বদলাচ্ছে বৃষ্টি ও বন্যার ধরন, বাড়ছে শঙ্কা

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতি বছর চিরাচরিত একই দৃশ্য। বর্ষা এলেই ডুবে যায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম। রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম। এর মূল কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় ও প্রাকৃতিক খাল ভরাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং জলবায়ু পরিবর্তন। শহরের প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই দুই মেগাসিটিতে চরম জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়, অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প এবং দীর্ঘ পরিকল্পনার পরও ঢাকা ও চট্টগ্রাম বারবার ডুবে যায়। এর জন্য শুধু অতিবৃষ্টি দায়ী নয়। অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং দুর্বল নগর ব্যবস্থাপনাই মূল কারণ।

তাছাড়া প্রাকৃতিকভাবেই প্রতি বছর বৃষ্টির ধরণ বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে বন্যার মানচিত্রও। আর সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান রূপ দেখা যাচ্ছে শহরগুলোতে। গত ৭ জুলাই চট্টগ্রামে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা গত চার দশকের মধ্যে বন্দরনগরীতে এক দিনের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এর এক সপ্তাহের মাথায় ঢাকায় প্রায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা দীর্ঘসময় জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ভরা বর্ষায় নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বর্ষণ হয়েছে। একই সময়ে উজানেও বৃষ্টির কারণে কয়েকটি জেলায় নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

দুর্যোগব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ-এই সাতটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের বন্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু সাত জেলার বন্যা নয়; বরং বৃষ্টিপাতের ধরন এবং বন্যাপ্রবণ এলাকার পরিবর্তন। অতীতে যেখানে জুলাই-অগাস্টে প্রধানত উপকূল ও নদী অববাহিকার জেলাগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতো, এবার বড় দুই নগরী ঢাকা ও চট্টগ্রামও আকস্মিক জলাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। তাদের ভাষ্য, নগরায়ণ, অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং জলাভূমি ভরাটের কারণে অতিভারি বৃষ্টিপাত এখন দ্রুতই ‘নগর বন্যা’র রূপ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টির স্থানিক ও সময়গত বৈশিষ্ট্য বদলে যাওয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। সেজন্য আগাম পূর্বাভাসকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নগর অবকাঠামোকে সে অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হবে।

আকস্মিক বন্যার প্রবণতা বাড়ছে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোয় আকস্মিক বন্যার প্রবণতা বেড়েছে। তবে এবার চট্টগ্রাম শহর এবং পরে ঢাকা মহানগরে যে মাত্রার জলাবদ্ধতা দেখা গেছে, তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম মনে করেন, এখন শুধু নদীভাঙন বা নদীর পানি উপচে পড়া বন্যা নয়, বরং নগর বন্যাকেও দুর্যোগ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এবারের বন্যাটা প্রথম শুরু হয়েছে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশ থেকে। চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, খাগড়াছড়িতে অতি বেশি বৃষ্টি হয়। এর প্রধান কারণ ছিল একটা মৌসুমি নিম্নচাপ। প্রচুর জলীয় বাষ্প বঙ্গোপসাগর থেকে আমাদের দিকে নিয়ে এসেছে।’

অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালেও একই ধরনের মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে ফেনী ও কুমিল্লায় ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। তবে এবার পরিস্থিতির পার্থক্য হল, দেশের ভেতরেই অনেক বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তার ভাষায়, ‘চট্টগ্রামে একদিনে ৪১৩ মিলিমিটার, পরদিন ১৬৯ মিলিমিটার- ৩ দিনে প্রায় ৮৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ পানি অল্প সময়ে নিষ্কাশন করা খুবই কঠিন।’ তিনি বলেন, টানা ভারি বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এবার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকাতেও সেই পরিস্থিতি দেখা গেছে।

ক্রমেই জলাবদ্ধতার সমস্যা বাড়ছে

অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে সাধারণত তিন ধরনের বন্যা দেখা যায়- নদীর পানি উপচে পড়া বন্যা, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) এবং নগর বন্যা (আরবান ফ্লাডিং)। এবার একসঙ্গে তিন ধরনের পরিস্থিতিই কমবেশি দেখা গেছে। তার মতে, শুধু অতিবৃষ্টিই নয়, নদী ও নগর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের দুর্বলতাও ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়েছে। সাইফুল ইসলাম বলেন, নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। নিয়মিত ড্রেজিং না হওয়ায় নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহও ব্যাহত হচ্ছে। আবার শহরে জলাভূমি ও খোলা জমি ভরাট করে ভবন, বিপণিবিতান ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি মাটিতে শোষিত হওয়ার সুযোগ অনেক কমে গেছে। তাতে জলাবদ্ধতার সমস্যা বাড়ছে।

পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের এই শিক্ষক বলছেন, আগে যেখানে প্রাকৃতিকভাবে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পানি মাটির নিচে চলে যেত, এখন প্রায় পুরো পানিই ড্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

তার মতে, সমস্যা শুধু অতিবৃষ্টির নয়; ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্ষমতাও বড় প্রশ্ন। সাইফুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ খাল ভরাট, দখল কিংবা আবর্জনায় ভরে গেছে। ফলে অল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এতটাই দুর্বল যে ড্রেন ও খাল দ্রুত ভরে যাচ্ছে। বর্ষাকালে এগুলোর পানি ধারণক্ষমতা কার্যত আর কাজ করে না।’

চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল বলে মনে করেন বুয়েটের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদী ও উপকূলীয় জোয়ার-ভাটার প্রভাবে অনেক সময় জোয়ারের সময় স্লুইসগেট বন্ধ রাখতে হয়। তখন স্বাভাবিকভাবে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয় না। ‘এ অবস্থায় কার্যকর পাম্পিং ব্যবস্থা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে শুধু পাম্প থাকলেই হবে না, আগাম ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস পেলে আগে থেকেই সেগুলো চালু করতে হবে এবং খাল-চ্যানেল প্রস্তুত রাখতে হবে।’ তার মতে, লোকেশনভিত্তিক বন্যা পূর্বাভাস এবং আরবান ফ্লাডিং ফোরকাস্টিং সিস্টেম চালু করার সময় এসেছে এখন।

অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের মতে, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিআইডব্লিউটিএ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। তার ভাষায়, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট নির্ভুল হলেও তা সময়মতো কার্যকর প্রস্তুতিতে রূপান্তর করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা এখন শুধু নাগরিক দুর্ভোগ নয়; এটি বড় ধরনের দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। ‘পরীক্ষা বন্ধ হচ্ছে, অফিস-আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, নিউ মার্কেটে অর্ধেক পানিতে। অথচ নগর ড্রেনেজ নিয়ে এখনও সমন্বিতভাবে কাজ হচ্ছে না।’ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় যদি চট্টগ্রামের মত ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়, তাহলে নগরজীবন অচল হয়ে পড়তে পারে। সেরকম বিপদ এড়াতে নতুন বাস্তবতায় নগর পরিকল্পনা করে ড্রেনেজ অবকাঠামো, খাল পুনরুদ্ধার এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনর তাগিদ দিচ্ছেন তিনি।

বদলে যাচ্ছে বৃষ্টিপাতের ধরণ

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সমরেন্দ্র কর্মকার বলেন, বাংলাদেশে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল হলেও সব মাসে বৃষ্টিপাত সমানভাবে হয় না। তার ভাষ্য, জুনে বৃষ্টিপাত কম হলে অনেক সময় জুলাইয়ে সেই ঘাটতি পুষিয়ে যায়। এবারও জুনে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হয়েছে। আর জুলাইয়ের শুরু থেকেই কয়েক দফায় অতিভারি বর্ষণ হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতেও ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯৫ ও ১৯৯৮ সালে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে বড় বন্যা দেখা গিয়েছিল। ‘এবারও লঘুচাপ ও মৌসুমি নিম্নচাপের কারণে কোথাও কোথাও খুব অল্প সময়ে অত্যধিক বৃষ্টি হয়েছে। এটাকে স্বাভাবিক বর্ষাকালের অংশ বলা গেলেও বৃষ্টির তীব্রতা ছিল অস্বাভাবিক।’ তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর যে এবার আগে থেকেই অতি ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ধসের পূর্বাভাস দিয়েছিল, সে কথা মনে করিয়ে দেন সমরেন্দ্র কর্মকার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানান, জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছিল। অথচ জুলাইয়ের প্রথম ১১ দিনেই মাসটির গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫ শতাংশ হয়ে যায়। সাউথ এশিয়ান মিটিওরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (সামা) যুগ্ম সম্পাদক ও হাইড্রো-ক্লাইমেট অ্যান্ড ওশান সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ড. মোহন কুমার দাশও মনে করেন, বাংলাদেশের বৃষ্টিপাতের ধরণ ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্ষাকালে দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পর স্বল্প সময়ে অতিভারি বর্ষণের ঘটনা বাড়ার তথ্য এসেছে সাম্প্রতিক গবেষণায়। ফলে মোট মৌসুমি বৃষ্টিপাত খুব বেশি না বাড়লেও চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনা ও তার তীব্রতা বাড়ছে। এই পরিবর্তনের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোল (আইওডি), মৌসুমি বায়ুর পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক বায়ুমণ্ডলীয় প্রক্রিয়া ভূমিকা রাখছে বলে মোহন কুমার দাশের ভাষ্য। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ে অতিভারি বৃষ্টিপাত হলে মাটি কিংবা নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা দ্রুত পানি সরাতে পারে না। ফলে আকস্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বন্যায় খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ- এই সাত জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। সরকারি হিসাবে সেখানে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। আহত হয়েছেন অন্তত ২৪ জন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙ্গামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়োপযোগী প্রস্তুতি থাকলে এবারের বন্যায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব ছিল। বিশেষ করে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে আগে থেকেই সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন ছিল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে অধিকাংশ প্রাণহানি হয়েছে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে। ‘কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কিছু ঝুঁকিপূর্ণ বসতি এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে প্রাণহানি বেশি হয়েছে।’ তিনি বলেন, দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণ চলছে এবং পুনর্বাসনের বিষয়েও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

মনোযোগ দিতে হবে পূর্বাভাসে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের দুর্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে; আর তা হল বাংলাদেশে বন্যার চরিত্র বদলাচ্ছে। আগে যেখানে মূল উদ্বেগ ছিল নদীভাঙন বা উজানের পানির কারণে বিস্তৃত বন্যা, এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বল্প সময়ে অতিভারি বৃষ্টিজনিত নগর বন্যা এবং পাহাড়ি ঢল। মোহন কুমার দাশ বলেন, দুর্যোগের পূর্বাভাস এমন ভাষায় দেওয়া প্রয়োজন, যা সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।

আর শুধু পূর্বাভাস প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; সেটি সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হতে হবে। তার ভাষায়, ‘যে পূর্বাভাসের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সময়মতো প্রস্তুতি নিতে পারে না, সেই পূর্বাভাস ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কতটা কার্যকর- সেই প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন।’