মোজাফফরের বিচার সেনা আইনেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

* আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে পুশইন করতে দেওয়া হবে না * বিজিবির জনবল অস্ত্র ও প্রযুক্তি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সাড়ে চার দশক আগে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার চাকরিচ্যুত মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল সোমবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে সামরিক আদালতে ১৮ জন সেনা কর্মকর্তার বিচার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। এ ঘটনায় বেসামরিক আদালতে কোনো বিচার হয়নি। তবে ওই ঘটনায় চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করেছিল পুলিশ। সেই মামলার ছয় নম্বর আসামি ছিলেন মেজর মোজাফফর। এজাহারে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতির কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। পরে সেই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিলের জন্য আদালতের কাছ থেকে ১৭৩ বার সময় নেয় থানা পুলিশ ও সিআইডি। শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালে ২৪ অক্টোবর সিআইডি মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থতা স্বীকার করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এর মধ্যে গত ১৫ জুলাই রাতে বনানী ডিওএইচএস থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল সোমবার সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, চট্টগ্রামের সেই মামলাটি এখন পুনজ্জীবিত করা হবে কি না? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, একই ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য দুই আইনে আলাদা আলাদাভাবে ট্রায়াল করা যায় না। এখানে মিলিটারি অ্যাক্ট প্রযোজ্য এবং কো অ্যাকিউসদের বিষয়ে ট্রায়াল হয়েছে, সেটা সেনা আইনে হয়েছে জেনারেল কোর্ট মার্শাল হয়েছে। ‘সে ঘটনার একই ব্যক্তি পলাতক ছিলেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আমরা সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছি। তারা তাদের বিধি মোতাবেক জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠন করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’ সিআইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলাটি প্রমাণ করতে না পারার কারণ হিসেবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সাক্ষী ও প্রমাণের অভাবের কথা লিখেছিলেন, যা গ্রহণ করে আদালত। পরে বাদী নারাজি না দেওয়ায় সেই মামলাটি আর পুনঃতদন্তের জন্য পাঠানো হয়নি। মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে প্রায়ই বাংলাদেশি হতাহতের খবর শোনা যায়। এ বিষয়ে দৃস্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, ‘ল্যান্ডমাইন ডিটেকশনের জন্য কিছু যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে এরই মধ্যে বিজিবির কাছে দেওয়া হয়েছে। তারা সেটা নিয়ে সেটা কাজ করছে।’

আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে পুশইন করতে দেওয়া হবে না -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কোনো অনুপ্রবেশ বা পুশইন করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে দেশের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। গতকাল সোমবার পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অবৈধভাবে একজনকেও দেশে পুশইন হতে দিইনি। আমাদের বর্ডার গার্ড ও জনগণের সহায়তায় আমরা এখনও পর্যন্ত সফলভাবে তা ঠেকাতে সক্ষম হয়েছি।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কিছু কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছিল। তবে তার সংখ্যা খুব বেশি নয় এবং সেসব অনুপ্রবেশকারীর বিষয়ে সরকার আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে পুশইন করতে দিইনি।’

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাম্প্রতিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন নির্বাচিত রাজ্য সরকার হয়তো তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বা স্বার্থের কারণে পুশ ইনের বিষয়টি সামনে আনতে চাইছে। এ বিষয়ে মন্তব্য না করে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি, সেখানে যদি সত্যিই বাংলাদেশের কোনো নাগরিক থাকে, তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক তার তালিকা আমাদের দিতে হবে। আমরা নাগরিকত্ব যাচাই করব। যাচাইয়ে যদি তাদের দাবির সত্যতা পাওয়া যায়, তবেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা তাদের দেশে ফিরিয়ে আনব। এ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে কাউকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র সংঘাত ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে মিয়ানমার সীমান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কথা বিবেচনা করছে সরকার। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে যাইনি। তবে মিয়ানমার সীমান্তে আমরা কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করার একটি প্রস্তাব রয়েছে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের তুলনায় মিয়ানমার সীমান্তের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। মিয়ানমার সরকার বা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির যুদ্ধাবস্থা এবং অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতায় বাংলাদেশ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে। এসব সংঘাতের আঁচ বাংলাদেশেও এসে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘এই অস্থিতিশীলতার কারণে মাদক চোরাচালান বাড়ছে এবং অনেক সময় ওপার থেকে আসা গোলাগুলির কারণে আমাদের নাগরিকরা মারা যাচ্ছেন।’ সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাইন দুর্ঘটনা রোধে সরকার বিজিবিকে ইতিমধ্যে মাইন শনাক্তকরণের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে। বিজিবির সদস্যরা এসব যন্ত্র ব্যবহার করে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবির লোকবল বৃদ্ধি এবং যানবাহন, সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংগ্রহের মাধ্যমে বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো—সীমান্তে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্যের ভিত্তিতে বাহিনীর অভিযান চালানোর সক্ষমতা বাড়ানো। মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির বড় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) প্রাথমিকভাবে বিজিবির ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেবে।