মন খুলে গান গাওয়া যায় নম্বর দেওয়া যায় না

বললেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

চাইলেই পাবলিক পরীক্ষার খাতায় ‘মন খুলে’ নম্বর দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়, যাতে পাস করেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী; এই হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে অনুষ্ঠিত এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো সবকেন্দ্রকে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছিল। কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে ছিল ‘বডি ওর্ন’ ক্যামেরা। এক সাংবাদিক জানতে চান, কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও পুলিশ সদস্যদের ‘বডি ওর্ন’ ক্যামেরার কারণে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমল কি না। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, মন খুলে নম্বর দেওয়া যায় না।’ আরেক সাংবাদিক বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনটি উৎসবমুখর হয়নি, আপনি অনেকটা ডিপ্লোম্যাটিক আনসার দিচ্ছেন...।’ জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি বলুন উৎসবমুখর...আমি তো বললাম মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া যায় না, এর চেয়ে কী বলতে পারি, বলেন।’ স্কুলের গণ্ডি পেরোনো এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা পাস করা মোট শিক্ষার্থীর ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ।

এই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন। গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। ২০২১ সালে দেশে রেকর্ড ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করে। ২০০৭ সালের পর চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার সবচেয়ে কম। ওই বছর ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। তবে শিক্ষামন্ত্রী মিলন দাবি করেন, এবারের পরীক্ষার ফল খারাপ হয়নি। তার ভাষায়, ‘সুন্দর ফল হয়েছে।’ অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এবার যে—যে নম্বর পেয়েছে, সেটাই দেওয়া হয়েছে।’ খাতা পুনঃপরীক্ষা বা পুনর্মূল্যায়নের যে সুযোগ রয়েছে, সে কথাও মনে করিয়ে দেন শিক্ষামন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মাঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, শিক্ষা বোর্ডগুলো মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।