পাম্পে কমছেই না গাড়ির দীর্ঘ সারি
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকটে সিএনজি পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ভোর থেকে দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। এতে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, কমছে আয়, বাড়ছে গাড়ি পরিচালনার খরচ। আয় কমলেও প্রতিদিন গাড়ির মালিককে নির্ধারিত জমা দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকরা। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পাম্পে কোথাও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, আবার কোথাও কম চাপের কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
গতকাল শনিবার উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, বাড্ডা, রামপুরা, মিরপুর, গাবতলী ও আশপাশের এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এতে যাত্রী পরিবহনেও ব্যাঘাত ঘটছে।
বাড্ডা: মেরুল বাড্ডার জামান ফিলিং স্টেশনে দিনের বেলায় গ্যাস সরবরাহ করতে দেখা যায়নি। তবে হাজীপাড়ায় গ্যাস সরবরাহ থাকলেও সিএনজি ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন ছিল। রাস্তার একাংশজুড়ে প্রাইভেট কার ও সিএনজির দুটি করে সারি থাকায় আশপাশের এলাকায় যানজটও তৈরি হয়েছে।
মিরপুর: গাবতলী, কল্যাণপুর, কালশী, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও অটোরিকশার দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কম চাপের কারণে এসব যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
গাবতলীর মোহনা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ প্রাইভেটকার চালক খলিল বলেন, 'গ্যাস সংকট আরও বেড়েছে। গভীর রাতে সামান্য পাওয়া গেলেও দিনে পাওয়া যাচ্ছে না। দেড় ঘণ্টার মতো লাইনে দাঁড়িয়ে যে গ্যাস পেয়েছি, তা দিয়ে মাত্র দুটি ট্রিপ দিতে পেরেছি। এখন আবার লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই।'
ডেমরা: ডেমরা এলাকাতেও পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। গ্যাসের জন্য চার ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে পরিবহন চালকদের। দীর্ঘ সময় পাম্পে থাকায় যাত্রী পরিবহন করতে না পেরে আয়-রোজগার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। গ্যাস বিক্রি কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন ফিলিং স্টেশন মালিকরাও। রাসেল ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনে রেন্ট-এ-কার চালক মো. বশির হাওলাদার বলেন, 'ঠিকমতো গ্যাস না পাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। দূরপাল্লার যাত্রী নিতে পারছি না। যাত্রী গাড়িতে রেখে এখন আর গ্যাস নেওয়া যায় না। কারণ তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা লাইনে থাকতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পরিবারের সবাইকে না খেয়ে মরতে হবে।'
সবুজবাগ: মুগদা, মানিকনগর, সবুজবাগ, খিলগাঁও, বনশ্রী ও হাজীপাড়া এলাকায় গ্যাসের চাপ ছিল কম। অনেক ফিলিং স্টেশনে 'গ্যাস নেই' সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখতে দেখা গেছে।
শান্ত ফিলিং স্টেশনে লাইনে থাকা চালক কবির হোসেন বলেন, 'সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি, এখন দুপুর ২টা। কিন্তু এখনও সিরিয়াল পাইনি। দিন যত যাচ্ছে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। গ্যাস না পেলেও মালিককে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে কী করব বুঝতে পারছি না।'
উত্তরা: উত্তরায়ও গ্যাস সংকট ছিল তীব্র। গ্যাসের অভাবে অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ ছিল। চালু থাকা স্টেশনগুলোতে চাপ কম থাকায় তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সারি।
খন্দকার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কামাল আহমেদ বলেন, 'পরিবহনের বড় একটি অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে গ্যাসের চাপ কম থাকায় পরিবহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে আমাদের কিছুই করার নেই।'
সিএনজিচালক জসিম বলেন, 'রাত থেকে লাইনে আছি, এখনও গ্যাস পাইনি। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালাব কীভাবে? সামনে বাচ্চাদের স্কুলের বেতন দেব কীভাবে? এত মানসিক চাপ আর নিতে পারছি না।'
