আরও বাড়তি দরে ৪ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আরও বেশি দরে চার কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১০ দিন আগে কেনা প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির চেয়ে দাম বেশি পড়ছে সাড়ে তিন ডলারের মতো করে। চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
২৪ অগাস্ট দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। তখন একটি কার্গোর ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউয়ের (মিলিয়ন মেট্রিক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) খরচ দেখানো হয় ২৪ দশমিক ৬২ ডলার। অন্যটিতে এ দর ছিল ২৪ দশমিক ২৫ ডলার।
নতুন চার কার্গোর মধ্যে বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই থেকে এক কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ধরা হয়েছে ২৮ দশমিক ০৩ ডলার।
আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে এক কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ধরা হয়েছে ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার। আর ভাইটল এশিয়ার কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ ধরা হয়েছে ২৬ দশমিক ৬৭ ডলার।
অপর আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে অপর কার্গো অবশ্য কম মূল্যে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে; ওই কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩ দশমিক ৯৮ ডলার।
এর ৫ দিন আগে ১৯ অগাস্ট ক্রয় কমিটির বৈঠকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়; সেখানে প্রতি এমএমবিটিইউ খরচ ধরা হয়েছিল ২৩ দশমিক ৯৩ ডলার।
তার মানে শুধু ১৫ দিনের মধ্যে প্রতি এমএমবিটিইউ কেনায় খরচ বাড়ল ৪ ডলার ১০ সেন্ট পর্যন্ত।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি মূল্যে এলএনজি কেনার ব্যয় প্রকাশ করে আসছিল। তখন বেশির ভাগ সময়ই কার্গো প্রতি খরচা ৭০০ কোটি টাকার আশপাশে ছিল। জুলাইয়ে তা বাড়তে বাড়তে ৯৪৩ কোটি টাকা ছাড়ায়। গত ৩০ জুলাই ক্রয় কমিটির বৈঠকে যে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়, তাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর ২৬ দিনের মাথায় এলএনজির প্রতি কার্গো কেনায় ৭০ কোটি টাকার মতো বাড়তি খরচ হচ্ছে। গত ২১ জুলাই আগুনে এক্সিলারেটের টার্মিনালের বৈদ্যুতিক শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ অগাস্ট টার্মিনালটি আংশিক চালু হয়। পরে কারিগরি সমস্যা ও কার্গোর স্বল্পতায় সেখানকার সরবরাহ কয়েক দফা ওঠানামা করে।
দুই বছরে এলএনজি আমদানি ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের : প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি কূপ খননের কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মহিলা আসন-৩৫-এর সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।
