সারের কৃত্রিম সংকটে ক্ষুব্ধ কৃষক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৌসুমের শুরু থেকেই সারের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার বাজারে সরবরাহ থাকলেও খুচরা বাজারে তা মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে চাহিদামতো সার না পেয়ে অনেক কৃষককে দিনের পর দিন বিভিন্ন দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। কোথাও সার পাওয়া গেলেও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফসলের ফলন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, সরবরাহব্যবস্থায় প্রকৃত ঘাটতির চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে কৃত্রিম সংকট। ডিলার ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সার মজুত করে বাজারে সংকট তৈরি করছে এবং সুযোগ বুঝে বাড়তি দামে বিক্রি করছে।
ফলে একদিকে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পেরে ফসলের উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা, অন্যদিকে বাড়তি দামে সার কিনে বেড়ে যাচ্ছে তাদের উৎপাদন খরচ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা।
সরেজমিনে বিভিন্ন সার বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সার সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোনো কোনো দোকানে সার না থাকার কথা বলা হলেও পরে পরিচিত ক্রেতা বা বাড়তি দাম দিতে রাজি ব্যক্তির কাছে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে।
সার আছে, কৃষকের হাতে নেই : সার নিয়ে কৃষকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— সরকারি ব্যবস্থাপনায় সরবরাহ করা সার যদি ডিলারদের কাছে পৌঁছেই থাকে, তাহলে খুচরা বাজারে তা মিলছে না কেন?
কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার পর্যায়ে সার বরাদ্দ ও সরবরাহের হিসাব থাকলেও বাস্তবে তার কতটা কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে স্বচ্ছতা নেই। কেউ কেউ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার সংগ্রহ করে মজুত রাখছেন। পরে বাজারে সরবরাহ কমে গেলে সেই সার বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
এক কৃষক বলেন, জমিতে সার দিতে হবে— এটা তো আর কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়া যায় না। দোকানে গেলে বলে সার নেই। অথচ অন্যভাবে খোঁজ নিলে বেশি দামে সার পাওয়া যায়। কৃষক বাধ্য হয়ে সেই দামেই কিনছে।
আরেক কৃষকের ভাষ্য, সরকারি দাম আমরা জানি। কিন্তু সেই দামে সার পাওয়া যায় না। সার না দিলে ফসল নষ্ট হওয়ার ভয়, আবার বেশি দামে কিনলে খরচ বাড়ে। দুই দিক থেকেই কৃষকের ক্ষতি। কৃষকদের এমন অভিযোগ শুধু একটি বাজারের নয়। বিভিন্ন এলাকার কৃষকরাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন।
মজুত সার বিতরণ না করায় ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ : পর্যাপ্ত সার গুদামে থাকার পরেও কৃষকদের মাঝে বিতরণ না করায় ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজ নামে বিসিআইসি সার ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন সই করা এক প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরেও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করেছে ওই ডিলার। জেলা প্রশাসকের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজারে বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় কেন্দ্রে স্থানীয় কৃষকরা সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে। গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে কাঠের গুড়ি ফেলে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। এ বিষয়ে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। পরে শৈলকুপার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপসহকারী কৃষি অফিসার ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ডিলার প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কেন্দ্র থেকে কৃষকদের মাঝে সার বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেন। এসময় কৃষকরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন। পরে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই ডিলারের গোডাউনে ৩১০ বস্তা ইউরিয়া, ৪১০ বস্তা ডিএপি, ২৮২ বস্তা টিএসপি ও ১৫০ বস্তা এমওপি মজুত ছিল। পর্যাপ্ত সার মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃষকের মাঝে সার বিতরণ না করে কৃষকদের বিক্ষুব্ধ করে তোলে ডিলার। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে মর্মে জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে 'সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রাক্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৬' এর ১৬.১ ধারা মোতাবেক সার ডিলার 'মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজ' এর ডিলারশিপ বাতিলের জন্য সার ডিলার সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি বরাবর সুপারিশ করা হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এর আগে গত ২৫ এপ্রিল ও ৪ আগস্ট মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজ নামের ওই বিসিআইসি সার ডিলারকে অবৈধভাবে সার মুজত করার অপরাধে দুই দফায় জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এদিকে স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করে জানান, শুভ এন্টারপ্রাইজ নামক ডিলারের স্বত্বাধিকারী মো. নায়েব আলী জোয়াদ্দার। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও ঝিনাইদহ-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য। সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন। স্থানীয় কৃষক আজিবার আলী বলেন, 'ডিলার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি। তার ভাতিজা এখন ডিলারশীপ চালাচ্ছে। তারা কাউকে আমলে নেয় না। আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের কাছে সার পাচ্ছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ গেলেই তারা হয়রানি করে।'
শরিফুল ইসলাম নামে আরেক কৃষক বলেন, 'আওয়ামী লীগের লোকজনের হাতে এখনো সারের ডিলারশিপ রয়েছে। তারা সার গুদামে মজুদ রেখে কৃষককে হয়রানি করছে। সাধারণ কৃষকদের তো কোনো কিছু করার নেই।' এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ বলেন, 'সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক কিছু কিছু ডিলার সার মজুত রেখেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। কৃষকদের হয়রানি করছে। আমরা প্রশাসনকে এই চক্রের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সাধারণ মানুষকে যারা জিম্মি করার অপচেষ্টা করছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।' এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, 'এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া ওই ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের ব্যাপারেও যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর আমরা প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। সার মজুত রেখে কৃষককে হয়রানি করা বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।'
