ঢাকা দক্ষিণের ২৭ ওয়ার্ড ডেঙ্গুর 'চরম ঝুঁকিতে'

মাঠে ২৫ হাজার কর্মী

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে 'আদাজল খেয়ে' মাঠে নেমেছে রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন। একসঙ্গে দুই সিটি কর্পোরেশনের ২৫ হাজার সদস্য নিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বড় কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে সংস্থা দুটি। এরমধ্যে ঢাকা দণি সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) তাদের ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য 'চরম ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম একসঙ্গে চালাতে ১০টি অঞ্চলে তদারকি কমিটি করেছে সংস্থাটি। অন্যদিকে এমন জরিপ না করলেও ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলে তার বাড়ি ও আশপাশে গিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। ডেঙ্গু রোগী বেশি ভর্তি হন— এমন হাসপাতাল থেকে নিয়মিত রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করছেন উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা। পরে রোগীর এলাকা ভেদে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুই সিটির ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য 'চরম ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত।

অন্যদিকে বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা দণি সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য 'চরম ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই নির্ধারিত সূচকের চেয়ে অতিরিক্ত এডিস মশার ঘনত্ব বেশি পাওয়া গেছে।

জরিপে বলা হয়, ডিএসসিসি ও স্বাস্'্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন কর্মীর মাধ্যমে গত ১২ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় আধুনিক 'কবো টুলবক্স' প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো— ১৫, ১৭, ২০, ২১, ২, ৪, ৫, ৬, ৯, ১১, ১৩, ২৩,২৪ ২৫, ২৬, ২৮, ৫৫, ৫৬, ৫৭,৩২, ৩৬, ৩৮, ৭, ৫২ নম্বর ওয়ার্ড। মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো— ১৯, ১, ৩, ১০, ১২, ১৪, ২২, ২৯, ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৪২, ৪৩, ৩৯, ৪০, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫৩, ৭০, ৭৪, ৭১, ৭২, ৬৬, ৬৭, ৬৫, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১ নম্বর ওয়ার্ড। সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১৬, ১৮, ৮, ২৭, ৩৭, ৪১, ৪৮, ৫৪, ৭৫, ৬৯, ৬৩, ৬৪ নম্বর ওয়ার্ড।

ঢাকা সিটিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ২৫ হাজার সদস্যের বড় কর্মযজ্ঞ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসির ৭ হাজার এবং ডিএনসিসির সাড়ে ৫ হাজার পরিচ্ছন্নতা ও মশক কর্মীর পাশাপাশি বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বাংলাদেশ স্কাউটস, গার্লস গাইড, বিডি কিন, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও দুর্যোগব্যবস্'াপনা স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে প্রায় ২৫ হাজার সদস্যের নিয়ে একটি বড় কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, 'সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চটুকু চেষ্টা করছে। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে দুই সিটি করপোরেশনের বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, পুরো জাতি এ লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ। আশাকরি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন মাসের যে অভিযান কর্মসূচি শুরু হয়েছে তার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডকে এডিসমুক্ত করার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে মানুষের মধ্যে নতুন করে সচেতনতা তৈরি হবে।'

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশন কিংবা সরকার যতোই উদ্দ্যোগ নিক প্রথমে নিজ বাসা থেকে লড়াইটা শুরু করতে হবে বলে মনে করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম। তার মতে, 'জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনভাবেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এ কার্যক্রমে জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে না।'

তিনি আরও বলেন, 'ডেঙ্গু থেকে সন্তানদের সুরা নিশ্চিত করার ল্যইে বিশেষ মশক নিধন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এরমধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযানের উদ্বোধন করেছেন। আশাকরি এর মধ্যে দিয়ে ভাল ফলাফল আসবে।' এসময় সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের সময় রাজধানীর বাসিন্দাদের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতার আহ্বান জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।

যেকোনও মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় রাজধানীসহ দেশব্যাপী বিশেষভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। যার মূল্য ল্য এডিস মশার প্রজননস্থল পুরোপুরি ধ্বংস করা।

তিনি বলেন, শুধু নির্দিষ্ট সময়ের অভিযানে সীমাবদ্ধ না থেকে বছরজুড়ে এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একটি ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক, পরিবার, শিাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

নির্মাণাধীন ভবনসহ যেকোনও স্থানে পানি জমে থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে সতর্ক করে তিনি বলেন, 'অবহেলা পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে। তবে তিনি শাস্তির চেয়ে নাগরিক সচেতনতার ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করেন।