পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের পুনর্বাসন করবে সরকার

জানালেন দুর্যোগমন্ত্রী

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবছর পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে করে তাদের জন্য বাড়ি নির্মাণ করবে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৫ জন, কক্সবাজারে ১৯ জন, রাঙামাটিতে ১ জন এবং বান্দরবানে ৫ জন মারা গেছেন। তিনি আরও জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিপুলসংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, শিশুখাদ্য এবং আশ্রিতদের জন্য তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গত ৭ জুলাই দুর্গত এলাকার জন্য প্রথম দফায় প্রতিটি জেলায় ১০ লাখ টাকা জিআর ক্যাশ এবং ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রামের জন্য অতিরিক্ত ২৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য ১০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ২০০ মেট্রিক টন করে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নিজস্ব ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি জেলায় ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন। তার নির্দেশনায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থান করছেন। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মন্ত্রী সংসদ অধিবেশন মূলতবি থাকার সময়ে পাহাড়ি অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি এবং প্রয়োজন হলে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ের নিচে বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসের কারণে প্রতিবছর প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে সরকারের কাছে থাকা খাসজমি ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের জমিতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হবে এবং তাদের জন্য বাড়ি নির্মাণ করা হবে।’ এ কাজে স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরিতে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। ভবিষ্যতে পাহাড়ধসে যেন আর একটি প্রাণও না ঝরে, সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান দুর্যোগব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী।