গুম প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি : আসক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, গুমের অবসান ঘটাতে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। গুমের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
সেইসথে অতীতের ঘটনাগুলোর সত্য উদঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুমের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। গতকাল শনিবার আসকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আসক গুমের শিকার সব ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়ে গুমের অবসান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে সত্য উদঘাটন এবং প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আইনের সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।
আজ রোববার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানানো, গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে সত্য উদঘাটনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করার দিন এটি।
আসক বলছে, এ বছর দিবসটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, ২০০৬ সালে জাতিসংঘের গুম থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন (আইসিপিপিইডি) গ্রহণের ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘Victims first. Actions now’-ভুক্তভোগীদের অধিকার ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
বাংলাদেশও দীর্ঘ সময় ধরে গুমের অভিযোগ এবং এর ভয়াবহ মানবিক পরিণতির অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী কনভেনশনে যোগ দেয়। এটি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার।
কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, কনভেনশনে যোগ দেওয়ার পরও ২০২৬ সালে দেশে নতুন করে গুমের অভিযোগ উঠেছে। বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখ নামের এক তরুণকে কোস্ট গার্ড সদস্যরা আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর তার আর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না-এমন অভিযোগ তার পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করেছে। আসক এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। একইসঙ্গে খসড়াটির কিছু বিধান নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যে উদ্বেগ রয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আইনটি চূড়ান্ত করার আগে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার, মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হলে তা আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হবে।
