যানজটে নাকাল নগরবাসী নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা

নিয়ন্ত্রণে ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ মহানগর। এটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক রাজধানী, অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসার জন্য ঢাকায় আসেন। কিন্তু সম্ভাবনার এই শহর আজ এক গভীর সংকটে আক্রান্ত-যানজট। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরের মোট ভূমির মাত্র প্রায় ৭-৭.৫ শতাংশ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অথচ উন্নত বিশ্বের অনেক বড় শহরে সড়কের জন্য ২৫ শতাংশ বা তারও বেশি ভূমি বরাদ্দ থাকে। এই সীমিত সড়ক নেটওয়ার্কের ওপর প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মোটরযান ও অমোটরযান চলাচল করে, ফলে যানজট কার্যত অনিবার্য হয়ে ওঠে। নাগরিকরা গতিশীল জীবনকে ছন্দময় করার জন্যই পরিবহন ব্যবহার করেন। আমাদের মহানগরবাসীর যাপিত জীবনে ছন্দপতনই ঘটছে মান্ধাতার আমলের গণপরিবহন ও চরম অব্যবস্থাপনা জন্য। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট ও চরম ভোগান্তিতে দিশাহারা নগরবাসী। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও সড়ক দেবে যাওয়ার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো রয়েছেই, তার ওপর যোগ হয়েছে নানা দাবিতে রাজপথ অবরোধ, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির জন্য সড়কের ওপর মঞ্চ তৈরি এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নকাজ।

রাজধানীর যানজট সব সময় সড়কে গাড়ির চাপ থেকেই শুরু হয় না। নাগরিক সমস্যার সমাধান না হওয়া, কর্মসূচি ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, অপরিকল্পিত সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি, অর্থায়নে বিলম্ব এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যর্থতার চাপও শেষ পর্যন্ত সড়কে এসে পড়ে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড় বন্ধ হলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, গণপরিবহনের যাত্রীসহ জরুরিসেবার মানুষজন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের জুলাই ও আগস্ট মাসের দুটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ট্রাফিক অব্যবস্থাপনার চেয়েও বিভিন্ন প্রশাসনিক বা নাগরিক অসন্তোষের প্রভাবেই ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো একের পর এক অচল হয়ে পড়ছে।

ডিএমপির অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে : ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের জুলাই ও আগস্ট মাসে তৈরি করা দুটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে ঢাকার যানজটের সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। জুলাই মাসে রাজধানীতে তীব্র যানজট সৃষ্টির ২১টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে অন্তত ১৬টি ঘটনায় আন্দোলনকারী, স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা যানবাহনের চালকেরা সড়ক বন্ধ বা দখল করেছিলেন। বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনা ছিল পাঁচটি। একটি ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশকেই সড়ক বন্ধ করতে হয়েছিল। তবে একই দাবি বা কর্মসূচির কারণে একাধিক মোড় বন্ধ হওয়ার প্রতিটি ঘটনাকে আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে একটি কর্মসূচির প্রভাব একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকার যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

জুলাইয়ের পৃথক আট দিনে এসব ঘটনা নথিভুক্ত করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটে ১৪ ও ১৫ জুলাই। দুই দিনেই তালিকাভুক্ত হয় ১০টি ঘটনা। ১৪ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিএনএস টাওয়ার ও আশপাশের সড়ক, সায়েন্স ল্যাবের উত্তর পাশ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে এবং আইসিবি ইনকামিং সড়ক বন্ধ করে দেন। একই দাবিতে পরদিন বিএনএস সেন্টারের ইনকামিং ও আউটগোয়িং সড়কও বন্ধ করা হয়। ১৫ জুলাই আইসিবি চত্বর ও গুলশান-১ এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। শাহবাগ মোড়ের মাঝখানেও অবস্থান নিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেন তারা। একই দিনে নিরাপত্তার কারণে সচিবালয়ের সামনে আবদুল গণি রোডের ইনকামিং ও আউটগোয়িং সড়ক বন্ধ করে দেয় ডিএমপির ক্রাইম কন্ট্রোল বিভাগ। তথ্য অনুযায়ী, শুধু শিক্ষা-সম্পর্কিত দাবি ও পরীক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে দুই দিনে নয়টি স্থানে তীব্র যানজট হয়।

