নজরুলের বিষয়ে স্পিকার ও ইসিকে জামায়াতের চিঠি
সংসদের রেফারেন্স পেলেই ব্যবস্থা : নির্বাচন কমিশনার
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বৃহস্পতিবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ চিঠি দেন। ব্যক্তিগত একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গত বুধবার গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, দল থেকে বহিষ্কারের কারণে তার সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকবে কি না।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। অন্যদিকে ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নৈতিক স্খলনের মতো অপরাধে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড হলে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে। তবে গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেননি, দলের বিরুদ্ধেও ভোট দেননি এবং আদালতের মাধ্যমে দণ্ডিতও হননি। ফলে সংবিধানের ৬৬ ও ৭০ অনুচ্ছেদ সরাসরি তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এর ১২(খ) ধারায় বলা হয়েছে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত না হলে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকতে পারবেন না।
২০০৮ সালে যুক্ত হওয়া এই বিধানের আলোকে কয়েকজন আইন বিশেষজ্ঞের মত, দল থেকে বহিষ্কৃত হলে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। এর আগে ২০১২ সালে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হয়েও এমপি পদে বহাল ছিলেন এইচ এম গোলাম রেজা। অন্যদিকে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদ বাতিলের বিষয়ে স্পিকার নির্বাচন কমিশনে পাঠালেও শুনানি শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। ফলে দল থেকে বহিষ্কারের কারণে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে কি না এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত নজির বা রায় নেই। গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এখন স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে তার সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকবে কি না। তবে যে পক্ষই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হবে, তাদের আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। ফলে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত এমপির বিষয়ে সংসদের রেফারেন্স পেলেই ব্যবস্থা : সংসদের রেফারেন্স পেলে নৈতিক স্খলনজনিত কারণে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিস্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর, তার সংসদ সদস্যপদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তখনই পদক্ষেপ নেবে, যখন বিষয়টি জাতীয় সংসদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের কাছে পাঠানো হবে।’
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, সংসদ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো রেফারেন্স নির্বাচন কমিশনের কাছে আসেনি। এ ধরনের কোনো রেফারেন্স পাওয়া গেলে, কমিশন আইন অনুযায়ী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় শুনানির মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংসদ থেকে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হলে, কমিশন তা আমলে নেবে এবং যথাযথ তদন্ত ও শুনানির পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গাজী নজরুল ইসলাম সংসদ সদস্য হিসেবেই বহাল থাকবেন। তবে তিনি যদি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন, সে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে পড়ে না।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, সংসদ সদস্যের পদত্যাগ ও রাজনৈতিক দলের পদ থেকে পদত্যাগ দুটি পৃথক বিষয়। সংসদ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠালে কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও বলেন, এ ধরনের বিষয় স্পিকারের কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে আসতে হবে। স্পিকার কোন ভিত্তিতে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন বা পাঠাবেন কি না- সেটি সম্পূর্ণ তার এখতিয়ার।
