চরম দুর্ভোগে নগরবাসী
জলজটে অচল ঢাকা
* ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতায় ডুবছে নগরী * জলাবদ্ধতা নিরসনে সাময়িক প্রতিশ্রুতির বদলে একটি কার্যকর, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা বর্ষণে আবারও চিরচেনা জলযটের দৃশ্যে ফিরেছে রাজধানী ঢাকা। গতকাল রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি তলিয়ে গেছে পানির নিচে। জলাবদ্ধতায় সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের সকালে আকস্মিক জলজট ও তীব্র গণপরিবহন সংকট অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পরে। কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার কারণে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে অনেককেই অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়েছে। প্রতি বছর সিটি কর্পোরেশনের শত কোটি টাকার ড্রেনেজ সংস্কার প্রকল্প এবং খাল উদ্ধারের নানা প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বৃষ্টিতেই এমন জলাবদ্ধতা কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।
মতিঝিলের একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন, প্রতিদিন ২০-২৫ মিনিটে অফিসে পৌঁছাই। কিন্তু গতকাল জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে তার প্রায় এক ঘণ্টা লেগেছে। অনেক জায়গায় হাঁটুসমান পানি থাকায় হেঁটেও চলাচল করতে কষ্ট হয়েছে। পথচারী সাইদুল বলেন, রাস্তা ডুবে যাওয়ায় কিছু দেখা যাচ্ছে না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। প্রতি বছর একই ভোগান্তি হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বৃষ্টির সুযোগে কিছু এলাকায় রিকশা ও অটোরিকশার ভাড়াও বেড়ে যায়। গণপরিবহনের সংকট এবং দীর্ঘ যানজটের কারণে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে রওনা হন।
মতিঝিল ছাড়াও রাজধানীর মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও এলাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে। কাজীপাড়ায় ওপর দিয়ে মেট্রোরেল চলাচল করলেও নিচের সড়কে কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে গেছে। ফলে অনেক হালকা ও ভারী যানবাহন বিকল হয়ে সড়কে আটকে আছে। অফিসের কাজে নারায়াণগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে কাজীপাড়ায় আটকে পড়া আল আমিন বলেন, ‘এমন বৃষ্টি ঢাকায় কখনও দেখিনি। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এখানে আসার পর ইঞ্জিনে পানি ঢুকে গাড়ি অচল হয়ে গেছে। তিন ঘণ্টা ধরে বসে আছি; সামনে আগাতে পারছি না, বাসায় ফেরারও উপায় নেই।’ সড়কে পানি জমে থাকায় সকাল থেকেই গণপরিবহনের তীব্রসংকট দেখা দেয়। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত বাস বা রিকশা পাননি অফিসগামীরা। কাজীপাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের জন্য দীর্ঘ ৪০ মিনিট ধরে অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থী মো. শিমুল বলেন, ‘বাস কখন আসবে বলতে পারছি না। বাধ্য হয়ে অপেক্ষা করছি।’
শেওড়াপাড়ায় মেট্রোর নিচেও হাঁটুপানি জমতে দেখা গেছে। আর মূল সড়কে বাসের দেখা নেই। রাস্তায় মোটরসাইকেল নেই বললেই চলে। শেওড়াপাড়ায় মেট্রো স্টেশনের নিচে কথা হলে আগারগাঁওয়ের বাসিন্দা বাবুল বলেন, সকাল ১০টার দিকে অটো নিয়ে মিরপুর-১০ সিটি কর্পোরেশন অফিসে গিয়েছিলাম। কাজীপাড়া পর্যন্ত যাওয়ার পর অটোর সার্কিট নষ্ট হয়ে গেছে। পরে কোমরপানিতে ভিজে হেঁটে সিটি কর্পোরেশন অফিসে গিয়েছি। কাজ শেষে ফিরে আসার পথেও একই অবস্থা। মিরপুর-১০ থেকে কাজীপাড়া পর্যন্ত কোমরপানি, আর কাজীপাড়া থেকে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত হাঁটুপানি। এই ভোগান্তির শেষ নেই। রিকশাভাড়া বেশি। রিকশা নেই। আশপাশের বাড়িগুলোর গ্যারেজে পানি ঢুকেছে। আন্ডারগ্রাউন্ডে রাখা গাড়ি নষ্ট হচ্ছে অনেক বাড়িতে।
টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর থেকে ঢাকায় কাজে এসেছেন রফিক। তিনি বলেন, মিরপুর-১০ থেকে শেওড়াপাড়ায় কোমরপানি অতিক্রম করে এসেছি। কোনো বাস নেই। পানি বেশি হওয়ায় বাস এদিকে আসে না। মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছেন। শেওড়াপাড়ার ইব্রাহিমপুর পাকার মাথা থেকে শেওড়াপাড়া মেট্রোর নিচে আসার পথে বাচ্চাদের কেউ বলছে, মিনি কক্সবাজার, কেউ বলছে নদী, কেউ বলছে অফিস-আদালত. স্কুল-কলেজ সব বন্ধ করা দরকার। রিকশা ও ভ্যান ভাড়াও অনেক বেশি। ২০ টাকার ভাড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
এক ভ্যানচালক বলেন, বৃষ্টির কারণে ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামতে পারছি না। কাজ নেই। সব শোরুম বন্ধ। আজ কেউ মাল নিতে পারবে না বাসায়। ভ্যান দিয়ে কোনো মালামাল পরিবহন করা যাচ্ছে না। বাসায় পানি উঠেছে। এখন দই, চিড়া, দুধই ভরসা।
একই চিত্র দেখা গেছে আগারগাঁও এলাকায়। মহাখালীর অফিসের উদ্দেশে রওনা হওয়া সায়রা বেগম নামের এক নারী এক ঘণ্টা ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘চরম অসহনীয় অবস্থায় আছি। অফিসে যথাসময়ে পৌঁছাতে পারব কি না, জানি না।’
শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষণে মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের শেওড়াপাড়া শাখা-৩-এর সামনের প্রধান সড়কসহ আশপাশের সব রাস্তা তলিয়ে গেছে। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছে। তবে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলাবদ্ধতার কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ আজকের পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।
রাজধানীর বসুমতী বাজার, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একাংশ ও নিকুঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাঁটুসমান পানিতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বৃষ্টির পানিতে সড়কের অসংখ্য খানাখন্দ ঢেকে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, চাকরিজীবী ও রিকশাচালকরা। বসুমতী বাজার এলাকার প্রধান সড়ক থেকে ভেতরের গলিগুলো পুরোপুরি পানিমগ্ন। অনেক ব্যবসায়ী সকালে দোকান খুললেও ক্রেতা শূন্যতায় অলস সময় পার করছেন। স্থানীয় চা-দোকানি হাবিব হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সকালবেলা হাঁটুপানি পার হয়ে দোকান খুলতে হয়েছে। বেচাকেনা একেবারেই নেই। এই যে দেখেন, দোকান ফাঁকা। শুধু শুধু খুলে বসে আছি।’
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও অফিসগামী যাত্রীরা। বসুন্ধরা এলাকার রিকশাচালক মনির তার দৈনন্দিন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘পেটের দায়ে বের হতে হয়, বৃষ্টি দেখে তো কেউ খেতে দেবে না। পুরো রাস্তায় জায়গায় জায়গায় গর্ত। প্রায়ই গর্তে রিকশা পড়ে চাকা ভেঙে যায়। যাত্রীরাও ব্যথা পায়, আমি নিজেও আহত হয়েছি।’
অন্যদিকে, কর্পোরেট চাকরিজীবী আবিদ হাসান জানান, জলাবদ্ধতার কারণে যাতায়াত খরচ ও ঝুঁকি- দুটিই বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘অফিস তো আর বন্ধ থাকে না, তাই এই পানি ঠেলে যেতে হচ্ছে। কোথায় গর্ত আছে বোঝা যায় না বলে রিকশায় ওঠার সাহস পাচ্ছি না। তাছাড়া বৃষ্টির অজুহাতে রিকশার ভাড়াও এখন দুই-তিন গুণ বেশি।’
রাজধানীর সদর ঘাট, সূত্রাপুর, বংশাল, নবাবপুর, বাংলাবাজার, লক্ষ্মীবাজার, ওয়ারী, তাঁতীবাজার, ইসলামপুর, চকবাজার, বকশীবাজার, নাজিমউদ্দিন রোড, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচরের বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। সকাল থেকেই থেমে থেমে ভারী বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকাগুলোর সড়ক দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক জায়গায় ড্রেন উপচে পানি রাস্তায় উঠে আসে। কয়েকটি অলিগলিতে পানি দোকান ও আবাসিক ভবনের নিচতলাতেও ঢুকে পড়ে। পুরান ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সামান্য ভারী বৃষ্টি হলেই এ চিত্র দেখা যায়। পানি নামতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
