ইলিয়াস আলী ‘গুম’ মামলা
জামিন মেলেনি, উইং কমান্ডার সাইফ কারাগারে
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে ‘গুমের’ অভিযোগে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল রোববার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেয়। একইসঙ্গে এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে আদালত। এর আগে গতকাল রোববার সকাল সকাল ৯টার কিছু আগে বিমান বাহিনীর একটি মাইক্রোবাসে করে সাইফুর রহমানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে হাজতখানায় রাখা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে গত ৯ অগাস্ট সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল ট্রাইব্যুনাল-১। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গতকাল রোববার হাজির করা হয়। আদালতে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। তবে সাইফুর রহমানের আইনজীবী তাবারক হোসেন জামিন চান।
শুনানিতে আইনজীবী তাবারক বলেন, ‘২০০৩ সালে বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত সাইফুর রহমান একজন চৌকস কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ নেই। অনেক আসামি পালিয়ে গেলেও তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হয়েছেন।’
তদন্তের প্রয়োজনে যখনই সাইফুর রহমানকে দরকার হবে, তিনি সহায়তা করবেন দাবি করে তাবারক তাকে বিমান বাহিনীর হেফাজতে রেখে জামিনের আবেদন করেন। এর বিরোধিতা করে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাইফুরের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। ইলিয়াস আলীর গুম ছাড়াও বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে।’ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল সাইফকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এ সময় কৌঁসুলি মিজানুল ইসলাম, শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলাম ও মঈনুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
শতাধিক ‘গুমণ্ডখুনের’ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েস জবানবন্দি দেন। সেখানে ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে। এরপর গত ২৬ জুলাই রাতে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) সাইফকে তার বাসা থেকে আটক করে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখে। এদিকে আদালতের আদেশের পর উইং কমান্ডার সাইফকে কোন কারাগারে পাঠানো হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখনও আমরা লিখিত আদেশ পাইনি। লিখিত আদেশ পাওয়ার পরে বলতে পারব, তাকে কোন কারাগারে পাঠানো হবে। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়, যার সঙ্গে র্যাবের গোয়েন্দা শাখা সরাসরি জড়িত ছিল বলে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের ভাষ্য। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার সময় বিমানবাহিনীর তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ বিমান সদর দপ্তরের ডিরেক্টরেট অব এয়ার ট্রেনিংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম গত ৯ আগস্ট প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীর জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুরের সরাসরি সম্পৃক্ততার ‘প্রমাণ’ পাওয়া গেছে। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চালিয়ে যাওয়া কথা বলেছিলেন আমিনুল।
