পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার ফেইসবুকে এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ সহযোগিতা চান। তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি আজকে থেকে প্রত্যেকে সচেতন হই, আমাদের হাতের আবর্জনা বা ব্যবহারকৃত আবর্জনা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে আমরা গুছিয়ে ফেলি; তাহলে ধীরে ধীরে হয়তো আমরা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আবর্জনামুক্ত করতে পারব, সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারব। দেশটা তো আমাদের সকলের। আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি, সকলে মিলে যদি একটু একটু করে করি; তাহলে আমরা বড় কিছু করতে সক্ষম হব। প্রিয় দেশবাসী আপনাদের কাছে আজকে এই সহযোগিতাটা আমি চাইছি।’ ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঢাকা শহরের যেকোনো রাস্তাঘাটে হোক, যেকোনো এলাকায় হোক যেকোনো জেলা শহরের এলাকায় হোক, রাস্তাঘাট হোক- এমনকি উপজেলা পর্যায়েও ক্ষেত্রবিশেষে বিভিন্ন গ্রামগঞ্জেও আমরা দেখেছি যে যেখানে বাজারঘাট বা রাস্তা চলাচল বেশি, সেই জায়গাগুলোতে চারিদিকে একটা জিনিস খুব পরিষ্কারভাবে চোখে পড়ে। আমরা যখন ছোট ছিলাম আজকে থেকে ৪০ বছর আগে, ৩০ বছর আগে দৃশ্যটা এমন ছিল না। কিন্তু বর্তমানে দৃশ্যটা এইরকম।’
‘সেটা কেমন? চারিদিকে আমার-আপনার আমাদের ব্যবহার করা হাতের টিস্যু অথবা আমার আপনার খাওয়া চিপসের প্যাকেট অথবা বাসায় ব্যবহার করা রান্নার তেল যে, তার প্লাস্টিকের বোতলটি অথবা আমি বা আপনি পানি পান করেছি, প্লাস্টিকের বোতল থেকে সেই বোতলটি এরকম আরও অনেক ধরনের আবর্জনা যত্রতত্র সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে, কোনো জায়গায় একটু বেশি জমা হয়ে আছে অথবা যত্রতত্র লোকালয়ের চারিদিকে ছড়িয়ে আছে।’
বর্জ্যে ভরা দেশের চিত্র তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘চিন্তা করে দেখুন তো, আপনার ঘরে যে ঘরটিতে আপনি থাকেন, যে বাসাটিতে আপনি থাকেন; যদি চারিদিকে এমন টিস্যু ছড়িয়ে থাকত, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকত, আপনার কাছে কি ভালো লাগত? দেখতে নিশ্চয়ই না। আমাদের কারো কথাই ভালো লাগত না।’
‘কবি তো সুন্দরভাবে লিখেছেন, ‘সবুজ শস্য-শ্যামলা আমার এই ভুবন’। আসুন না আমরা কেন আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করতে পারব না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পায়ে হেঁটে চলে অথবা রিকশায় যায় অথবা বাসে চলাচল করে; এই মানুষগুলো যখন রাস্তা পার হয়, বিভিন্ন জায়গায় যখন আবর্জনা জমে থাকে, ময়লা থাকে- এই মানুষগুলোর কিন্তু অনেক কষ্ট হয়। বিভিন্ন জায়গায় অনেক দুর্গন্ধ হয়, আবর্জনা জমে থেকে। তবে আমরা যদি সকলে মিলে একটু সচেতন হই, আমরা যদি নিজেরা সচেতন হয়ে যত্রতত্র যদি আমাদের ব্যবহারকৃত আবর্জনাগুলো যদি যত্রতত্র আমরা না ফেলে দেই, আমরা যদি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় এই আবর্জনাকে জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায় যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশটি ভালো থাকবে; ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারব।’
দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন অনেক জায়গায় আমি দেখেছি গত কয়েক মাসে, যখন আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। হয়তো কোনো একটি পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, দেখেছি পুকুরের ভেতরে বিভিন্ন রকম ময়লা স্তূপ হয়ে পড়ে আছে অথবা পুকুর পাড়ে বিভিন্ন ময়লা স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। অথচ একসময় কিন্তু এই পুকুর পাড়েই মানুষ বিকালে বসত, গল্প করত পরিবার-পরিজন নিয়ে। এখন আবর্জনার জন্য সেটি সম্ভব হয় না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা শহরেও বিভিন্ন পার্ক আছে, বিভিন্ন জেলা শহরেও বিভিন্ন পার্ক আছে, আমরা পার্কগুলোতে যাচ্ছি বিকালবেলায় পরিবার-পরিজনকে সাথে নিয়ে। কিন্তু গিয়ে যখন আমরা চীনে বাদাম খাচ্ছি অথবা চিপস খাচ্ছি, অথবা বাচ্চারা লজেন্স খাচ্ছে- খেয়েই আমরা জিনিসটা সেখানে ফেলে দিচ্ছে। আমরা যখন যাই, তখন হয়তো যারা পরিচ্ছন্নকর্মী, তারা হয়তো পরিষ্কার করে রাখছে; কিন্তু আমরা যখন বেরিয়ে আসছি, তখন আর সেটি আগের মতো পরিষ্কার থাকছে না।’
‘কিন্তু যদি যে পরিষ্কার থাকত, আপনি যদি পরিষ্কার করে রেখে আসেন- আপনার পরবর্তীতে যে যাবে, সেও সেই পরিচ্ছন্নতা সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবে।’
