বিকল্প জ্বালানির সন্ধানে সরকার
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা, আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতার মধ্যে বিকল্প জ্বালানির উৎস খুঁজতে তৎপর হয়েছে সরকার। প্রচলিত গ্যাস, তেল ও কয়লার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি, বায়োগ্যাস, বায়োমাস, বর্জ্য থেকে জ্বালানি এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে উৎপাদনযোগ্য জ্বালানির উৎস চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এজন্য প্রচলিত গ্যাস, তেল ও কয়লার পাশাপাশি বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস খুঁজছে সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জমি ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি, বায়োগ্যাস, বায়োমাস এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নতুন নীতিমালা ও গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস খুঁজছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে 'আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে। সরকার সম্ভাব্য সব বিকল্প উৎসের মাধ্যমে সংকট সমাধানে চেষ্টা করছে। প্রয়োজনে আফ্রিকা থেকেও জ্বালানি আমদানি করা হবে। আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলনে দেশের অর্থনীতিসহ জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সঠিক পথে নিতে সময় প্রয়োজন। এরইমধ্যে বর্তমান সরকার ব্যাংকিং খাতকে স্বচ্ছ করতে কাজ করছে। দেশের বিভিন্ন খাতে গুণগত পরিবর্তন আনতেও চেষ্টা চলছে। তবে এজন্য আরও সময় লাগবে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবৈধ অভিবাসন বন্ধেও কাজ চলছে। রোহিঙ্গা সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ সম্মেলনে আলাদা একটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করা কঠিন।
সরকারের নতুন পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ দ্রুত বাড়ানো। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের পথ সহজ নয়। বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান ভিত্তি এখনও গ্যাস, তরল জ্বালানি ও কয়লা। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সরকারের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানির স্থাপিত সক্ষমতা ছিল প্রায় ১ হাজার ৬৯৫ মেগাওয়াট।
এ অবস্থায় আগামী কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। আর এ জন্যই নতুন করে জমি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর দিকে নজর দিচ্ছে সরকার।
সৌরবিদ্যুতে সবচেয়ে বেশি জোর : বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতায় সৌরশক্তিকেই সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে দেখছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিভিন্ন উৎসের মধ্যে সৌরশক্তির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এর বাইরে বায়ু, বায়োগ্যাস, বায়োমাস, পৌর বর্জ্য এবং সীমিত পরিসরে জলবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় জমির সংকট থাকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিল্পকারখানা, সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাণিজ্যিক ভবনসহ বড় স্থাপনার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্রেডার তথ্য অনুযায়ী, গ্রিড-সংযুক্ত ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে জমির সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় গ্রাহক নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারেন। এ জন্য মাঝারি ও বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে নেট-মিটারযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি জমিতে সৌরবিদ্যুৎ : বিকল্প জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে নতুন একটি সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি। চলতি বছর সরকার সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জমি ব্যবহার করে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আলাদা গাইডলাইন করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত জমি পাওয়া। কৃষিজমি ব্যবহার করে বড় প্রকল্প করলে খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তাই সরকারি জমি, পরিত্যক্ত বা কম ব্যবহারযোগ্য জমি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমি কাজে লাগানো গেলে একদিকে জমির সংকট কমবে, অন্যদিকে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ এরই মধ্যে ২০২৬ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি জমি ব্যবহারের গাইডলাইন প্রকাশ করেছে।
বর্জ্যও হবে জ্বালানি : নবায়নযোগ্য জ্বালানির নতুন উৎস হিসেবে বর্জ্যকেও কাজে লাগাতে চাইছে সরকার। দেশের বড় শহরগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কঠিন বর্জ্য তৈরি হলেও এর একটি বড় অংশ এখনও যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এই বর্জ্যকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নীতিমালা তালিকায় চলতি বছর 'বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ' উৎপাদনের ব্যবসায়িক মডেল প্রণয়নের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন করতে হলে প্রথমেই বর্জ্য পৃথকীকরণ, সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে না; কেন্দ্রের জন্য নিয়মিত ও মানসম্মত বর্জ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি।
