয়ে পাহাড়ের ঢালে থাকি। সব সময় ভয় নিয়ে থাকতে হয়।’ শিবিরের বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকি কমানোর ছোট ছোট উদ্যোগও চোখে পড়ে। কোথাও পানি যাতে মাটি ধুয়ে না নেয়, সেজন্য ড্রেনের ওপর প্লাস্টিকের শিট বিছানো হয়েছে। কোথাও আশ্রয়ের পাশে বালুর বস্তা রাখা হয়েছে। আবার কোথাও বাঁশের খুঁটি দিয়ে পাহাড়ের ঢালকে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এসবই মূলত সাময়িক ব্যবস্থা। টানা ভারি বর্ষণের সামনে এগুলোর কার্যকারিতা সীমিত।
প্রস্তুতির কথা বলছে প্রশাসন : শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে প্রতিটি শিবিরে দুর্যোগব্যবস্থাপনা কমিটি সক্রিয় করা হয়েছে। সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে। এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে জেলায় প্রায় ২৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সহকারী আবহাওয়াবিদ এ বি হান্নান বলেন, আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে। এতে পাহাড়ি ঢাল আরও নরম হয়ে নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই : ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সীমিত সম্পদের মধ্যেও তারা বিভিন্ন প্রকৌশলভিত্তিক ও প্রকৃতিনির্ভর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, উন্নত ড্রেনেজব্যবস্থা, জিওটেক্সটাইল ব্যবহার এবং মাটির ক্ষয় রোধে ভেটিভার ঘাস রোপণ। তবে সংস্থাটির সতর্কবার্তা স্পষ্ট, জরুরি প্রস্তুতির পাশাপাশি পাহাড় স্থিতিশীল করার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগে ধারাবাহিক বিনিয়োগ না হলে প্রতি বর্ষাতেই একই সংকট ফিরে আসবে। বর্ষা শুধু একটি ঋতু নয়, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের হাজারো পরিবারের কাছে এটি এক দীর্ঘ পরীক্ষার সময়। তারা বৃষ্টি নামলে অনেকেই আকাশের দিকে তাকান না, তাকান পাহাড়ের দিকে। কারণ তাদের কাছে প্রতিটি ভারী বর্ষণ মানে শুধু বৃষ্টির শব্দ নয়, তার সঙ্গে মিশে থাকে মাটি সরে যাওয়ার আশঙ্কা, রাতভর নির্ঘুম অপেক্ষা, আর ভোর পর্যন্ত বেঁচে থাকার প্রার্থনা।