দাবির ধরন আলাদা, ফল একই : ডিএমপির ট্রাফিক পুলিশের প্রতিবেদনে জুলাইয়ের প্রথম ঘটনাটি ৪ জুলাইয়ের। মিরপুর-১০ এলাকায় ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিচারের দাবিতে স্থানীয় লোকজন সড়ক বন্ধ করে দেন। পরদিন গুলিস্তানে অটোরিকশা ডাম্পিংয়ের প্রতিবাদে সড়ক বন্ধ করেন অটোরিকশাচালকরা। ১২ জুলাই ইউবিএল ক্রসিং এলাকায় করোনার সময়ে শিক্ষাজীবন শেষ করা চাকরিপ্রার্থীরা সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে রাস্তা বন্ধ করেন। ২২ জুলাই তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে সিএনজি চালকরা খিলক্ষেত থানা ও লা মেরিডিয়ানের সামনের আউটগোয়িং সড়ক অবরোধ করেন। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ছাত্র ফেডারেশনের কর্মীরা সড়কে চেয়ার-টেবিল রেখে কর্মসূচি পালন করেন।

এসব ঘটনায় দেখা যায়, নাগরিক বা প্রশাসনিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের পথ না পাওয়া গেলে তার চাপ গিয়ে পড়ছে সড়কের ওপর। দাবি আদায়ে রাস্তা বন্ধ করা দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণের কৌশল হলেও এর মূল্য দিতে হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সের রোগী, অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, গণপরিবহনের যাত্রী ও জরুরি সেবাগুলোকে।

বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতাও বড় কারণ : রাজনৈতিক ও নাগরিক কর্মসূচির বাইরে জুলাইয়ে যানজটের বড় কারণ ছিল বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা। ১২ জুলাই সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে যায়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারওয়ান বাজার অংশের নিচে এবং বনানী, খিলক্ষেত, ঢাকা গেটসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। একই দিন অতিবৃষ্টিতে নারিন্দা ক্রসিংয়ে সড়কের চার থেকে পাঁচ ফুট অংশ দেবে যায়। এতে বড় যানবাহন ওই সড়ক দিয়ে চলতে পারেনি। পরদিন আইসিবি চত্বর ক্রসিংয়ে প্রায় তিন ফুট পানি জমে। পল্লবী থানা থেকে প্রায় ৩০০ গজ সামনে আইসিবি চত্বরের দিকে যাওয়ার সড়কেও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে কলশী বস্তির বাসিন্দারা সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেন।

আগস্টেও একই চিত্র : ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ চলতি আগস্ট মাসে সড়কে যানজটের ২০টি কারণ চিহ্নিত করে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেই প্রতিবেদনেও যানজটের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, নানা দাবিতে সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সড়কে মঞ্চ তৈরি ও লোকসমাগম করায় যাত্রাবাড়ীর পপুলার হাসপাতালের সামনে যানজটের সৃষ্টি হয়। একই দিনে সুপেয় পানির দাবিতে বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করলে মিরপুর-১০ নম্বরে যানজট হয়।

১২ আগস্ট যুব দিবস উপলক্ষে র‌্যালি বের হলে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কসহ মৎস্য ভবন ও কাকরাইল ক্রসিংয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ৯ আগস্ট সহপাঠী বাসচাপায় নিহত হওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা উত্তরার রাজলক্ষ্মী ও বিএনএস সেন্টারের সামনে এবং রমনা ডিসি ক্রাইম কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। ৮ আগস্ট সরকারদলের অনুষ্ঠানের কারণে মঞ্চ তৈরির জন্য যাত্রাবাড়ী এলাকায় তীব্র যানজট হয়। ৬ আগস্ট মুক্তাঙ্গনে ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে লোকসমাগম হওয়ায় গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

জলাবদ্ধতা ও সড়ক নকশার ভুল : ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রাজনৈতিক বা নাগরিক কর্মসূচির বাইরে অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি ও বৃষ্টিপাতও জট বাড়িয়ে দিচ্ছে। রামপুরা-বাড্ডা সড়কে মেট্রোরেল ও ওয়াসার কাজ, ফ্লাইওভারের নিচে দুই লেনের সংকুচিত সড়ক, নিমতলীর মতো পয়েন্টে ভুল ট্রাফিক নকশা এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সড়ক দেবে যাওয়া কিংবা পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচলের গতি থমকে যাচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর সড়কের একটি বড় অংশ অবৈধ দখলে থাকার অভিযোগও রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে যত্রতত্র পরিবহন দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। আবার রাজধানীতে চলাচল করা বিপুলসংখ্যক গণপরিবহনের তুলনায় সড়কের বিস্তৃতিও পর্যাপ্ত নয়। এর সঙ্গে প্রতিদিন বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। সব মিলিয়ে ঢাকার সড়কে যানবাহনের চাপও যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।

