তুরস্কের সহায়তায় ড্রোন কারখানা হবে বগুড়ায়

বললেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও অনুশাসনে সারাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বগুড়ার উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় দীর্ঘদিন বগুড়া জেলার উন্নয়ন কর্মসূচি বন্ধ রাখা হয়েছিল বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করা হচ্ছে এবং ওই বিমানবন্দরের মধ্যে উত্তর অঞ্চলের জন্য বিমান বাহিনীর প্রথম বিমান ঘাঁটি অনুমোদিত হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে নতুন যে যুদ্ধ বিমানগুলি আসবে তা বগুড়ার এয়ারপোর্টের সাথেই বিমান ঘাঁটির বহরে সংযুক্ত হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সংসদে তার প্রশ্ন উত্তরে বলেছেন বগুড়ায় তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ড্রোন নির্মাণ কারখানা হবে। বগুড়াকে বঞ্চিত করার উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালের পর বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম থাকার পরও সেখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের খেলাও হয়নি। বগুড়ার চারটি উপজেলার নামকরণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলায় কিছু ইউনিয়ন ছিল যেগুলো অনেক বড় বড় ইউনিয়ন। যে ইউনিয়নগুলোকে বিভক্ত করার প্রয়োজন ছিল। সেই ইউনিয়নগুলোকে আমরা বিভক্ত করেছি। আমি নতুন চারটি ইউনিয়ন তৈরি করেছি। ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে হয়তো অনেক প্রশ্ন ছিল, অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে নতুন করে আবার ওই এলাকার জনগণ যেভাবে চাইছে সেভাবে নামকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এলাকায় উন্নয়ন নিয়ে নানান ধরনের কথা হয়। দীর্ঘদিন বগুড়া জেলায় উন্নয়নবঞ্চিত ছিল। কী কারণে আপনারা জানেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বগুড়ার কোনো উন্নয়ন হয়নি, রাস্তাঘাট ব্রিজ কালভার্টের অবস্থা খুবই খারাপ। বগুড়ার মানুষের কোন চাকরি হয়নি, যারা চাকরি করত তাদের কোনো ভালো পদায়ন হয়নি। বগুড়ার যে সমস্ত উন্নয়ন ঘাটতি ছিল এগুলো পূরণ করার জন্য আমি মন্ত্রী হিসাবে একটু দৌড়াদৌড়ি করেছি, চেষ্টা করেছি। স্বাভাবিকভাবে আমি কোথাও বললে আমাদের কাজটা হবে। যেমন বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়টা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি আমরা নতুনভাবে একটি বহুমাত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় রূপ দেওয়ার জন্য নতুন করে আইন তৈরির কথা বলেছি, তা সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামে হবে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল যে সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত রেলপথ সংযোগ, এই সংযোগ না থাকার কারণে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষকে ঈশ্বরদি হয়ে সান্তাহার হয়ে যেতে হয়। সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার রেলপথ সংযোগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ডিপিপি পাস হয়েছে জমি অধিগ্রহণ শেষ। এটা হবার কারণে আমাদের সাশ্রয় হবে ১২২ কোটি টাকা। আলাদা রাস্তার প্রয়োজন হবে না। বগুড়ার মত একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার উপর দিয়ে ১১টি জেলার মানুষ চলাফেরা করে, ১১টি জেলার পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী গাড়ি যাওয়া-আসা করে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘জাতীয় রাজনীতিতে আমার কোন পথ পদবি ছিল না; আমি তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি কিন্তু আমরা কাজ তো শুরু করেছি। আমাদের কাজ করবার যোগ্যতা আছে কিনা এটা তো কিছুদিন আপনাদেরকে দেখতে হবে। শুরুতেই যদি আমাকে ধাক্কা মারা হয়, শুরুতেই যদি আমাকে টার্গেট করা হয় তাহলে তো যেটুকু মেধা মহান আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন, আপনাদের চাইতে কম অথবা বেশি বা সমান এইটুকু মেধার বিকাশ তো আমি রাষ্ট্রীয় কাজে বা আমার মন্ত্রণালয়ে আমি দেখাতে পারবো না। এটুকু সুযোগ তো আমাকে করে দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, আমি আমার মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি কারণ আমার সৌভাগ্য যে, আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দলের মহাসচিব। তিনি দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তি আমার পরম শ্রদ্ধেয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আমি উনার বয়সে অনেক ছোট, নবীন। কিন্তু তিনি আমাকে ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেন না, যেকোনো বিষয়ে তিনি আমাকে ডাকেন অথবা খবর দেন। আমি গিয়ে তার কাছে বসলে তিনি বলেন যে, আমরা এটা এভাবে করতে চাচ্ছি। আমার নিরাপত্তার জায়গাটা হচ্ছে যে ফাইলে শেষ স্বাক্ষরের জায়গাটা হচ্ছে মন্ত্রী আর তিনি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। আমার প্রটেকশনের দেয়ালটা তো এখানে আছে আমি তো ফাইনাল অথরিটি না, আমার পরেও ফাইলটা তার কাছে যায়। যদি ওখানে কোনো অন্যায় থাকে, নেগেটিভ কিছু থাকে, আমার স্বাক্ষরের পরে তাহলে তো মন্ত্রী ফেরত দিতে পারবেন বা ওটা অ্যালাউ করবেন না।’

নতুন অর্থবছরে আমাদের মন্ত্রণালয়ের বাজেট আছে। এই বছরেই স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলি হবে। এই বাজেটেও স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন পরিচালনার জন্য টাকা রাখা আছে। নির্বাচন কমিশনও স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলার জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘সমালোচনা হবে ভেবে আমার সন্তানকে বলার পর সে ক্রিকেট বোর্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে। এসব নিয়ে গণমাধ্যমগুলো হাইলাইট করে না।’ তিনি আরও বলেন, আমাদের সন্তানরাও কিন্তু নির্যাতিত, মামলার আসামি হয়েছিল। নিজের সম্পদ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার নির্বাচনি হলফনামায় সব সম্পদ, তথ্য দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গেলেই পাবেন। অথচ সেসব গোপন করে বলা হলো প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর আমার সম্পদ আটগুণ বেড়েছে। এসব সংবাদ দেখলে খারাপ লাগবে। এসব সংবাদ করে হেয় প্রতিপন্ন করার আগে যাচাই-বাছাই করে নেয়ার অনুরোধ করছি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার কথার খণ্ডিত অংশ প্রচার করবেন না। বরং পুরো বক্তব্য তুলে ধরুন। আমার সমালোচনা করায় কিন্তু আমি চিন্তিত না। বরং সমালোচনায় আমাকে দেশবাসীর কাছে পরিচিত করেছে। ভালোমন্দ বিচার জনগণ করবে।