রাজশাহীতে সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে উপজেলার বানেশ্বর বাজার এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভে কৃষকরা অভিযোগ করেন, জমি প্রস্তুত ও ফসল রোপণের এই মৌসুমে ডিলারদের কাছে প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে না। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাখা হচ্ছে এবং কালোবাজারে চড়া দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষকরা ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির দাবি জানান। একই সঙ্গে সারের কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তারা দ্রুত সংকট সমাধান ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন। পরে বিএডিসি সার ডিলারের কাছ থেকে প্রতিজন কৃষককে সরকারি দামে নির্ধারিত পরিমাণে টিএসপি, ডিএপি ও পটাশ সার সরবরাহ করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকারের মোবাইলে ফোন করা হলে ব্যস্ততার কথা বলে কেটে দেন। পরে ফোন করলেও আর ধরেননি। পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, প্রত্যেককে সব ধরনের ১৫ কেজি করে সার দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। দ্রুত সরবরাহের জন্য বলা হয়েছে। সার আসলে চাহিদামত দেওয়া হবে।
'নেই' বলেই বাড়তি দামে বিক্রি : সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হচ্ছে— বাজারে সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো বিক্রয়কেন্দ্রে সার পাওয়া যাচ্ছে না কেন? সংশ্লিষ্টদের মতে, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ডিলারদের বরাদ্দ ও মজুতের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন। একজন ডিলার কত পরিমাণ সার পেয়েছেন, কতটা বিক্রি করেছেন এবং বর্তমানে কতটা মজুত রয়েছে— এসব তথ্য মিলিয়ে দেখলেই প্রকৃত পরিস্থিতি অনেকটা পরিষ্কার হবে।
কৃষকদের দাবি, শুধু দোকানে অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। ডিলারের গুদাম, বিক্রির রেজিস্টার, চালান এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহের তথ্যও যাচাই করতে হবে। কারণ দোকানে সার না থাকার দাবি সত্যি, নাকি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরবরাহ আটকে রাখা হয়েছে—তা বের করা সম্ভব নথিপত্র যাচাই করলেই।
বাড়ছে উৎপাদন খরচ : সারের দাম নিয়ে অনিয়মের সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষকের উৎপাদন খরচে। বীজ, শ্রমিক, সেচ, কীটনাশকসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণের ব্যয় আগেই বেড়েছে। এর সঙ্গে নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে সার কিনতে হলে এক মৌসুমে কৃষকের অতিরিক্ত ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যায়। কৃষকরা বলছেন, বাড়তি খরচের বিপরীতে ফসলের দাম বাড়ছে না। ফলে উৎপাদন শেষে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলে একসময় অনেক কৃষক চাষাবাদ থেকে সরে যেতে পারেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে কৃষিজমি, খাদ্য উৎপাদন ও বাজারব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন : সার বিতরণে অনিয়ম ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের তদারকির ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কৃষকের প্রশ্ন, নিয়মিত নজরদারি থাকার পরও যদি তাঁরা নির্ধারিত মূল্যে সার না পান, তাহলে সেই নজরদারি কতটা কার্যকর? কৃষকদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা হলেও স্থায়ীভাবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে না। অভিযানের সময় নিয়ম মেনে সার বিক্রি করা হলেও পরে আবার আগের চিত্র ফিরে আসছে। তাদের দাবি, নিয়মিত বাজার তদারকির পাশাপাশি আকস্মিকভাবে ডিলার ও ব্যবসায়ীদের গুদাম পরিদর্শন করতে হবে। মজুতের সঙ্গে বরাদ্দ ও বিক্রির হিসাব মিলিয়ে দেখতে হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজনে ডিলারশিপ বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য : সারের সংকটের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সার সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো এলাকায় সরবরাহে সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের ভাষ্য, নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রি, অবৈধ মজুত কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কৃষকরা বলছেন, শুধু ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস নয়, তারা মাঠে তার বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চান।
খুচরা বাজারে বাড়তি দামে সার বিক্রির অভিযোগ : কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী অতিরিক্ত সার মজুত করে রেখেছেন কি না? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রকাশ করা গেলে সার সংকটের প্রকৃত চিত্র অনেকটাই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
কৃষকের দাবি একটাই : সার নিয়ে ক্ষোভ এখন শুধু বাড়তি দাম বা বাজারে না পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কৃষকেরা মনে করছেন, তাদের উৎপাদনব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছেন। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত সার দ্রুত বাজারে সরবরাহ করতে হবে। নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ডিলার থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থা কঠোর নজরদারির আওতায় আনতে হবে। কৃষকদের ভাষায়, আমরা মাঠে ফসল ফলাব। কিন্তু সার কিনতেই যদি এত ভোগান্তি হয়, তাহলে কৃষক টিকবে কীভাবে? সংশ্লিষ্টদের মতে, সার সংকট যদি সত্যিই সরবরাহ ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত আমদানি বা অতিরিক্ত সরবরাহের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করতে হবে। আর যদি পর্যাপ্ত সার সরবরাহ থাকার পরও বাজারে সংকট সৃষ্টি করা হয়ে থাকে, তাহলে এর পেছনের কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা জরুরি। কারণ সারের সংকট শুধু কৃষকের সমস্যা নয়। সময়মতো সার না পেলে উৎপাদন কমতে পারে, উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব পড়তে পারে বাজারদর ও খাদ্যনিরাপত্তায়।