অর্থায়ন বিলম্ব ও সমন্বয়হীনতা : বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, শুধু বিভিন্ন সংস্থার কাজের সময়সূচির সমন্বয় করলেই যানজট কমবে না। অর্থায়নের সমন্বয়ও একই পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, ‘সময়মতো অর্থ না পাওয়ায় বছরের শেষ দিকে জুনের দিকে এসে সব কাজ একসঙ্গে করার তাগিদ তৈরি হয়, যা জট বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া সমাবেশ বা মিছিল করা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সড়কের ওপর না করে পূর্বাচলের মতো বড় উন্মুক্ত স্থানে সমাবেশ আয়োজনের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। কারণ সড়কগুলো স্বাভাবিক যান চলাচলের জন্য তৈরি, অতিরিক্ত চাপের জন্য নয়।’

প্রতিদিনের কারণ ভিন্ন : ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, রাজধানীর কোথায়, কখন এবং কী কারণে যানজট হচ্ছে, তার প্রতিবেদন প্রতিদিন রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিদিনের যানজটের কারণ এক নয়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘এখন থেকে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। প্রতিদিনের যানজট ট্রাফিকের কারণে হচ্ছে না, এটি বাইরের নানা ঘটনার প্রভাব হিসেবে হচ্ছে। সড়কে হঠাৎ মঞ্চ বানিয়ে কর্মসূচি করলে পুরো এলাকার যান চলাচল থমকে যায়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাভাবিক রাখা তাদের জন্য কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে সন্ধ্যায় ভারী বৃষ্টিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো শহরের যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কখনও হল দখলকে কেন্দ্র করে ঘটনা ঘটছে, কখনও সায়েন্স ল্যাব, সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজ এলাকায় সংঘর্ষ হচ্ছে। ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের প্রভাবও সড়কে পড়েছে। আবার একদিন সন্ধ্যায় ব্যাংক এশিয়ায় আগুন লাগার কারণেও যানজট হয়েছে।

যানজট নিয়ন্ত্রণে ড্রোন যুক্ত করার পরিকল্পনা : রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরার পর এবার ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএমপি। পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি ড্রোনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত, সতর্কবার্তা প্রদান এবং পরবর্তী সময়ে অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিডার (এএনপিআর) যুক্ত করে ভিডিও মামলা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘ড্রোন সার্ভিলেন্স পৃথিবীর বহু দেশে আছে। তবে এটি আমাদের জন্য একেবারে নতুন একটি কনসেপ্ট। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও যানজট তৈরি হয়। অনেক সময় এসব যানজটের সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না বা জানতে দেরি হয়। সেজন্য আমরা চিন্তা করেছি, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় যদি আমরা ড্রোন সার্ভিলেন্স চালু করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের তাৎক্ষণিক রিয়েল টাইম ইনফরমেশন দেবে। এতে আমাদের জন্য নির্দেশনা দেওয়া সহজ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ড্রোনে যদি অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়, তাহলে এখান থেকে আমার ভিডিও মামলা দেওয়া সম্ভব হবে।’ তার মতে, ড্রোনে ভয়েস বা শব্দের ব্যবস্থাও থাকবে। এর মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনকে সতর্কবার্তা দেওয়া যাবে। যেমন কোনও গাড়ি যানজট সৃষ্টি করলে ড্রোন থেকে বলা যাবে, ‘আপনি যানজট সৃষ্টি করছেন, সরে যান।’ ডিএমপির বিশ্লেষণে দেখা যায়, নাগরিক বা প্রশাসনিক সমস্যার বিকল্প সমাধান না পেয়ে বারবার রাজপথ স্তব্ধ করার প্রবণতা, অপরিকল্পিত উন্নয়নকাজ, জলাবদ্ধতা, অর্থায়ন ও সমন্বয়হীনতা; সব মিলিয়ে রাজধানীর যানজট এখন শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমস্যা নয়। এর প্রভাব পড়ছে পুরো নগরজীবনে।