দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে
বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের সব বিনিয়োগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আমরা দেশি এবং বিদেশি সকল বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করব- ফর অল ইনভেস্টরস এবং এটা ডেভেলপমেন্টর প্রত্যেকটা ফেইজে, আমরা সেটা এনশিউর করব। ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ছাড়া বিনিয়োগ হয় না এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তা ছাড়া আমরা অগ্রগতি করতে পারব না। সুতরাং একটা আরেকটার সাথে অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত।‘ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
অনুষ্ঠান শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিকে যেভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এটাকে সেলভেজ করা একটা বিশাল প্রবলেম। ‘বিগত দিনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, সেটা ছিল প্রধানত ঋণনির্ভর এবং টাকা ছাপানোর মাধ্যমে একটা অর্থনীতি ডেভেলপ করার চেষ্টা। যার জন্য আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে গেছি, কিন্তু অর্থনীতি আর আগাতে পারে নাই। এজন্য এখন আমাদের মূল উদ্দেশ্য হল অর্থনীতিকে বিনিয়োগনির্ভর একটা অর্থনীতি করা।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি বিনিয়োগ বাড়াতে চাই, কর্মসংস্থান করতে চাই এবং যে ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমির কথা বলছি, সেখানে যেতে হলে প্রাইভেট সেক্টর দেশি বিদেশি বিনিয়োগ লাগবে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। দেশের মানুষের কর্মসংস্থান হবে, সম্পদ সৃষ্টি হবে এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়বে।
‘তাহলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করতে সুবিধা হবে। বিনিয়োগের উপর বড় নির্ভরশীলতা একারণেই। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রাইভেট সেক্টর বিনিয়োগ ছাড়া সম্ভব না। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চাইনিজ বিনিয়োগ।’
চীনা বিশাল বিনিয়োগ আসছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র গার্মেন্টেস না; শুধু গার্মেন্টেসের উপর নির্ভরশীল হলে তো অর্থনীতি চলবে না। এখানে সেলফোন থেকে শুরু করে মেডিকেল ইকুপমেন্ট সবকিছুর বিনিয়োগ এখানে হচ্ছে। এই ডাইভারসিটি আমাদের দরকার। ‘বিনিয়োগকে স্বাগত জানানোর জন্য বাংলাদেশে আইনকানুন পরিবর্তন থেকে শুরু করে সবকিছুর বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চায়না সফরের পরে এটা একটা বিনিয়োগ। আরো অনেক বিনিয়োগ আসবে। এর পাশেই আমরা ৬০০ একরের উপর ফ্রি জোন করতেছি, তারপর আছে কোরিয়ান জোন। তারপর চট্টগ্রাম বন্দরের এক্সপানশন চলতেছে।
‘এবং চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে করা হবে। লজিস্টিক্যাল হাবের জন্য তো সাপ্লাই লাগবে। এসব শিল্প জোন লজিস্টিক্যাল হাবের জন্য বড় অগ্রগতি। সবকিছু মিলিয়ে শুধু চাইনিজ জোন না বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা বড় ধরনের আগ্রহ পাচ্ছি।’
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে আলোচনা ও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। তবে গত এক দশক নানা জটিলতায় ঝুলে ছিল প্রকল্প। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের আগে গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
