‘হাসিনার ভাষায় কথা বলছে বিরোধী দল’
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধীদল গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদের একটা বিরোধী দল আছে। দুর্ভাগ্যক্রমে তারা আবার আগের মত ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। শেখ হাসিনা যে ভাষায় কথা বলতেন, তারাও সেই ভাষায় কথা বলছেন- করতে দেব না, চলতে দেব না, শেষ করতে দেব না। এ ধরনের রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। ‘আমরা মেজরিটি পেয়েছি, আমরা সংসদ চালাব, দেশ চালাব। আমরা যদি ব্যর্থ হই, তখন আপনারা বলবেন- দেশ চালাতে পারেননি। কিন্তু কাজ করার আগেই যদি আপনারা রাস্তায় নেমে পড়েন, তাহলে গণতন্ত্র কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে?’ গতকাল রোববার দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে স্বাবলম্বী করার প্রকল্পের আওতায় রংপুর অঞ্চলের ২৫টি দুস্থ পরিবারের মাঝে চায়ের দোকানঘর হস্তান্তর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং জনগণের প্রতিনিধিদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজ এক-দুই দিনে শেষ করা সম্ভব নয়।’
লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে এবং জনগণের প্রতিনিধিদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজ এক-দুই দিনে শেষ করা সম্ভব নয়।’ দেশের প্রশাসন ও অর্থনীতি নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও সংকটে বিপর্যস্ত প্রশাসনকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সরকার। তবে এত বড় একটি ব্যবস্থাকে স্বল্প সময়ে পুরোপুরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছি। চার-পাঁচ মাসে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু এত দ্রুত সবকিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের হাতে কোনো আলাদিনের চেরাগ নেই।’ জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে আমদানিতে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
তার দাবি, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে নতুন করে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। বাপেক্সকেও দুর্বল করে রাখা হয়েছিল। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন তেল-গ্যাস কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এরই মধ্যে কূপ খননের জন্য টেন্ডারও হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে। তবে মানুষ এক দিনও তেল-গ্যাস থেকে বঞ্চিত হয়নি। সরবরাহ কিছুটা কমেছে। যে সংকট রয়েছে, তা অল্প সময়ের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
