একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকবে

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম আগের মতোই চলবে। অর্থাৎ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে এবার পাসের হার অনেক বেশি কম হওয়ায় অর্ধেকেরও বেশি আসন খালি থাকবে। প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকবে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উপলক্ষে গতকাল সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানান ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান।

সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, ভর্তি কার্যক্রম আগের মতোই। লটারিও না, ভর্তি পরীক্ষাও না অর্থাৎ প্রচলিত যে বিধান মানে জিপিএ এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদার (পছন্দক্রম) ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ হবে।

বিগত কয়েক বছর ধরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। পরে শিক্ষার্থীর ফলাফল, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং পছন্দক্রম বিবেচনায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।

এই পদ্ধতিতে শুধু কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পৃথক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই পদ্ধতিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। সরকার পরিবর্তনের পর একাদশ শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা চালু হতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা ছিল।

সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালে যত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল তাদের তুলনায় ২০২৬ সালে ভর্তির ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা কিছু বেশি শূন্য থাকবে। সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ ও মাদ্রাসা) ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গতবার ভর্তি হয়েছিল মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ খালি ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বছর পাসের হার আরেকটু কমেছে। সে ক্ষেত্রে আসনসংখ্যা আরেকটু বেশি শূন্য থাকবে।

গত ১০ আগস্ট ২০২৬ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পরীক্ষার্থী। প্রায় সাত লাখ পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এই তথ্য বলছে যদি কারিগরি বোর্ডসহ সব বোর্ডের উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীও ভর্তি হয় তাহলেও ১৩ লাখ ৬১ হাজারের মতো আসন খালি থাকবে। অন্যান্য বছরও আসন খালি থাকে। তবে এবার পাসের হার কম হওয়ায় খালি আসনের সংখ্যা আরও বাড়বে।