রোহিঙ্গা পুনর্বাসনেও সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ

জাপানের দূতকে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে তার সরকার সব ধরনের সহযোগিতায় আগ্রহী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে অঙ্গীকার করেছেন তিনি। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সোমবার জাপানের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া সাক্ষাৎ করতে এলে তারেক রহমান তাকে এসব কথা বলেন।

সাক্ষাতের তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব সাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, 'বাংলাদেশে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন এবং সেখানে তাদের পুনর্বাসন প্রভৃতি বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘসময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর যে বাড়তি চাপ মোকাবিলা করতে হয়েছে তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুলে ধরেছেন। 'জাপানের বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। এই সংকটের সমাধানে মিয়ানমার সরকার আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রগতিতে সময় লাগছে।' বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

উপ প্রেস সচিব বলেন, "প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। কারণ নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।" জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া গত ৫০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলেশন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

সাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, "রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে স্বীকার করে জাপানের বিশেষ দূত বলেছেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।"

জবাবে তারেক রহমান বলেছেন, 'রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।' বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তথ্য দেন উপ প্রেস সচিব।

এদিকে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বৈঠকে বিনিয়োগ ও টিকা উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাপানের বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।

'বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও বিশেষ দূতকে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তিনি তুলে ধরেছেন।'

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।