দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধ রাস্তা, কোথাও বন্যা পরিস্থিতি- এমন বাস্তবতার মধ্যেই সোমবার দেশের ৫৯ জেলায় অনুষ্ঠিত হয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি অংশ আগেই পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়েছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থীর পক্ষে কেন্দ্রে পৌঁছানোই কঠিন হয়ে পড়বে। কিন্তু পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

ফলও আসে উদ্বেগজনক। ওই দিনের পরীক্ষায় সারা দেশে অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৫৯২ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১১ হাজার ৭২৯, মাদ্রাসা বোর্ডে ৫ হাজার ১৭০ এবং কারিগরি বোর্ডে ২ হাজার ৬৯৩ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ২৯ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কারের তথ্যও এসেছে।

এই অনুপস্থিতির সংখ্যা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাঁদের অভিযোগ, অনেক পরীক্ষার্থী পানি, কাদা, যানজট ও জলাবদ্ধতার কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। কেউ ভেজা অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে বিপাকে পড়েছেন, কেউ মানসিক চাপ নিয়েই পরীক্ষায় বসেছেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবরও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

ক্ষোভের আরেকটি বড় কারণ পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্রে ভুল ছিল এবং প্রশ্ন অতীতের তুলনায় অস্বাভাবিক কঠিন হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড অবশ্য জানিয়েছে, প্রশ্নে ত্রুটি প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করে নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষামন্ত্রীর একটি ফোনালাপকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই ফোনালাপে শিক্ষার্থীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। এই অভিযোগের পর শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, উত্তরা, বকশীবাজার ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। সায়েন্স ল্যাব থেকে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বোর্ডের দিকে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর এলাকায় তাঁদের যাত্রায় পুলিশ বাধা দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা পলাশী হয়ে বোর্ডের সামনে জড়ো হন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। ঢাকার বাইরে বরিশাল, বগুড়া, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহেও বিক্ষোভ, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। বরিশালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, ময়মনসিংহে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল সড়ক এবং উত্তরায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রমের চেষ্টা করেছেন একদল এইচএসসি পরীক্ষার্থী। এ সময় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে বিপুল পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।

সাভার : শিক্ষার্থীদের প্রতি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদ এবং বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সাভারে বিক্ষোভ ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৩০ মিনিট এ কর্মসূচিতে মহাসড়কের উভয় পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের পাকিজা মোড় এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ করেন।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ নগরের টাউন হল এলাকায় ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা এই বিক্ষোভ করেন। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কুমিল্লা : বেলা সোয়া ১১টার দিকে কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে ‘কুমিল্লার সচেতন শিক্ষার্থীসমাজ’–-এর ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ সময় তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘তুমি কে আমি কে, মুরগি মুরগি, কে বলেছে কে বলেছে, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী’, ‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে কান্দিরপাড় থেকে মিছিল নিয়ে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে গিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ করেন।

বরিশাল : দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে নগরীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

বগুড়া : বৈরী আবহাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষাসচিবের অপসারণের দাবিতে বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে তাঁরা মহানগরীর সাতমাথা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। দুপুর ১২টার দিকে মিছিলটি নগরীর সাতমাথা এলাকা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে যায়। কার্যালয় প্রাঙ্গণে সমাবেশ করা হয়। সেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকি দেন শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম : বন্যাকবলিত এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদ ও চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে নগরের মুরাদপুরে বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে ‘এইচএসসি ২০২৬’ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি শুরু করেন। বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে ৭ দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। এরপর বিকেল ৪টার দিকে তারা সড়ক ছেড়ে দেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের উল্লেখ করা সাত দাবি হলো- দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রবেশপত্র ও নিবন্ধনপত্র পুনঃইস্যু করা, অবশিষ্ট পরীক্ষার জন্য বাস্তবসম্মত নতুন রুটিন প্রণয়ন করা, প্রশ্নপত্রের মান ও পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা এবং ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্রের উত্তরপত্র ন্যায্যভাবে মূল্যায়ন করা, প্রশ্ন প্রণয়নে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করা থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকা এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করা।

