ভাসছে পূর্বাঞ্চল, উত্তরে শঙ্কা

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

আষাঢ়ে মেঘে ঢাকা থাকে আকাশ। কালো মেঘের দল আকাশজুড়ে খেলা করে। মুষুলধারে বৃষ্টিতে চারিদিকের খাল-বিল ও মাঠ পানিতে ভরে যায়। আষাঢ়ের শেষ ভাগে এসে চেনারূপে ফিরেছে বর্ষাকাল। নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত কদিন ধরেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। সেই বৃষ্টির পানিতে বন্যা দেখা দিয়েছে দেশের পূর্বাঞ্চলে। কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার অন্তত ৪০টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ছয় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানিতে ডুবে চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে জেলার প্রধান দুই নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের ঘটনায় গত চার দিনে জেলায় অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার অধিকাংশ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। পাহাড়ের পাদদেশ, ঢালু এলাকা এবং বন্যাকবলিত নিচু স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ ও জরুরি সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। তিনি আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়া, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, ঈদগাঁও ও মাতামুহুরী এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। বহু বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া ও পেকুয়ার রাজাখালী, মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি মাছের ঘেরে পানি আটকে থাকায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। অতিরিক্ত শুকনো খাবারের চাহিদাও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ঢেউটিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এদিকে উত্তাল সাগরের কারণে টানা আট দিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার-মহেশখালী এবং পেকুয়া-কুতুবদিয়া নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিওসি)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বর্তমানে দেশের নদী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ১০টি স্টেশন বন্যা পর্যায়ে এবং ৯টি স্টেশন সতর্কতা পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, বান্দরবানের মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদ, নোয়াখালীর ডাকাতিয়া নদী, হবিগঞ্জের খোয়াই নদ, মৌলভীবাজারের মনু নদ এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের কুশিয়ারা, সুরমা ও মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদী এবং তিস্তা নদীর নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধার বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। অর্থাৎ দেশের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একাধিক প্রধান নদী অববাহিকায় একই সময়ে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করছে অথবা বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা বর্ষা মৌসুমের জন্য একটি ব্যতিক্রমী ও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত বহন করে।

চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হবিগঞ্জের খোয়াই নদী। গত বৃহস্পতিবার রাতে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে সদর উপজেলার এক হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যে বাঁধের শতাধিক ফুট অংশ ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

এছাড়া, বানিয়াচং উপজেলার রাধাপুর এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধের আরেকটি স্থান ভেঙে গেছে। নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী ও হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কালীগঞ্জ এলাকায় বাঁধের অংশটি ভেঙে যাওয়ার পর দ্রুত বেগে নোয়াবাদ, চরহামুয়া, সুঘর, বনগাও, নতুন বাজার, বালিহাটা, কালীগঞ্জ, যাদবপুর, বিষ্ণরামপুর, দক্ষিণচর, রামনগর ও বনদক্ষিণসহ অন্তত ১৫টি গ্রামে পানি প্রবেশ করে।

হঠাৎ বন্যায় ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন দুর্গতরা। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে গবাদিপশু এবং ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্রসহ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন মানুষ। অনেকে নিকটস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন, আবার কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে। এছাড়া হবিগঞ্জ শহরের কামড়াপুর ও দানিয়ালপুর এলাকার বেশ কিছু ঘরেও পানি প্রবেশ করেছে। এদিকে, হবিগঞ্জ শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টের শহর রক্ষা বাঁধটিও এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধটি টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ্-আবু-জাহের জানান, সদর উপজেলার ৩০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে এক হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, সদর উপজেলার বাইরে বাহুবলে ১২৫টি এবং বানিয়াচংয়ে ১২০টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। এসব পরিবারের সদস্যসংখ্যা প্রায় এক হাজার। তিনি বলেন, ‘জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও এক হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় এক হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’ হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত খোয়াই নদীর বাঁধের দুটি স্থান ভেঙেছে। আরও কয়েকটি স্থানে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। তবে নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে নদ-নদীর পানি কমতে পারে।’

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মঈনুক হক বলেন, বন্যা পরিস্থিতি তদারকি করতে ইতোমধ্যেই একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রশাসনের কাছে ৫ লক্ষ টাকা, ১০০ টন চাল এবং ১৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে। এছাড়া বন্যাদুর্গতদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ১ হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে।

এদিকে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উত্তরের নি¤মাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। চরাঞ্চলের অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় নৌকা ও ভেলা এখন স্থানীয়দের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। পানির চাপ বাড়ার কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং নদী তীরবর্তী উঁচু সড়কগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এসব বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে বর্ষাকালে জরুরি মেরামতের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। অথচ আগেভাগে সংস্কার করা হলে বাঁধ আরও টেকসই হতো এবং নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতিও কমানো যেত।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে রেকর্ড করা হয়েছে। তাই স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা এদিকে সারা দেশে মৌসুমি বায়ু প্রবলভাবে সক্রিয় থাকায় দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে আগামী তিন দিন বৃষ্টিপাতের দাপট বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। একইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম মধ্য প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করায় দেশের সমুদ্র ও নদীবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।