হাদি হত্যার আসামি ও হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনের সাক্ষাৎ
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদেরও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বৈঠকে বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। একই সঙ্গে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।’
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে বারবার নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে ঢাকা।
শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে গুলিতে ওসমান হাদি নিহত হওয়ার প্রায় আড়াই মাস পর মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হন। তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়ে আসছে সরকার। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন বলেন, ‘দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।’ তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ভারতের নতুন হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। এ সময় দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় দায়িত্ব পালনের গত দুই মাসের অভিজ্ঞতাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বৈঠকে উঠেছে এবং আমরা তাদেরকে বলেছি এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য। আমরা আশা করি, ভারত এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেবে।’
ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ হাদীর সন্দেহভাজন হত্যাকারীরা ধরা পড়েছে। ভারত যে সমস্ত কাগজপত্র চেয়েছিল, সবই আমরা তাদেরকে দিয়েছি। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা বলেছি, এই হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব আমাদের কাছে প্রত্যর্পণ করার জন্য।’ দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির ওপরও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
৫ আগস্টের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের ব্যাপারে আমাদের যে পজিশন, আমরা ক্লিয়ারলি বলে দিয়েছি। এবং সেটা গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছেন ভারতের কর্তৃপক্ষ। সেটা আমাকে তারা জানিয়েছেন, আজকেও তারা প্রধানমন্ত্রীকে সেটা বলেছেন।’
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। তবে ভারত সরকার জানিয়েছে, ওই আয়োজনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যও ভারত সরকার সমর্থন করে না।
ওই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে অবজ্ঞা করেছেন এবং ভারত তাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘একটা রাষ্ট্রের তিনটা স্তম্ভ থাকে, নির্বাহী, আইন প্রণয়ন এবং বিচার বিভাগ। দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা, তার জায়গা হচ্ছে জুডিশিয়ারি। বাংলাদেশের একটি কম্পিটেন্ট কোর্ট তার বিচার করেছে, তাকে দণ্ড দিয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিষয়ে কী হয়? তাকে কাস্টডিতে নেওয়া হয় এবং তার যদি কিছু বক্তব্য থাকে, আত্মপক্ষ সমর্থনের কিছু থাকে, সেটা আদালতে বলবে।’