যশোর : দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করার প্রতিবাদে যশোরে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে সরকারি সিটি কলেজ, সরকারি এমএম কলেজ, আল হেরা ডিগ্রি কলেজ, ডা. আব্দুর রাজ্জাক কলেজ, শিক্ষা বোর্ড কলেজ ও উপজেলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ‘বন্যার পানিতে নয়, ন্যায্য পরিবেশে পরীক্ষা চাই’, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’, লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

ফরিদপুর : ফরিদপুরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন, মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের কঠিনতা, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, ফলাফল মূল্যায়ন এবং চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানান।

শিক্ষার্থীরা ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং পাঁচ দফা দাবির সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় কিছুক্ষণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

দিনাজপুর : শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে দিনাজপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুর শহরের নিমনগর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘১, ২, ৩, ৪ মিলন তুই গোদি ছাড়’, ‘আমার ভাই কবরে মিলন কেন এসিতে’, ‘একদফা, এক দাবি, মিলন তুই কবে যাবি’ ইত্যাদি স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে। শিক্ষার্থীদের এই অবরোধে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়ে।

এদিন দুপুর পৌনে ২টার দিকে আন্দোলন চলাকালে ‘রাহী এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুরের অভিযোগ তোলেন পরিবহন শ্রমিকেরা। এর প্রতিবাদে শ্রমিকেরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আড়াআড়িভাবে বাস রেখে সড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

কুড়িগ্রাম : শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষাসূচি, প্রশ্নপত্রের মান এবং বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এসময় পরীক্ষার্থীরা ‘শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি চলবে না’, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’, ??‘দফা এক দাবি এক, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পরীক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থী পানি ও কাদা পেরিয়ে, কেউ কেউ নৌকায় করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন। এতে শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্যেই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। তাদের দাবি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নেয়নি।

রাজশাহী : রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে ফিরে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এবার সড়ক অবরোধ করেছে। মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে তারা শিক্ষা বোর্ড চত্বর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর মিছিল নিয়ে তারা শহরের প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট যায়।

জিরোপয়েন্টে গিয়ে শিক্ষার্থীরা সড়কের দুই পাশই অবরোধ করে। ফলে সাহেববাজার-কুমারপাড়া সড়ক দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নানা স্লোগান দেয়।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ড চত্বরে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে অবস্থান করে।

দুপুরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়। পরে বেলা ৩টার দিকে তারা বোর্ড থেকে বেরিয়ে জিরোপয়েন্টে যায়।

সাতক্ষীরা : শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়া সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বিক্ষোভ মিছিলে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের রাজ্জাক পার্ক থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই জায়গায় শেষ হয়। তারা বলে, অতিবর্ষণে পুরো দেশ ডুবে গেছে। এ অবস্থায় দেশের সব অঞ্চলে পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী তা না করে চট্টগ্রামসহ ৫টি জেলা বাদে ৫৯টি জেলায় পরীক্ষা নিচ্ছেন। এতে দেখা গেছে, পরীক্ষা দিতে গিয়ে ভিজে গিয়ে জ্বর আসা, ড্রেনে পড়ে যাওয়াসহ পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন অঘটন ঘটেছে। সমাবেশে শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষামন্ত্রী চেয়ে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

নওগাঁ : শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি জানিয়ে নওগাঁয় সড়কে নেমে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা শিক্ষাভবনের সামনে দএইচএসসি ২০২৬ ব্যাচ’ এর শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় অন্য ক্লাসের শিক্ষার্থীরাও।

জানুয়ারিতে এসএসসি, জুনে এইচএসসি পরীক্ষার পরিকল্পনা- শিক্ষামন্ত্রী : আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে জানুয়ারিতে এসএসসি এবং জুন মাসে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শিক্ষাবর্ষের শুরু ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচির মধ্যে সামঞ্জস্য আনা এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সময়ের অপচয় হ্রাস করা সম্ভব হবে।

প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা নেওয়া হবে- শিক্ষামন্ত্রী : সংসদে প্রশ্নের জবাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তারা দ্রুত পড়ার টেবিলে ফিরে যাবে, এটি আমাদের প্রত্যাশা। বন্যা বৃষ্টিতে পরীক্ষা দিতে না পারলে প্রয়োজনে আবারও পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রশাসনের ভুল সিদ্ধান্তে কোনও শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুষিয়ে দেওয়া হবে জানিয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, পদার্থ বিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর পাবে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, তার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলেননি। এরপরও কেউ আহত হয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।