আগস্টজুড়ে অতিবৃষ্টির আভাস ফের বন্যার ঝুঁকি
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদায়ী জুলাই মাসজুড়ে সারাদেশেই কম-বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকাল থেকে শুরু হওয়া আগস্ট জুড়েও দেশব্যাপী স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অর্থাৎ অতিবৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে উত্তরাঞ্চল, সিলেট এবং ময়মনসিংহে বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে। গতকাল শনিবার চলতি মাসের আবহাওয়া সম্পর্কে এমনই পূর্বাভাস জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। সংস্থাটি আরও জানাচ্ছে, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি মৌসুমি লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। পূর্বাভাসে বিডব্লিউওটি জানায়, মাসের প্রথম সপ্তাহে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ সময়ে সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকতে পারে। দ্বিতীয় সপ্তাহে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় বঙ্গোপসাগরে একটি মৌসুমি লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত জারির প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধস এবং উত্তরাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
মাসের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে ভারী বৃষ্টির কারণে একাধিক নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। মাসের শেষ সপ্তাহে দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলেও বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগস্টে বড় ধরনের কোনো ঘূর্ণিঝড় বা তাপপ্রবাহের আশঙ্কা নেই। তবে বৃষ্টির বিরতিতে আর্দ্রতাজনিত ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।
এছাড়া আগস্টের ১৪ তারিখে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ এবং ২৮ আগস্ট চন্দ্রগ্রহণ ঘটলেও এর কোনোটিই বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না। এর আগে বিদায়ী জুলাই মাসজুড়ে দেশের প্রায় সব জেলাতেই কখনও মাঝারী আবার কখনও ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ কয়েক জেলায় নদ-নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এর ফলে পানবন্দি হয়ে পড়ে হাজার হাজার পরিবার। নষ্ট হয়ে যায় অসংখ্য জমির ফসল। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং নোয়াখালীতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে এবং পানিতে ডুবে শিশুসহ উল্লেখযোগ্য হারে মানুষ প্রাণ হারান।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীর পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা : উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী তিন দিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়তে পারে। এ সময় কয়েকটি পয়েন্টে নদীর পানি সতর্ক সীমা ছুঁতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সিলেটের কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। গতকাল শনিবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়, বর্তমানে পর্যবেক্ষণাধীন নদীগুলোর মধ্যে কেবল কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় এবং ভারতের মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এতে আগামী তিন দিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং কয়েকটি পয়েন্টে সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এছাড়া রংপুর বিভাগের তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিনে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বেড়ে কিছু স্থানে সতর্ক সীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি আগামী কয়েকদিন বাড়লেও এবং গঙ্গা-পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেলেও সেগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
