প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

সমস্যাগুলো নিয়ে কিছু দল বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের চলমান সংকট পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 'করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' শীর্ষক স্লোগানকে ধারণ করে বিকেল পৌনে ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এই সভা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, 'গত কিছুদিন ধরে আমরা খেয়াল করছি, যেসব সমস্যা আমরা 'ইনহেরিট' করেছি, স্বৈরাচার আমলেই হোক অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়ার সমস্যাই হোক না কেন, সে সব সমস্যা আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। সমস্যা নেই আমরা কখনোই বলছি না। সমস্যা আছে। অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। কিন্তু এসব সমস্যা পুঁজি করে খেয়াল করছি যে, কিছু রাজনৈতিক দল কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন এবং বিভ্রান্তি তৈরির মাধ্যমে দেশে একটি অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।'

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।' তিনি বলেন, 'গত কিছুদিন ধরে খেয়াল করছি, যেসব সমস্যা আমরা ইনহেরিট করেছি, স্বৈরাচার আমলেই হোক অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাই হোক না কেন, সবগুলোই সমাধানের চেষ্টা করছি। সমস্যা নেই, তা কখনোই বলছি না। অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। কিন্তু সমস্যাগুলোকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল এবং কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে দেশে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।'

সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দায়িত দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার। অবশ্যই আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখব। গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতাগুলো আপহোল্ড করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।' একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়; সেটিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে। কাজেই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।'

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, 'এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্রের সঙ্গে বিএনপি, শহিদ জিয়া ও প্রয়াত খালেদা জিয়ার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যখনই দেশ সংকটে পড়েছে, তখনই বিএনপি তার হাল ধরেছে।' প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'বিএনপি লুকিয়ে বা গুপ্তভাবে কিছু করেনি, জনগণের অধিকার আদায়ে বিএনপি সর্বদা রাজপথে ছিল। দেশে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, ততবারই বিএনপি সরকার গঠন করেছে।' দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'স্বৈরাচারের সময় যেমন গুপ্তরা লুকিয়ে ছিল, এখন কি সেই গুপ্তদের মধ্যে স্বৈরাচার লুকিয়ে আছে, কে কাকে গুপ্ত করার দায়িত্ব নিয়েছে— তা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা দরকার।' তিনি প্রশ্ন রাখেন, 'গুপ্তরা তাহলে কি স্বৈরাচারকে সুযোগ দিচ্ছে? ৭১ থেকে শুরু করে নানা সময়ে তারা একজন আরেকজনকে গুপ্ত বা আড়াল করে দিয়েছে।'

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি আবারও বলেন, এ ধরনের সংকট যাতে ভবিষ্যতে আর তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, 'আজকে যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। শিল্পকারখানার মালিকসহ বহু সাধারণ মানুষ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে রয়েছেন, তাদের সকলের কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।'