সংসদে ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা উপস্থাপন করব

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১০ বছরের জন্য দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট নিয়ে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে মন্তব্য করে এদের সম্পর্কে সচেতন থাকতেও সবাইকে আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘আপনাদের যদি পরিকল্পনা থাকে, আসুন জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না। বিভ্রান্তিকর কথা বলে জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না।’ গতকাল রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়ায় পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

চলমান জ্বালানি সংকটের সমাধান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যেটি অপরিকল্পিতভাবে কোটি কয়েক মানুষকে সুবিধা দিয়েছিল, সেটি যদি জনগণের স্বার্থে পরিকল্পনা করতে হয়; স্বাভাবিকভাবে কিছু সময়ের প্রয়োজন। আমরা এরই ভেতরে এই কাজে হাত দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সামনে আগামী ১০ বছরে আমাদের জ্বালানি পরিকল্পনা কি হবে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কি হবে, সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব। আমরা পরিকল্পনা দিয়ে সেই কাজ শুরু করব; যেন স্কুল কলেজ হোক, হাসপাতাল হোক, মিল কারখানা হোক, বাসাবাড়ি হোক, মানুষ ঠিকভাবে যেন বিদ্যুৎ পেতে পারে। গাড়ি, মোটরসাইকেল সবকিছুতে যাতে মানুষ গ্যাস ঠিকভাবে পেতে পারে, সেই পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করব।’ এর আগে সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতাবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করে হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালী বাহারছড়ায় যান। পরে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে ওই অঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নতুন টিনের ঘরের চাবি তুলে দেন। কয়েক হাজার গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সমাবেশে রূপ নেয়।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে মন্তব্য করে সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খেয়াল করেছি, কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ এই ব্যাপারে (জ্বালানি) বিভ্রান্ত ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আপনাদের পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। আপনাদের যদি পরিকল্পনা থাকে আসুন জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না, জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না। কারণ পঞ্চাশের উপরে এই দেশের স্বাধীনতা হয়ে গিয়েছে। এখন জনগণের জন্য কাজ করার সময়, দেশ গঠনের জন্য কাজ করার সময়। পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে কিন্তু তারা কাজ করার মাধ্যমে পরিশ্রম করার মাধ্যমে তাদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। আর পেছনে থাকা যাবে না, আর পেছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য জনগণের জীবনমান উন্নত করা। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।’

বিএনপি সরকার জনগণের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তাতে সমর্থন দিতে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সবসময় বলি, আমাদের অর্থাৎ বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা প্রত্যেকটি জনগণের স্বার্থে যত কর্মসূচি নিয়েছি, সবগুলো আল্লাহর রহমতে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’ সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মশক্তিতে রূপান্তর করতে চায় বলেও ইচ্ছা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন। তিনি বলেন, ‘যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে। আমরা সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই, আমরা সেই বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করেছি। কিন্তু এটার জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকলে চলবে না। কাজ করতে হবে। আমাদের ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে, মিল কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান এবং শিল্পের বিপ্লব আমাদের ঘটাতে হবে। আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা সেই শপথ গ্রহণ করে প্রতিজ্ঞা করি যে, বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে, নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।’

দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ঠিক থাকতে হবে। আমরা দেখেছি আপনার এলাকায় বা বাজারে যখন কোন গণ্ডগোল হয়, কোন সমস্যা হয় তখন দোকানপাট খোলা থাকে না, বন্ধ থাকে। এই যে ছোট দোকানদার বা ছোট ব্যবসায়ী, তাদের ব্যবসার যাতে ক্ষতি না হয়। দেশীয় বা বিদেশি বিনিয়োগকারী যারা আছে, তারা যখন বিনিয়োগ করবে তারা তো চাইবে, যাতে তার মিল কারখানার উৎপাদিত পণ্য ঠিকভাবে বন্দর নিয়ে যেতে পারে। তার কাঁচামাল যাতে সঠিকভাবে আনতে পারে। রাস্তাঘাটে যাতে শান্তি থাকে। যদি মিল কারখানা না চলে সঠিকভাবে, তাহলে কি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব? হবে না। যারা শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘যদি দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা আমাদের তৈরি করতে হয়, স্কুল-কলেজ সুন্দরভাবে তৈরি করতে হয়, শিক্ষকদের যদি ট্রেনিং দিতে হয়, ছাত্রছাত্রীদের যদি নতুন করে বই দিতে হয়, এই সকল ব্যবস্থা যদি করতে হয়, তাহলে আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। একইভাবে সতর্ক থাকতে হবে আমাদের যারা বিভ্রান্ত করতে চায়, তারা যাতে কোনো সুযোগ না পায়। কারণ বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ। আজকে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব? নাকি আমরা ঝগড়া ফ্যাসাদে লিপ্ত থাকব। নাকি আমরা বিভ্রান্তকারীদের সাথে থাকব। এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানি বিগত স্বৈরাচার আমলে এই দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে কয়েকটি গুটি সংখ্যক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, যা এই দেশের মানুষের পক্ষে নয়।’ সমাবেশে বাঁশখালী ভেড়িবাঁধ নির্মাণ, লবণের মূল্য নির্ধারণসহ স্থানীয়দের বিভিন্ন দাবির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এছাড়া বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নতুন বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামের একটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন। নতুন বাড়ির আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও হাঁস-মুরগি প্রদান করেন তিনি।