নতুন রাষ্ট্রপতি জনগণের পাশে থাকবেন, আশা সাধারণ মানুষের
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে গতকাল শুক্রবার শপথ নিতে নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নবনির্বাচিত এ রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালনকালে দেশ ও জনগণের পাশে থাকবেন- এমন আশার কথাই জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের পরও বিএনপির হাল ধরে রাখা মির্জা ফখরুলকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তার দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিতে তার রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেবেন। গতকাল রাজধানীর গুলিস্তানে বঙ্গভবনের আশপাশের এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপকালে তারা এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এই বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নতুন রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। বঙ্গভবন এলাকায় ফুটপাতে ব্যবসা করেন চান্দু মিয়া। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ঢাকায় ব্যবসা করলেও বঙ্গভবন এলাকায় আছেন ২০০৪ সাল থেকে।
চান্দু মিয়া বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির অনেক দায়িত্ব ও ক্ষমতা। একজন খুনের আসামিকেও চাইলে রাষ্ট্রপতি মাফ করে দিতে পারেন। এবার সম্মানী লোককে রাষ্ট্রপতি বানিয়েছে। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’ তবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নিয়ে ভিন্ন কথা শোনা গেল রিকশাচালক মানিকের কণ্ঠে। তিনি গুলিস্তান এলাকায় আট-নয় বছর ধরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি তো রাষ্ট্রপতিই। হের কোনো কাম আছে? আমাদের দেশে রাষ্ট্রপতির কোনো কাজ নাই।’ আরেক ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলামের কাছে নতুন রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল অরিজিনালি ভালো মানুষ। তার ঢাকা শহরে একটা বাড়ি নাই, কিচ্ছু নাই। ব্যক্তিগতভাবেই তিনি ভালো মানুষ। কত নির্যাতন হয়েছে তার ওপর; কিন্তু দলটা এতদিন ধরে রেখেছেন। আশা করছি, আমাদের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি অনেক ভালো হবেন। একজন যোগ্য মানুষকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হয়েছে।’ বঙ্গভবনের সামনের ফুটপাত ধরে গুলিস্তানের দিকে যাচ্ছিলেন পথচারী মোজাম্মেল। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির যোগ্যপ্রার্থী ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবেও ধারণা করেছিলাম, তিনিই আছেন।
আশা করি, আমাদের নতুন রাষ্ট্রপতি দেশ ও দেশের সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন সবসময়।’ আরেক পথচারী রেজওয়ান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। আমি মনে করি, রাষ্ট্রপতি হিসেবে সঠিক মানুষ দায়িত্ব পেয়েছেন। তার সঠিক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আমরা চাই রাষ্ট্রপতি সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন।’
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর গত বৃহস্পতিবার দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থী নিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হয়। এর আগে টানা কয়েকবার নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। সাদা কাগজে কালো কালিতে ছাপা ব্যালট পেপারে ভোট দেন ভোটাররা। সংসদ অধিবেশন কক্ষে তিনটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ভোট দেন তারা।
ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে জয়ী হন মির্জা ফখরুল। তিনি ২৫৫ ভোট পান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
একই দিন রাত দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলকে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ১১ ধারা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর ১২(৬) বিধি অনুযায়ী নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণার ভিত্তিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করা হলো।
প্রজ্ঞাপনে মির্জা ফখরুলের বাবা মির্জা রুহুল আমিনের নাম এবং ঠিকানা ঠাকুরগাঁও সদরের ঠাকুরগাঁও পৌরসভার কালিবাড়ী গ্রাম উল্লেখ করা হয়।
