রান্না করতে ঘণ্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আবাসিক, শিল্প ও সিএনজি খাতে গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। বাসাবাড়িতে দিনের পর দিন চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় রান্না করতে হিমশিম খাচ্ছেন গৃহিণীরা। অনেক এলাকায় গভীর রাত বা ভোর ছাড়া গ্যাসের দেখা মিলছে না। একটি খাবার রান্না করতেই কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া, বাড্ডা, বসুন্ধরা, রামপুরা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় এ চিত্র দেখা গেছে।
বাসিন্দারা জানান, চুলায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে একটি খাবার রান্না করতেই কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক হিটার, ইন্ডাকশন চুলা কিংবা এলপিজি ব্যবহার করছে। এতে মাসিক খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
কর্মজীবী মানুষদের দুর্ভোগ আরও বেশি। সকালে সময়মতো নাশতা বা দুপুরের খাবার প্রস্তুত করতে না পেরে অনেকেই বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে অথবা সীমিত পরিসরে সেবা দিচ্ছে। যেসব স্টেশন চালু রয়েছে, সেখানে দীর্ঘ সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। এতে পরিবহন খাতেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে এবং অনেক চালকের দৈনিক আয় কমে গেছে।
শিল্পকারখানাগুলোও এই সংকটের বাইরে নয়। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়েছে। কোথাও কোথাও বয়লার ও উৎপাদন যন্ত্র স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না।
উদ্যোক্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।
মিরপুরের একজন বাসিন্দা বলেন, বাসায় গ্যাস পাচ্ছি না। রান্না করতে দিনের বেশিরভাগ সময় চলে যায়। এভাবে আর কতদিন যাবে বুঝতে পারছি না। সমস্যা আগের চাইতে অনেক বেড়েছে। সকালে রান্না করতে বরাবরই দেরি হয় বলে জানালেন মিরপুরের গৃহিণী জারিন তাসনিমও। যাত্রাবাড়ির আরেক বাসিন্দা বলেন, গ্যাসের চাপ একেবারেই কম। রান্না এখন যুদ্ধের মতো হয়ে গেছে। মনে হয় যুদ্ধ করছি। হিটারে রান্না করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচও বেশি হয়।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