বায়ু ও বায়োমাসের সম্ভাবনা : সৌরশক্তির পাশাপাশি দেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুশক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় বাতাসের গতি ও প্রবাহ নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে এবং হচ্ছে। তবে সৌরশক্তির তুলনায় বায়ুবিদ্যুতের প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ বেশি। কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত সময় ধরে প্রয়োজনীয় গতির বাতাস পাওয়া যায় কি না, সেটি নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে যাচাই করতে হয়। অন্যদিকে কৃষি ও প্রাণিসম্পদনির্ভর অর্থনীতির কারণে বায়োমাস ও বায়োগ্যাসের সম্ভাবনাও রয়েছে। ধানের তুষ, খড়, আখের ছোবড়া, কাঠজাতীয় বর্জ্য, গোবর ও পোলট্রি বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যেও এসব উৎসকে সম্ভাব্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের আকার বাড়ছে : দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প জ্বালানির প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৭টি এবং মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৩৩ হাজার ৯২ মেগাওয়াট। এতে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সময়ে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়লেও ভবিষ্যতে শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও নগরজীবনে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে। ফলে শুধু উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো নয়, কোন উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে— সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আমদানিনির্ভরতা কমানোর চাপ : বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বারবার চাপে ফেলেছে। আমদানি করা জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়ে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ তৈরি হয়। এই বাস্তবতায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য জ্বালানি উৎসের ব্যবহার বাড়ানোকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌরশক্তি, বায়ু, বায়োগ্যাস ও বায়োমাসের মতো উৎস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করা গেলে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব। সরকারের বিদ্যমান পরিকল্পনাতেও জ্বালানি বহুমুখীকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নীতিগত কাঠামোতে প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি বিকল্প উৎসের উন্নয়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের কথা বলা হয়েছে।
বড় বাধা বিনিয়োগ ও গ্রিড : বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথম চ্যালেঞ্জ বিনিয়োগ। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে আগামী কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। এর সঙ্গে রয়েছে জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতার প্রশ্ন। সৌর ও বায়ুর মতো নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন সবসময় একই মাত্রায় থাকে না। দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি হলেও রাতে তা কমে যায়। একইভাবে বাতাসের গতির ওপর নির্ভর করে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন ওঠানামা করে। ফলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক গ্রিড, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো এবং ভবিষ্যতে ব্যাটারি বা অন্যান্য শক্তি সংরক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
নীতির ধারাবাহিকতা জরুরি : সরকার এরই মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫ প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ, সরকারি জমির ব্যবহার, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য বিষয়ে নতুন গাইডলাইন ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নীতিমালা তালিকায় ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রের কথাও রয়েছে।
স্রেডা জানিয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, তদারকি, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রুফটপ সোলার ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল নীতি, দ্রুত অনুমোদন, জমি পাওয়া, গ্রিড সংযোগ এবং বিদ্যুৎ কেনার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে।
সামনে বড় পরীক্ষা : দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অবশ্য নতুন নয়। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে সোলার হোম সিস্টেম কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে দেশে প্রায় ৬০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু এখনকার চ্যালেঞ্জ ভিন্ন। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েক লাখ সৌর প্যানেল স্থাপনের পরিবর্তে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বড় অংশকে নবায়নযোগ্য উৎসের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ২০৩০ সালের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের ৩০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনের জ্বালানি ব্যবস্থা হবে বহুমুখী। দেশীয় গ্যাস ও অন্যান্য প্রচলিত উৎসের পাশাপাশি সৌর, বায়ু, বায়োগ্যাস, বায়োমাস ও বর্জ্য থেকে উৎপাদিত জ্বালানির সমন্বয় ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয় ও দক্ষ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। উৎপাদনের উৎসকে বৈচিত্র্যময় করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো, স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগানো এবং পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ— সবকিছুর সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তি।
সরকারের সামনে তাই এখন দ্বিমুখী পরীক্ষা। একদিকে বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে হবে, অন্যদিকে সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হবে। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে আগামী চার বছরেই এই রূপান্তরের গতি কতটা বাড়ানো যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
