জামায়াত থেকে বহিষ্কার হলেন এমপি নজরুল
নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’ একই সঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাতে ভিডিওটি ছাড়ানোর পর প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। এরপর মঙ্গলবার সংসদ সদস্য তার ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট লিখে সেখানে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন বিকাল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ছিলেন। তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের যে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে তার কয়েকটি অংশে দেখা যায়, ওই নারীর সঙ্গে নজরুল ইসলাম একটি কক্ষে অবস্থান করছেন। কোনো অংশে আবার তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা মুখে পড়েছেন জামায়াতের এই নেতা। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার ফেইসবুক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ ইং তারিখে আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি।’ এই এমপির দাবি, ‘আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করে। ‘আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এসময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’
দল থেকে বহিষ্কার হওয়া এমপি নজরুলের আসন শূন্য হওয়া নিয়ে যা জানাল ইসি : দলীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কৃত হলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কোনো দলের সংসদ সদস্যকে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কার করা হলে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না এবং ওই আসন শূন্য ঘোষণা করা হবে কি না- এমন আইনি প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মতামত ব্যক্ত করেন। গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ বিষয়ে তার মন্তব্য জানান।
তিনি এ বিষয়ে রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোর সাধারণ নীতি তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মূল পরিচয় ও আইনগত ভিত্তি তৈরি হয় দলগত কাঠামোর ওপর ভর করে। তাই দল যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করে এবং তার মনোনয়ন প্রত্যাহার বা বাতিল করে, তবে তার আসন শূন্য হওয়াটাই স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়া। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় বহিষ্কার সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র বা চিঠি এখনও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে পৌঁছেনি বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি উল্লেখ করেন, ইসির নিজস্ব কার্যপ্রণালি ও উপ-নির্বাচনের ঘোষণার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। অফিশিয়াল কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আইন, বিধিমালা ও সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, কোনো অনুমাননির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো সঠিক নয়। লিখিত নথি ও সুনির্দিষ্ট আইন কোট করেই ইসি তার দাপ্তরিক অবস্থান স্পষ্ট করবে। নথিপত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যালোচনা শেষে আইন অনুযায়ী আসন শূন্য ঘোষণা এবং পরবর্তী উপ-নির্বাচন সংক্রান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হবে।
এমপি পদের কী হবে : সাধারণত কোনো সংসদ সদস্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কী থাকবে না, এমন প্রশ্ন সামনে চলে আসে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকের উল্লাহ বলেন, ‘কোনো ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়া, নৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়া, সামাজিকমাধ্যমে সমালোচনা বা অভিযোগ ওঠার কারণে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার কোনো বিধান নেই। সংবিধানে এমন কোনও অনুচ্ছেদ নেই, যেখানে শুধু অভিযোগ বা নৈতিক সমালোচনার ভিত্তিতে সরাসরি সদস্যপদ বিলুপ্তি হবে।’
তবে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ তখনই শূন্য হয়, যদি কোনও সদস্য যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন।
ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকের উল্লাহ বলেন, ‘দলীয় বহিষ্কার বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই।’ তবে ফৌজদারি মামলায় তিনি যদি এমনভাবে দণ্ডিত হন, যাতে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে তিনি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন, তখন বিষয়টি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে। আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন দেখা দিলে সংবিধানের ৬৭(২) অনুযায়ী বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নিকট যাবে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত দেবেন।’
এ ক্ষেত্রে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ আইনগত ও সাংবিধানিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকির মুখে নয়। দল তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, এমনকি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিলেও, শুধু সেই কারণে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে না। তবে তিনি যদি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করেন (সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ), অথবা পরবর্তীকালে এমন কোনো আইনগত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যাতে তিনি সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও প্রযোজ্য আইনের অধীনে সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন, তাহলে সংবিধানে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তার সদস্য পদের প্রশ্ন নিষ্পত্তি হবে জানান ব্যারিস্টার শাকের।
এমপি পদ নিয়ে যা বললেন চিফ হুইপ : সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের দলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘বিষয়টি গণমাধ্যম থেকে জেনেছি। আসলে ঘটনাটি সঠিক কি না, তা নিশ্চিত নই। তিনি কারও ষড়যন্ত্রের শিকারও হতে পারেন। তারপরও বলব, তিনি যদি অপরাধী হয়ে থাকেন, তাহলে আদালত সেটি দেখবে। এরপর ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন। তবে তিনি তার দল থেকে পদত্যাগ করলে, আসনটি শূন্য ঘোষণা হবে। সে ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।’
জামায়াত এমপি নজরুলকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ঝাড়ু মিছিল : একাধিক বিতর্কিত ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। ওই ভিডিওকাণ্ডে ক্ষোভ ও প্রতীকী ঝাড়ু মিছিল করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল বুধবার দুপুরে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। হাতে ঝাড়ু ও সংসদ সদস্যের ছবি নিয়ে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারীরা ‘ছি ছি নজরুল, লজ্জায় বাঁচি না’, ‘হই হই রই রই, বটবাহিনী গেলি কই’ এবং ‘শ্যামনগরে হবে না, বটবাহিনীর ঠিকানা’সহ নানা স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীরা শ্যামনগর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে মিছিলটি উপজেলা প্রেস ক্লাবের সামনে এসে এক মানবববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অবাঞ্ছিত ঘোষণার পাশাপাশি তারা গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানান।
বক্তারা বলেন, ১৩ তারিখে ঘটনাটি ঘটলেও গাজী নজরুল ইসলাম কৌশলে তা ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তার ড্রাইভার দাবি করা টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দিলে কৌশলের অংশ হিসেবে শুরুতেই এআই সৃষ্টি বলে দাবি করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করার পর গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে বিয়ের নাটক সাজিয়েছে। পদে পদে জালিয়াতি এবং মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে শরিয়ত মোতাবেক পরিচালিত হওয়ার দাবি করা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর আদর্শ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
মিছিলে অংশ নেওয়া একাধিক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভোট নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তারা প্রতিটি অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে নারীনেত্রী নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা বলেন, ‘আমরা নারীদের প্রকৃত নিরাপত্তা চাই। শুধু মুখে বড় কথা বললেই হবে না, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।’
পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিল, কিন্তু একের পর এক বিতর্কে তারা আজ প্রতারিত বোধ করছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।’
নাগরিক নেতা অধ্যক্ষ আবু সাইদ ও আশিকি এলাহি মুন্না বলেন, ‘প্রথমে ছবি ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু পরে একের পর এক ভিডিও প্রকাশ এবং এমপি নিজেই ফেসবুকে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এমনকি স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পুরো শ্যামনগরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সরকারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
সমাবেশ চলাকালে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। তবে শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়।
এদিকে, সমাবেশে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বা তার পক্ষে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
