পাল্টাপাল্টি হামলায় ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। এই উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি কার্যকরভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে, ইরানের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা বা চুক্তি বজায় রাখতে আগ্রহী নন। ট্রাম্পের এই একপাক্ষিক ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে এবং বিশ্বের প্রধান শেয়ার সূচকগুলোতে পতন দেখা গেছে। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার পেছনে রয়েছে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিকতম ভয়াবহ সামরিক সংঘাত, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরকে তীব্র আঘাত করেছে। এদিকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার মধ্যে দেশটিতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির একাধিক অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সবশেষ দফার হামলায় ইরানের ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সবশেষ দফায় অন্তত ৮০টি হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে নিশানা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা হ্রাসের লক্ষ্যে প্রণালীর ভেতরে ও আশপাশে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌকায়ও হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরান এসব জাহাজে হামলা চালানোর কথা অস্বীকার বা নিশ্চিত কিছুই করেনি। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির খার্গ দ্বীপেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গতকাল ইরান হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামোতে হামলা চালানো হচ্ছে। এসব হামলার মাধ্যমে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা। বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলাকে বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে সেন্ট্রাল কমান্ড। তারা বলেছে, এ ধরনের হামলা অনাকাঙ্ক্ষিত।

মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে ৮৫ স্থাপনায় হামলা ইরানের : মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। গত বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশটির নৌ ও বিমান বাহিনী ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে নিশানা করা হয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, এ হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার হরমোজগান ও মাহশাহরের উপকূলীয় অঞ্চলে ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরান এ অভিযান চালিয়েছে। আইআরজিসি আরও বলেছে, মার্কিন হামলাগুলো ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার দাফন এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত। ওয়াশিংটন এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে ম্লান করার চেষ্টা করছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ার কথা জানাল কুয়েত : কুয়েত জানিয়েছে, ‘শত্রুপক্ষীয়’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মোকাবেলা করছে তারা। তাদের এয়ার ডিফেন্স এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বাধা দিয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এর কয়েক মিনিট আগে গত বুধবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছিল, দেশজুড়ে আকাশ হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে। সেনাবাহিনী জনগণকে কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, দেশজুড়ে যদি কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, তবে সেটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে বাধা দিয়ে ধ্বংস করার কারণে ঘটেছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, বাহরাইনেও আকাশ হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের ‘শান্ত থাকার ও সবচেয়ে সন্নিকটের নিরাপদ স্থানে’ আশ্রয় নিতে বলেছে।

ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৮৫টি লক্ষ্যস্থলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী ও মহাকাশ বাহিনী ‘যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর’ ৮৫টি স্থাপনাকে তাদের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, এসব অভিযানে বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর ও কুয়েতে আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে। তারা আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও ইসলামাবাদ চুক্তি লঙ্ঘন করেছে আর এই অভিযান তার ‘প্রাথমিক জবাব’। আইআরজিসি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে রিপার হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ৯ ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবিও জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘শক্তিশালী আঘাত’ হানে বলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে। তারা জানায়, হরমুজ প্রণালিতে কাতারি ও সৌদি আরবের ট্যাংকারসহ তিনটি জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তারা ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যস্থলে আঘাত হেনেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী মার্কিন হামলার ‘বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া’ জানানো হবে বলে প্রত্যয় জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ার কথা জানায়। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস এলাকার বন্দর শহর সিরিক ও কেশম দ্বীপে বেশ কিছু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের হরমোজগান ও মাহশহর উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আর সামরিক নয় এমন স্টেশনগুলোতে আকাশ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান চলার মধ্যেই এসব হামলা ও পাল্টা-হামলার ঘটনা ঘটছে। এরমধ্যে খামেনির মরদেহবাহী কফিন ইরাকে পৌঁছেছে। আইআরজিসি মার্কিন হামলাকে এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করেছে। তারা বলেছে, এই ‘ঐতিহাসিক ঘটনাকে’ ম্লান করার লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলা চালিয়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ - ট্রাম্প : ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতি ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার তুরস্কের আঙ্কারায় নেটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা সময় এমন মন্তব্য করেন তিনি। বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি’ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি ওদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না, ওরা নিকৃষ্ট। যতদূর আমার মনে হয়, এটা শেষ হয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলা শুধু সময় নষ্ট করা, তারা মিথ্যাবাদী।’ তিনি জানান, উভয়পক্ষের আলোচকরা ‘কথা বলতে পারেন’ কিন্তু তা শুধু ‘তাদের সময়ের অপচয়’। তিনি যোগ করেন, ‘সত্যি বলতে, আমি তাদের তাদের সঙ্গে আমার সময় নষ্ট করতে চাই না। আমাদের চমৎকার আলোচকরা চাইলে কথা বলতে থাকুন; কিন্তু আমি তেমনটি দেখছি না।’

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের হওয়া সমঝোতা স্মারক বা অন্তর্বর্তী চুক্তি নিয়ে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন। তিনি ইরানিদের ‘অসুস্থ লোকজন’, দেশটির শাসকদের ‘দুষ্ট লোক’ ও ইরানি প্রশাসনকে ‘পাগল’ বলে অভিহিত করেন। তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলে ওয়াশিংটনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে কয়েকটি জাহাজের পাশাপাশি গত বুধবার কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের হামলা নিয়ে তিনি তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা দুষ্ট অসুস্থ লোক। তারা ক্যান্সার আর আপনারা জানেন কী করতে হবে- ক্যান্সারকে প্রথমেই কেটে ফেলতে হবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা গতরাতে তাদের ওপর কঠিন আঘাত হেনেছি। আমি তাদের বলেছি, প্রত্যেকবার তোমরা আঘাত করবে, আমরাও আঘাত করব। আর অবশ্যই তারা নোংরা খেলোয়াড়, তাই তারা প্রত্যেকের পেছনে লাগতে পারে, সম্ভবত আমিসহ। আমরা তাদের পছন্দ করি না। আমিও পছন্দ করি না। তারা দুষ্ট লোক আর এটি হল ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। আমরা একে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে যাচ্ছি। ‘আমি নেটোকে নিয়ে সন্তুষ্ট না। কারণ তারা আমাদের এক নম্বরের রাষ্ট্র-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করেনি, যেটি ইরান।’

ইরানের তেল রপ্তানিতে আবারও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা : ইরানের তেল রপ্তানিতে আবারও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার পর দেশটি এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ছাড়া ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। গত বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর ইরানের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এ ঘটনার জন্য তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ ঘোষণার পর তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ভঙ্গুর চুক্তির অংশ হিসেবে মার্কিন অর্থ বিভাগ গত মাসে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের তেল রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল। মঙ্গলবার ওই অনুমোদন প্রত্যাহারের ফলে সেই সময়সীমা কমে ১৭ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে তিনটি ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে আক্রান্ত হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখনও কেউ দায় স্বীকার করেনি।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, সর্বশেষ উত্তেজনা সত্ত্বেও আলোচকরা ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হামলা এবং মার্কিন পদক্ষেপের ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক বোঝাপড়া নড়বড়ে হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে আরও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বৃহত্তর চুক্তি নিয়ে আলোচনাকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের চালানের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত। তেল রপ্তানি ইরানের আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এ খাত থেকে দেশটি শত শত কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। এই অর্থ সরকারি ব্যয় নির্বাহ এবং বছরের পর বছর ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দুর্বল হয়ে পড়া অর্থনীতিকে সহায়তা করতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিধিনিষেধ সত্ত্বেও তেহরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রধানত চীনে তেল রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে তেল বিক্রি দেশটির অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইনে পরিণত হয়েছে।