তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চাকরি পেলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সেই শারমিন, জানালেন কৃতজ্ঞতা

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন প্রতিবন্ধীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তাঁদের হাতে তিনি এ নিয়োগপত্র তুলে দেন। এ নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি গতকাল সচিবালয়ে তাঁর দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজন হলেন, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়শা আক্তার, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন এবং নড়াইল সদর উপজেলার মো. হাসমত আলী। হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র পেয়ে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাদের জন্য দিনটি ছিল নতুন কর্মজীবনের পাশাপাশি নতুন স্বপ্নেরও সূচনা।

উল্লেখ্য, আয়শা আক্তার ও নীলা খাতুন দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা নীলা খাতুন পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তাকে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আয়শা আক্তারও পা দিয়ে লিখে সম্পন্ন করেন স্নাতকোত্তর। হাত না থাকায় মুখ দিয়ে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন তিনি। তাকে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন। এদিকে প্রতিবন্ধী তিন ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলাল। নিয়োগপত্র প্রদানের পরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

চাকরি পেলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সেই শারমিন, জানালেন কৃতজ্ঞতা : বিশেষ ব্যবস্থায় চাকরি পেয়েছেন সাতক্ষীরার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমিন আক্তার। রাজধানীর এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে (ইডিসিএল) কনিষ্ঠ কর্মকর্তা পদে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ আগস্ট নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শারমিন আক্তারের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শারমিন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর ভাষ্য, এই চাকরি তার জন্য শুধু একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ নয়, পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একটি বড় সুযোগও তৈরি করেছে। এর আগে গত ২৬ জুলাই সাতক্ষীরায় হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন শারমিন আক্তার। এ সময় তিনি নিজের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রীর কাছে একটি চাকরির আবেদন করেন। তাঁর কথা শুনে তাঁকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কয়েক দিনের মধ্যেই সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হলো।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম কৈখালী গ্রামে শারমিনের গ্রামের বাড়ি। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।

নিয়োগপত্র পাওয়ার পর গণমাধ্যমের কাছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শারমিন বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর অবস্থা জানার পর নিজ দায়িত্বে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। মন্ত্রী তাঁর কথা রেখেছেন এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। এখন তিনি নিজের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারবেন।

শারমিন বলেন, তাঁর মতো একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে যারা তার পাশে ছিলেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, শারমিন খুবই অসহায়। তার পরিবারে কর্মক্ষম কেউ নেই। পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তার পরিবারের পরিস্থিতি জানার পর তাকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাকে ইডিসিএলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শারমিন ৬ মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করবেন। এই সময় শেষ হলে তাঁর চাকরি স্থায়ী হবে। তিনি শারমিনের জন্য সবার কাছে দোয়া চান, যাতে তিনি নতুন কর্মস্থলে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে থাকতে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাদের যোগ্যতা ও মেধা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি।