রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হয়নি : সিইসি
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করার পর সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, দিনক্ষণ ঠিক হয়নি।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সংসদ ভবনে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনের প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দিনক্ষণ ঠিক করার কথা বলা আছে। সেজন্য ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ‘তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলে জানানো হবে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে থাকলে এ নির্বাচন একভাবে হবে, আর না থাকলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সংসদ সচিবালয় এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা দেবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন চিঠিও দিয়েছে।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এসময় সংসদ সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, সংসদ সচিবালয় সচিব গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া ছিলেন।
গুরুতর অসুস্থতার কথা জানিয়ে গত ২৪ জুলাই বিকালে পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর সে পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২২ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সে লক্ষ্যে এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে মঙ্গলবার প্রাথমিক আলোচনা সেরে ফেলল নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হন সংসদ সদস্যরা। সিইসি থাকেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনি কর্তা’। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে তাতে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ ও স্থান থাকবে; সিইসির কার্যালয়ে এসব কাজ হবে। তবে ভোটের স্থান হবে সংসদ কক্ষ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।
সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবারই সংসদের কক্ষে ভোট করতে হয়েছিল। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সংসদের অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন হলে স্পিকার সাত দিন আগে বৈঠক আহ্বান করতে পারেন। ‘এমপি নজরুলের বিষয়ে আলোচনা হয়নি’ বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন সিইসি নাসির উদ্দিন।
এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সাতক্ষীরা-৪ নিয়ে উনারা আমাদের কাছে রেফার করলে তখন দেখা যাবে।’
গেল ২০ জুলাই রাতে এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। তবে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুক পোস্টে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২২ জুলাই তাকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। পরদিন দলটি নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়। জামায়াতে ইসলামী বহিষ্কার করলেও গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের করার কিছু নেই বলে এরইমধ্যে জানিয়েছেন ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ। এক প্রশ্নের জবাবে গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, শুধু দলের বহিষ্কারের চিঠি দিয়ে এমপি পদ থাকা না থাকার আলোচনা একটি বিতর্কিত বিষয়। গাজী নজরুল ইসলামের পদ নিয়ে স্পিকার বা জাতীয় সংসদের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘রেফারেন্স’ বা চিঠি পেলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।
