স্লিপার বাস

মালিকরা বলছেন অনুমোদন আছে, বিআরটিএ বলছে নেই

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

মহাসড়কে স্লিপার বাস নির্বিঘ্নে চলাচলের অনুমতি চেয়ে মালিকপক্ষের করা আবেদনে সাড়া দেয়নি হাই কোর্ট। তবে বাস মালিকরা অনুমোদন পাওয়া 'স্লিপার বাস' চলাচলে বাধা দেখছেন না। আর বিআরটিএ বলছে, কোনো ধরনের স্লিপার বাসের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। গত বুধবার এ বিষয়ক এক রিট আবদেনের শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট বলেছে, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন এবং ২০২২ সালের সড়ক পরিবহন বিধিমালা মেনে বিআরটিএর অনুমোদন পাওয়া বাসগুলোই শুধু রাস্তায় চলতে পারবে। অনুমোদনহীন বা আইনবহির্ভূত চলা বাসের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কোনো বাধা নেই। এতে করে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অন্য কোনো কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের চলমান বাস ডাম্পিং, জব্দ কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত রাখতে যে নির্দেশনা চেয়েছিল তাতে আদালতের সায় পায়নি। এদিন আদালতের এমন আদেশের পর স্লিপার বাসগুলো রাস্তায় চলবে কী না— এমন প্রশ্ন সামনে আসে। স্লিপার বাস মালিকরা দাবি করছেন, দেশের সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিআরটিএ নিজেই তাদের এসব বাস চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। হাই কোর্ট যেহেতু অনুমোদন পাওয়া বাস চালাতে বাধা না থাকার কথা বলেছে, সেক্ষেত্রে এগুলো রাস্তায় চালানোতে বাধা দেখছেন না তারা। বুধবার রাতেও আগের মত অনুমোদিত স্লিপার বাস চালাচ্ছেন তারা। বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, 'গাড়ি কেন চালাব না। আমরাতো বৈধ। আমরাতো বিআরটিএ থেকে অনুমোদিত। আবার যেগুলো অনুমোদনবিহীন গাড়ি আমরাতো সবসময় সেটার বিপক্ষে। যে গাড়িগুলোর রেজিস্ট্রেশনের টাকা বিআরটিএ জমা নেয়নি, ফিটনেসের টাকা জমা নেয়নি সেগুলোরও বিপক্ষে আমাদের অবস্থান। 'যেগুলোর রুট পারমিট আছে, বিআটিএ ফিটনেস দিয়েছে সেগুলো কেন বন্ধ হবে।' তবে বিআরটিএর আইনজীবী রাফিউল ইসলাম বলেন, 'বাংলাদেশে কোনো স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি নেই। প্রচলিত আইনেও এ ধরনের বাস পরিচালনার অনুমোদনের কথা বলা হয়নি। ফলে কেউ স্লিপার বাস পরিচালনা করলে তা অবৈধ হবে।'

সড়কে চলাচলকারী বেশির ভাগ স্লিপার বাসের সরেজমিন তথ্য বলছে, একতলা বাসের অনুমোদন নিয়ে সেটির ওপর দোতলা বাসের আদলে ওপর-নিচ করে বিছানা বসিয়ে স্লিপার বাস বানানো হয়েছে। আসনের ওপর বিছানা বসানো এসব বাসের নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল।

সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএও বলে আসছে, তারা কোনো স্লিপার বাসের অনুমোদন দিচ্ছে না। একের পর এক দুর্ঘটনার পর চলতি বছর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। সর্বশেষ গত ২৯ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান 'অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার' বাসগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। অপরদিকে স্লিপার বাস মালিকদের দাবি, খোদ বিআরটিএ তাদের বাসগুলোর অনুমোদন দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে হাতেগোনা দুই-তিনটি বাসকে ডাবল ডেকার বা দোতলা বলা যায়। বাকি স্লিপার বাসগুলো উচ্চতায় সাধারণ বাসের মতই। এ খাতে এর মধ্যেই হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে বাস বন্ধ করলে মালিকরা পথে বসবেন। বিআরটিএর আইনজীবী বলছেন, সিঙ্গেল ডেক বাসের অনুমোদন নিয়ে সেটি পরিবর্তন করে 'স্লিপার বাস' হিসেবে পরিচালনা করাও আইন অনুযায়ী অবৈধ। বাসটি একতলা বা দ্বিতল— যাই হোক না কেন, 'স্লিপার' নামে পরিচালনার সুযোগ নেই। 'যারা 'স্লিপার বাস' নামে বাস পরিচালনা করছেন, আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন এরইমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।' এর পাল্টায় স্লিপার বাস মালিক সমিতির সম্পাদক বলছেন, 'এই খাতে আমরা হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করে ফেলেছি। আমরাতো বাংলাদেশের মানুষ। এখানে বিনিয়োগ করেছি। ট্যাক্স দিচ্ছি, ভ্যাট দিচ্ছি। আমরা চাই একটা নীতিমালা হোক। যার আওতায় এই স্লিপার বাসগুলো চলবে।' এ বিষয়ক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৯ অগাস্ট হাই কোর্টে দাখিল করা বিআরটিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা কোনো স্লিপার বাসের অনুমোদন দেয়নি।