লালবাগের বাসিন্দা পিয়াস আহমেদ বলেন, ‘সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা ডুবে গেছে। কোথায় ড্রেন আর কোথায় রাস্তা, বোঝার উপায় নেই। মোটরসাইকেল ও রিকশা চলতে গিয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’ চকবাজারের ব্যবসায়ী মো. আতিক বলেন, ‘রোববার হওয়ায় ব্যবসার চাপ থাকার কথা ছিল। কিন্তু, পানি জমে থাকায় দোকানই খুলতে পারিনি। বাজারে ক্রেতা নেই। মালামাল আনতেও সমস্যা হচ্ছে। পানি নেমে গেলে তখন আবার বেচাকেনা স্বাভাবিক হবে।’ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে গত ছয় ঘণ্টায় ৭৬ মিলিমিটার এবং ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে।
এদিকে, পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক পথচারীকে জুতা হাতে নিয়ে পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন চালকেরা। ঢাকেশ্বরী মন্দির মোড়ে দায়িত্বরত একজন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) বলেন, ‘রাস্তায় পানি জমে থাকায় গাড়িগুলো এগুতে পারেনি ঠিকঠাক। ফলে, জটলার সৃষ্টি হয়। তারপর যানজট।’ তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গায় সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা উল্টে বা বিকল হয়েও যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি গাড়ির চলাচল ঠিক রাখতে; কিন্তু, পানি না নামা পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক করা কঠিন।’
বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা, খাল দখল, ড্রেনেজ লাইনে বর্জ্য জমে থাকা এবং নিচু এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজের কারণে পুরান ঢাকায় জলাবদ্ধতা এখন নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কারের কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পুরান ঢাকায় এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।
উন্নয়ন বাজেটের সুফল কোথায় : নগরবাসীর অভিযোগ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত তদারকির অভাবেই প্রতি বছর বর্ষায় একই ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাদের। বসুমতী বাজার এলাকার বাড়িওয়ালা হাফিজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, সামান্য বৃষ্টিতেই এই এলাকায় জলাবদ্ধতা একটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত থাকলেও তা মেরামতে সিটি কর্পোরেশনের কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর উদ্যোগ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা, পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ থাকা এবং প্রাকৃতিক জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণেই ঢাকা শহরের এই বেহাল দশা। ওয়াসার কাছ থেকে সিটি কর্পোরেশন ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি না হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সাময়িক প্রতিশ্রুতির বদলে একটি কার্যকর, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী।
জলাবদ্ধতায় বন্ধ নিউমার্কেটের দোকানপাট : প্রবল বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকে রাজধানীর নিউমার্কেটের দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ আছে দোকানপাটের বিদ্যুৎ-সংযোগও। নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির অফিস সেক্রেটারি ফিরোজ উল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাত থেকে অবিরাম বৃষ্টির কারণে নিউমার্কেট এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তাই সকাল থেকে নিউমার্কেটের দোকানপাট খোলা হয়নি। আপাতত সব দোকানপাট ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এ ছাড়া কোনো ক্রেতাকেও আসতে দেখা যায়নি। আবার নিরাপত্তার স্বার্থে ডিপিডিসি নিউমার্কেটে বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। ফিরোজ উল ইসলাম আরও জানান, আজ সোমবার পরিস্থিতি বুঝে দোকানপাট খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে সকালের দিকে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার, কৃষি মার্কেট, মিরপুর, তেজগাঁও, বিমানবন্দর এলাকার হজ ক্যাম্প বাজারসহ ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে দোকানপাট খোলা থাকলেও ক্রেতা নেই বললেই চলে। আবার কিছু দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে।
