সারাদেশে বন্যা
মৃত্যু বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে সাম্প্রতিক সময়ের অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড় ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮। আর দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার তথ্য দিয়েছে দুর্যোগব্যবাস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের বন্যা সম্পর্কিত সবশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৫৭টি উপজেলার ৩৬২টি ইউনিয়ন ও আটটি পৌরসভা এখন বন্যাকবলিত। এতে মোট ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার।
গেল ৫ জুলাই রাত থেকে টানা পাঁচ দিনের অতি ভারি বর্ষণে দেশের ৪৩টি জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার কবলে পড়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সাত জেলা। এছাড়া এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।
দুর্যোগ ব্যবাস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে, যার মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে সাতজন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
একই সাথে দুর্যোগে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম মিলিয়ে মোট ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং কক্সবাজারে একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। আহতদের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি কক্সবাজারের, ২৫ জন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। দুর্গত মানুষদের সহায়তার জন্য ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৮৪৯ জন গৃহহীন মানুষ অবস্থান করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গত সাতটি জেলাসহ সারা দেশে এ পর্যন্ত ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৯ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪ হাজার ২০০ বান্ডিল ঢেউ টিনসহ গৃহ নির্মাণ মঞ্জুরি হিসেবে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও বিশেষ আর্থিক সহায়তা (প্রতি জেলায় ২০ লাখ টাকা করে) দেওয়া হয়েছে।
