ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা প্রশ্নে রিট আবেদন টিকল না

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে যে রিট মামলা হয়েছিল তা খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

গত ২৪ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের একাংশের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন রশিদ এ রিট আবেদন করেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে এতে বিবাদী করা হয়েছিল।

রিট আবেদনে ১৯৭৩ সালের আইনটিকে অপ্রচলিত, কার্যকারিতাহীন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার বা জুডিশিয়াল মার্ডারের ইন্সট্রুমেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বাতিলের পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তার রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছিল।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী মহসিন রশিদ নিজেই শুনানি করেন।

আদেশের পর মহসিন রশিদ বলেন, ঐতিহাসিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে আইনটি বহাল রাখার যৌক্তিকতা নেই এবং এ বিষয়ে তিনি আপিল করবেন।

এ আইনটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রণীত হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “পাকিস্তানের ১৯৫ জন যুদ্ধবন্দির বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিচার করার উদ্দেশ্যেই ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই সংবিধানের ৪৭(৩) অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনা হয় এবং পাঁচ দিন পর আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন প্রণয়ন করা হয়।”

মহসিন রশিদ বলেন, “১৯৭৪ সালের দিল্লি চুক্তির (শিমলা চুক্তি ও ত্রিপক্ষীয় দিল্লি চুক্তি) মাধ্যমে সমস্ত যুদ্ধবন্দিদের নিঃশর্ত প্রত্যাবাসন ঘটে এবং ওই ১৯৫ জনকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। ফলে এই আইনের মূল উদ্দেশ্য বা রেশিও লিগ্যাসি আর অবশিষ্ট নেই এবং আইনের অধীনে বিচারের সম্ভাবনা তখনই শেষ হয়ে যায়।”

তিনি বলেন, “২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকার এই আইন ব্যবহার করে জামায়াত নেতাদের বিচার করেছে। একইভাবে ২০২৪ সালের ঘটনাতেও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

“আইনটি বহাল থাকলে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় থাকা অন্য যেকোনো পক্ষের বিরুদ্ধেও একইভাবে এর প্রয়োগ হতে পারে।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট’ করা হয়। এ ট্রাইব্যুনালে ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীকে বিচারের আওতায় আনা এবং স্বাধীনভাবে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ পরিচালনার বিধান যুক্ত করে ২০০৯ সালে আইনে কিছু সংশোধনী আনা হয়।

এর ভিত্তিতেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের বিচার শুরু হয়।

ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির একজনের মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করা হয়।

২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনালকেই বেছে নেয়। সেখানে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল আইনে আরেক দফা সংশোধনী আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর ইতোমধ্যে চারটি মামলার রায় এসেছে। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।