মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
* মনোনয়নপত্র জমা * বিএনপি থেকে পদত্যাগ * মহাসচিব পদে ভারপ্রাপ্ত রিজভী নাকি অন্য কেউ * তিন শূন্যপদে আলোচনায় যারা * মন্ত্রিসভায় রদবদলের আভাস
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

গেল কয়েক দিন ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান হতে চলেছে। বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। বর্ষীয়ান এ নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করেছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মির্জা ফখরুলকে শুভেচ্ছা জানান। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতার কথা ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিছুক্ষণ আগে দলের সম্মানিত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
তার কিছু সময় পর রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেয় বিএনপি। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে এ মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা, সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন। ‘ঘোষণা ও বিবৃতিসহ’ মনোনীত প্রার্থীর সই, প্রস্তাবক ও সমর্থকের নাম, ঠিকানা, সই সম্বলিত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। দুপুর আড়াইটায় মনোনয়নপত্র নিয়ে নির্বাচন ভবনে আসেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এ২ম আশরাফ উদ্দিন নিজান; দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ও হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ প্রতিনিধি দল। মনোনয়নপত্র গ্রহণকালে সিইসির সঙ্গে ইসি সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, এদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের শুরুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানেই বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ান মির্জা ফখরুল।
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল; তবে জমা দেওয়া হয়েছে একটি। এ মনোনয়পত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থক হলেন যথাক্রমে আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তার দপ্তরে আবেদনটি দুপুরে জমা দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারীর নাম দেওয়া হয়েছে বিএনপির নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান। সমর্থনকারী হলেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুল ইসলামের রাষ্ট্রপতি হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার।
বিএনপি থেকে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ : রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। রিজভী জানান, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
এরমধ্যে দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। মির্জা ফখরুলের প্রস্থানে ফাঁকা হতে যাওয়া তিনটি হেভিওয়েট পদের সম্ভাব্য উত্তরসূরি কারা? একই সঙ্গে শূন্য হতে যাওয়া পদ তিনটি হলো- বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন। এসব পদে কে বা কারা আসছেন সে আলোচনাই এখন সর্বত্র।
মহাসচিব পদে ভারপ্রাপ্ত রিজভী নাকি স্থায়ী কমিটির কেউ : ২০১১ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত এবং ২০১৬ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে বিএনপির চালিকাশক্তি ছিলেন মির্জা ফখরুল। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি বিএনপির মহাসচিবের পদে রয়েছেন। মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন।
বিশেষ করে দলের দুই প্রধান নেতা খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে নির্বাসনের পুরোটা সময় তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ছয়বার কারাগারে যান। বিগত সরকারের নানামুখী নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখে তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এখন মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি কে- এ নিয়ে দলের ভেতরে কয়েক দিন ধরে দুজন নেতার নাম বেশি আলোচনায় এসেছে। তাঁদের একজন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্যজন যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে বা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলটি প্রাথমিকভাবে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ করতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিলে বা তার আশপাশের সময়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন করেননি, তাঁকে মন্ত্রিসভায়ও রাখা হয়নি। তাই মহাসচিবের পদ শূন্য হলে রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল নেতাদের কেউ কেউ। বিকল্প হিসেবে স্থায়ী কমিটির কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও, মাঠপর্যায়ের বার্তা এবং কার্যালয়কেন্দ্রিক সক্রিয়তার বিচারে রিজভীর নামই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে, মহাসচিবের দৌড়ে আলোচনায় আছেন ডা. এজেডএম জাহিদ ও হাবিবুন নবী খান সোহেলের নাম।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়- মন্ত্রিসভায় রদবদলের আভাস : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিকভাবে সরকারের সবচেয়ে প্রভাবশালী দপ্তরগুলোর একটি। মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করলে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার হাতে যাবে, তা নিয়ে সচিবালয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান মন্ত্রিসভার অভিজ্ঞ কোনো সিনিয়র মন্ত্রীকে এই দপ্তরের বাড়তি দায়িত্ব দিতে পারেন অথবা দপ্তর পুনর্বণ্টন করতে পারেন। ফখরুলের মন্ত্রণালয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচনায় আছেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
অন্যদিকে, নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন বর্তমান পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বিএনপির রাজনৈতিক মহলে তার নামটিই বেশি আলোচিত হচ্ছে। তবে আজকালের মধ্যেই প্রতিটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাবে। অন্য একটি হিসাব বলছে, নতুন কাউকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আনা হতে পারে। তবে সরকারের শুরুতেই এত বড় মন্ত্রণালয়ে অনভিজ্ঞ কাউকে বসানোর ঝুঁকি হাইকমান্ড নেবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসন- আসন শূন্য ও উপনির্বাচন : সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করলে তার সংসদীয় আসনটি পদাধিকারবলে শূন্য হয়ে যায়। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় সংসদ সচিবালয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করবে। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ওই আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। উত্তরাঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে এর মধ্যেই সমীকরণ শুরু হয়েছে। মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা বাবার আসনে নির্বাচন করতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।
তিনি গত নির্বাচনে বাবা মির্জা ফখরুলের জন্য ভোটের মাঠে কাজ করেছেন। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন এবং সেখানে সমাজসেবামূলক কাজের জন্য তার বেশ পরিচিতি রয়েছে। এ ছাড়া আলোচনায় আছেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন। এর আগে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় তিনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল : বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গেল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপতি পদশূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন গত ৬ অগাস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
মনোনয়নপত্র দাখিল : ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)।
মনোনয়নপত্র যাচাই : ১৬ অগাস্ট সকাল ১০টা থেকে বাছাই পযন্ত (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় : ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)।
ভোট : ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষ)
ভোটাভুটি ফের
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হয়। মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক সই থাকতে হয়। মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাইয়ের স্থান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়। আর ভোট হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে।
বাছাইয়ে বৈধপ্রার্থী একজন হলে নির্বাচন কমিশন তাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে তাদের মধ্যে ভোট হবে। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হচ্ছে এবার। বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র এদিনই জমা দিয়েছে বিরোধী জামায়াত জোট।
এবার ভোটার ৩৪৯ জন : সংসদ কক্ষে ভোটের প্রস্তুতিমূলক সভাও হয়েছে। নির্বাচনি কর্তা ২০ আগস্ট সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বেলা ২টায় সংসদ সদস্যের বৈঠক ডেকেছেন। সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এরমধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ্য সদস্য ২৪৭ জন; জামায়াতের ৭৭ জন। এছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিসের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন সংসদে।
সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে এমপিরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে। চিফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং এটা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্যকর হবে।’
