
হামের উপসর্গে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ছয়জন মারা গেছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৭০৮ জন। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু ৯৫ জনের। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৮০৩।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত পরিসংখ্যান থেকে কোন বয়সী মানুষ বা কোন বয়সী শিশুরা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে বেশি আসছে, কোন বয়সীদের বেশি মৃত্যু হচ্ছে- এ ধরনের বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু হচ্ছে, তার সবই হামে মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজকের প্রতিবেদন বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৯০৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১৩৩। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৪ হাজার ৮৪১ রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৯৯ হাজার ২৯৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি। আর হামের উপসর্গে যে ছয় শিশু মারা গেছে, তাদের চারজন ঢাকা বিভাগের। অন্য দুজন সিলেট বিভাগের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে গত মে মাস পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম কিংবা হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এ সময়ে এত রোগী আর কোনো দেশে পাওয়া যায়নি।