'মানবতাবিরোধী অপরাধ'

কাদের, আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

কাদের-নাছিম-আরাফাতসহ ৫ নেতার অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ * হাসিনাকে চাইছি, কাদেরসহ অন্যদের চাইব না কেন, প্রশ্ন জাহেদের

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত 'মানবতাবিরোধী অপরাধের' অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলায় দণ্ডিত অন্যরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তারা সবাই পলাতক আছেন। তাদের মধ্যে সাদ্দাম ও ইনান ছাড়া বাকিদের অর্ধেক সম্পদ জব্দ করে জুলাই আন্দোলনে আহত এবং নিহতদের পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, "রোম সংবিধিতে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করার বিধান আছে। এবারই প্রথম আমাদের ট্রাইব্যুনাল তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করেছে। "সেই ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের মধ্যে বিলি বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" এর আগে যেসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ হয়েছিল, সেসব বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমার মনে হয় যে আজকের যে জাজমেন্ট হয়েছে, আমার মনে হয় সরকার সেটিকে ফলো করতে পারবেন।"

আপিলের পর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়টি বাস্তবায়ন হবে কি না, এ প্রশ্নে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, "রায়ে দেখেন, এই জায়গাটা আপনারা যেহেতু প্রশ্নটা তুলেছেন, আজকের এই রায় প্রকাশিত হওয়ার পরে ৩০ দিন পর্যন্ত আপিলের সময়সীমা থাকবে।" তিনি বলেন, "৩০ দিন পর্যন্ত কোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত অথবা অন্য কোনো ব্যবস্থায় যাওয়ার হয়তো সুযোগ নাই। কিন্তু ৩০ দিন পর থেকে বাংলাদেশ সরকার এই রায় বাস্তবায়ন করতে আইনগত কোনো বাধা নাই।"

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আমিনুল ইসলাম বলেন, "আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট এবং মনে করি, এটি একটি প্রত্যাশিত রায় হয়েছে। "আজকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, ২৫ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এই শহীদ ও আহতদের প্রতি আজ ন্যায়বিচার করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।"

সাত আসামির সবাইকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার কাজ চলে। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন এম হাসান ইমাম ও আইনজীবী ইসরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামীম। রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সকল সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ডকুমেন্টের ওপর ভিত্তি করে আসামিদের খালাস করানোর জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। "আইন অনুযায়ী যেভাবে এগোনো যায়, সেভাবেই আর্গুমেন্ট ও জেরা করেছি। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল আমার চার আসামির বিভিন্ন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন।"

সাদ্দাম, ইনান, নিখিল ও পরশের আইনজীবী অনি বলেন, "ট্রাইবুনালের রায় মানতে আইনজীবী হিসেবে আমরা বাধ্য। ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো ধৃষ্টতা আমাদের নেই। ট্রাইবুনালের রায় মানি, মান্য করি। কিন্তু আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট নই।"

কাদের, নাছিম ও আরাফাতের আইনজীবী হাসান ইমাম বলেন, "আমরা সর্বোচ্চভাবে চেষ্টা করেছি। জেরা করেছি, আর্গুমেন্ট করেছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রিন্সিপাল অব কমন রেসপনসিবিলিটির সুবিধা-অসুবিধা সবকিছু ট্রাইব্যুনালে ব্যাখ্যা করেছি। রায়ে আমাদের এসব বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি না, রায় না দেখে বলতে পারব না।" আইনজীবী হাসান ইমাম বলেন, "আমি একজন জজ ছিলাম। সেই হিসেবে বলছি, বিচারপতিদের জাজমেন্টের বিরুদ্ধে কথা বলার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই, কিংবা বলার মতো ধৃষ্টতাও নেই। তবে আমিও এই রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি।"

সুযোগ থাকলে আপিল করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, "আপিলে হয়তো আমরা আরও ভালো কোনো ফল পেতে পারি, ইনশাল্লাহ, আগামী দিনগুলোতে।" মিরপুরে শহীদ মেহেরুন্নেসার বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, "হাসিনা ভারতেই থাক, ওইখানেই মরুক। মরার পরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিক অথবা তাকে দাফন করুক, সেটা তাদের ভারতের ব্যাপার। "কিন্তু আমরা তাকে চাই না। যারা তাগড়া আসামি, তাদের দেশে নিয়ে এসে ফাসি দেওয়া হোক।" তিনি বলেন, "যারা দেশে আছে, তাদের বিচার করুক। দুই-একটাকে ফাঁসি দিক না। তারপরে বলব যে, সরকার বিচার করছে। আজ পর্যন্ত প্রদীপের বিচার হলো না। জিয়াউল হাসানের কিছু হলো না। তারা এমন শরীর নিয়ে জেলে এক্সারসাইজ করে। "তো দুই-একটা ফাঁসি হোক না, দেখাক না যে কারও ফাঁসি হয়েছে।"

সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করে মোশাররফ বলেন, "আজকে সরকারের যে অবস্থা, এই সরকার থাকবে কি না তাও জানি না। নতুন কোনো সরকার এলে, আবার শুনি যে আওয়ামী লীগ আসবে, তখন তো এদের সব মামলা শেষ হয়ে যাবে। এরা আবার দেশের মধ্যে অশান্তি শুরু করবে।" প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে শহীদের বাবা মোশাররফ বলেন, "তারেক রহমানকে আবারও বলছি, দুই-একটার ফাঁসি দেন, তারপর বিশ্বাস করব যে আপনি আসলেই বিচার করতে চান।"

অভিযোগ গঠন থেকে রায় : গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে সাত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। সেদিন প্রথম সাক্ষী হিসেবে শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা এম এ রাজ্জাক জবানবন্দি দেন। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সবশেষ ১৭ অগাস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে। পরে সোমবার ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার দিন ঠিক করে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত 'মানবতাবিরোধী অপরাধের' বিচার চলছে।

ইতোমধ্যে দুই ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি মামলার রায় দিয়েছে। এসব রায়ে ৬১ আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১১ জন পলাতক এবং চারজন কারাবন্দি রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবারের রায়টি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সপ্তম রায়।

সবার বিরুদ্ধে অভিন্ন ধারা ও অভিযোগ : সাত আসামির বিরুদ্ধেই ১ জুলাই থেকে ৫ অগাস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা ও সম্পৃক্ততায় মারণাস্ত্র ব্যবহার করে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুরুতর জখম করা হয়।

অপরাধ সংঘটনের নির্দেশ, প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র এবং অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে সাতজনকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২)(ক), (গ), (হ) এবং ৪(১), (২), (৩) ধারায় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ- ওবায়দুল কাদের : আনুষ্ঠানিক অভিযোগ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, "মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন?" অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৫ জুলাই ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে 'আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের জবাব দেবে ছাত্রলীগ' বলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে ব্যবহারের নির্দেশ দেন তিনি।

আন্দোলন দমনে ইন্টারনেট ধীর করা, পুলিশ-র‍্যাবকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর নির্দেশ এবং ১৯ জুলাই 'শুট অ্যাট সাইট' বা দেখা মাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে ফোনালাপেও আন্দোলন দমনের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম : অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৯ ও ১৫ জুলাই দলীয় কার্যালয়ে বসে ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ ও প্ররোচনা দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নিজ জেলা মাদারীপুরে আন্দোলন দমনের বিষয়টি তিনি সার্বক্ষণিক তদারকি করতেন এবং তার নির্দেশে সেখানে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। ৪ অগাস্ট ফার্মগেইটে আন্দোলনকারীদের 'স্বাধীনতাবিরোধী ও সন্ত্রাসী' আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাহাউদ্দিন নাছিমের প্ররোচনায় নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-৮-এ সশস্ত্র হামলায় ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত: অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৩ ও ১৯ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের নিয়ে মহড়া দিয়ে হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঢাকা-১৭ আসনের মহাখালী ও গুলশান এলাকায় হামলা চালিয়ে একাধিক আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়।

এছাড়া আন্দোলন দমনে সরকারের বল প্রয়োগের খবর প্রচার করায় কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৮ ও ২২ জুলাই কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের ঘটনায় তার ভূমিকা ছিল।

কাদের-নাছিম-আরাফাতসহ ৫ নেতার অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ : ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে রায়ে পাঁচ নেতার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে তা আন্দোলনে

হাসিনাকে চাইছি, কাদেরসহ অন্যদের চাইব না কেন, প্রশ্ন জাহেদের : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করতে সরকারের জোরাল উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি এও বলেছেন, ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের হস্তান্তরের ওপর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক 'সহজীকরণ' নির্ভর করছে। গতকাল মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এদিনই জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলায় দণ্ডিত অন্যরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তারা সবাই পলাতক আছেন। এক সাংবাদিক জানতে চান, পলাতকদের ধরে আনার ব্যাপারে সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে কি না? জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমার সাথে ইন্ডিয়ান হাই কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছিল; সেখানে যখন ইস্যুগুলো নিয়ে কথা হয়েছে, সেই ইস্যুগুলোর মধ্যে এগুলো ছিল।

আমি তাকে আমার জায়গা থেকে জানানোর চেষ্টা করেছি, শেখ হাসিনা এবং অন্য যারা আছেন— তাদের ব্যাপারে আমরা আমাদের অবস্থানটা এরকম আছে এবং বাংলাদেশের সাথে একটা ওয়ার্কিং অ্যাঙ্গেজমেন্টের জন্য এই জিনিসগুলোর ব্যাপারে তাদের বিবেচনা করা উচিত।

ভারতে বা অন্য দেশে আশ্রয় নেওয়া আসামিদের ফেরানোর প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকেই চাইছি, আমরা ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদেরকে চাইব না কেন? আমি এজন্য ভারত সরকারের কাছেও আমি আহ্বান জানাতে চাই যে, বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক সহজীকরণের জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

শেখ হাসিনা ও সাবেক সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরতে গিয়ে উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, প্রসেস বলতে শুধু জুলাই বোঝাই না, আমরা যেন এই ভুলটা না করি। আমরা অনেকে মনে করি, শেখ হাসিনা শুধু জুলাইতেই এসে খারাপ হয়েছেন। শেখ হাসিনার বর্বরতা বহু আগে থেকে চলছে, ওভার দ্য ইয়ার্স চলেছে। পলাতকদের ফিরিয়ে দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভারত সরকার আমাদের এই সেনসিটিভিটিটা বুঝবেন এবং তাদেরকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করবেন।