ঝুঁকিতে স্লিপার বাসের বিনিয়োগকারীরা

বসতে চায় বিআরটিএ

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে পরিবহন খাতের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতি। একইসঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাবে স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।

গতকাল রোববার রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ সদর দপ্তরে চেয়ারম্যান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বাবু।

তিনি বলেন, ২০১০ সাল থেকে দেশের মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচল করছে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় এক হাজার স্লিপার বাস চলাচল করছে এবং এ খাতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। চালক, হেলপার, সুপারভাইজারসহ প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এ খাতের সঙ্গে জড়িত।

তৌহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, দেশের পর্যটনকেন্দ্র ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে যাত্রীরা আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের জন্য স্লিপার বাস ব্যবহার করছেন। মহাসড়কে স্লিপার বাসের দুর্ঘটনার হারও তুলনামূলক কম।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ মহল ব্যবসায়িক স্বার্থে স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে অভিযান পরিচালনা করাচ্ছে। অথচ এসব বাসের টিকিট বিক্রি, ভ্যাট-ট্যাক্স ও অন্যান্য খাত থেকে সরকার নিয়মিত রাজস্ব পাচ্ছে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্লিপার বাসের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট বিচারাধীন রয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকেও স্লিপার বাসের নকশা ও নিরাপত্তা বিষয়ক মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আদালতের রায় এবং সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে হঠাৎ করে অভিযান চালিয়ে লাখ লাখ টাকা জরিমানা করা হচ্ছে, যা মালিকদের হয়রানির শামিল।

স্লিপার বাস বন্ধের পরিবর্তে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে সরকার গাইডলাইন দিক, আমরা তা মেনে চলব। কিন্তু হঠাৎ করে এই পরিবহনসেবা বন্ধ করে দিলে যাত্রীরা বিকল্প সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন, সরকার রাজস্ব হারাবে এবং হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বেন।

তিনি আরও দাবি করেন, স্লিপার বাসকে ‘ডাবল ডেকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করা সঠিক নয়। এসব বাস একতলা কাঠামোর মধ্যেই বিশেষ নকশায় তৈরি করা হয়েছে এবং আকার-আকৃতিতেও অন্যান্য দূরপাল্লার বাসের সমতুল্য।

এ সময় মালিক সমিতির নেতারা সাংবাদিকদের স্লিপার বাসে ভ্রমণ করে এর নিরাপত্তা ও আরামদায়ক পরিবেশ সরেজমিনে দেখার আহ্বান জানান।

স্লিপার বাস নিয়ে মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে বিআরটিএ : স্লিপার বাস চলাচল নিয়ে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির দাবিগুলো নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান। তবে প্রচলিত আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ সদর দপ্তরে স্লিপার বাস মালিক সমিতির স্মারকলিপি গ্রহণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘সমিতির স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তবে আইনের বিষয়ে কোনো দ্বিমতের সুযোগ নেই। আইন বাস্তবায়নে বিআরটিএ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রচলিত আইন সবার জন্য সমান। প্রত্যেক নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানকে আইন মেনেই চলতে হবে। স্লিপার বাসসহ যেকোনো ধরনের সংস্কার বা পরিবর্তনের বিষয়ে মালিকদের বক্তব্য শোনা হবে। এরপর আইন অনুযায়ী বিআরটিএর পক্ষ থেকে যতটুকু ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব, তা করা হবে।’

মালিকদের পক্ষ থেকে স্লিপার বাস বন্ধ না করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করার দাবির বিষয়ে হাবীবুর রহমান বলেন, ‘যেকোনো সংগঠন তাদের দাবি ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে পারে। বিআরটিএও তাদের বক্তব্য শুনবে। তবে আইন লঙ্ঘন করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই।’ এর আগে স্লিপার বাস চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং এ ধরনের বাসের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির দাবিতে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দেয় বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতি।

সমিতির নেতারা বলেন, স্লিপার বাস পুরোপুরি বন্ধ না করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কারিগরি ও নিরাপত্তাবিষয়ক কাঠামো নির্ধারণ করা উচিত। এ জন্য একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়ন করে স্লিপার বাস চলাচলের সুযোগ দেয়ার দাবি জানান তারা।

তাদের দাবি, স্লিপার বাস খাতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এ খাতের সঙ্গে চালক, হেলপার, সুপারভাইজার ও মেকানিকসহ হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। তাই সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আইনসম্মতভাবে স্লিপার বাস চলাচলের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান মালিকরা।