ডুবে থাকা রেলপথ ৫ ফুট উঁচু করা হবে
জানালেন রেল প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো
চারপাশে থইথই করছে পানি। এর মধ্যে কোনটি রেললাইন আর কোনটি হাঁটার পথ, তা আলাদা করে চিহ্নিত করার উপায় নেই। পানির নিচে তলিয়ে গেছে রেললাইন ও হাঁটার পথ। এর মধ্যে ছুটে চলেছে রেলওয়ের একটি গ্যাংকার, যেটি দিয়ে সাধারণত রেলওয়ের ট্র্যাক পরিদর্শন ও মেরামতের মালামাল পরিবহন করা হয়।
এ রকম একটি গ্যাংকারে ছিলেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, প্রশাসন ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি যান চট্টগ্রাম নগরে ডুবে থাকা রেললাইন দেখতে। ওই গ্যাংকারে ছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরাও। গতকাল বুধবার সকাল পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে গ্যাংকার নিয়ে ঘটনাস্থলে যান তাঁরা।
চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত রেলপথ দুদিন ধরে পানির নিচে ডুবে আছে। এ কারণে একের পর এক ট্রেনযাত্রা বাতিল করতে হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে ট্রেন চলাচল করতে পারলেও দুপুরের পর থেকে আর ট্রেন চলেনি। বন্ধ হয়ে যায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল। রেলপথটিতে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে দুই জোড়া চট্টগ্রাম থেকে এবং দুই জোড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়া-আসা করে।
রেলপথের ষোলোশহর থেকে জানালিহাট সেকশনের এই মধ্যবর্তী অংশের প্রায় চার কিলোমিটার পানির নিচে ডুবে রয়েছে। চট্টগ্রামে কয়েক দিন ধরে ভারী বর্ষণ চলছে। টানা বর্ষণের কারণে পানিও নামতে পারছে না রেললাইন থেকে।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের ষোলোশহর স্টেশনের পরপরই রেলপথ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে গ্যাংকার চালিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ঘটনাস্থলে। মুরাদপুর পার হওয়ার পরপরই সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকা। রেলপথের পাশে রয়েছে খাল। বৃষ্টির পানিতে রেলপথ আর খালের পানি একাকার হয়ে আছে। পাশের বসতবাড়ির আঙিনা ও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
তবে সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকা থেকে যত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল গ্যাংকার, সেখানে রেলপথ আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে। রেললাইনের ওপর ছিল পানির স্রোত। এভাবে যেতে যেতে গ্যাংকার থামে শমসের পাড়া এলাকায়। এলাকাটিতে রেললাইন এমনভাবে পানিতে ডুবে গেছে, আলাদা করে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।
গ্যাংকার থেকে নিচে নেমে দেখা যায়, রেলপথে হাঁটুর চেয়ে বেশি পরিমাণ পানি। এর মধ্যে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন কিছু পথ হেঁটে ঘুরে দেখেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রেল প্রতিমন্ত্রী।
রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের এই সেকশন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, তাদের সরকারের ভবিষ্যৎ চিন্তা হচ্ছে এই লাইনটি আরও ৫ ফুট উঁচু করবেন। চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেললাইনে কাজ হবে। এরইমধ্যে দরপত্রপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেলপথ যখন উঁচু করা হবে তখন ৩ ফুট পানি বাড়লেও রেল চলাচল কোনো সমস্যা হবে না।
চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুদিন যাবৎ যে বৃষ্টি হচ্ছে তা রেকর্ডসংখ্যক। অনেকে বলছেন গত ৪৫ বছরেও এত বৃষ্টি চট্টগ্রামে হয়নি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে রেললাইন উঁচু করা, যাতে ভারী বৃষ্টি হলেও রেল চলাচল বিঘ্নিত না হয়।
রেলপথ নির্মাণে কোনো ত্রুটি নেই দাবি করে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘৪৫ বছর আগে এ রকম বৃষ্টি হয়েছিল। আমরা এটা রেকর্ড রাখছি বৃষ্টিতে রেললাইন কী পরিমাণ ডুবে যাচ্ছে। কোথাও দুই ফুট, কোথাও তিন ফুট। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উঁচু করা, যাতে ডুবে না যায়।’
বৈরী আবহাওয়া ও টানা ভারী বর্ষণের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যাত্রীদের জন্য রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে চাই। কিন্তু বৃষ্টিতে লাইনে যে পরিমাণ পানি জমেছে তাতে রেল চলাচল করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য এই বিরূপ আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ বন্ধ রেখেছি। যারা টিকিট কেটে যেতে পারছেন না, তাদের টিকিটের অর্থ আমরা ফেরত দিয়ে দিব।’
পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
